প্ল্যানচ্যাট বা মৃতমানুষের আত্মাকে আহ্বানের প্রক্রিয়া – How to summon a spirit

0

এই পৃথিবীতে মানুষের কৌতূহলের কোন কমতি নেই। ঠিক তেমনি মানুষের কৌতূহলের একটি বিষয় হল মৃতমানুষের আত্মাকে আহ্বানের প্রক্রিয়া। আবার বলছি, কথাগুলো বিশ্বাস করবেন কি করবেন না সেটা আপনাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার তবে কথাগুলো নেহাত ভুয়া কথা নয়, এর সাথে বাস্তবেরও যথেষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।

সত্যিকথা বলতে কি, আসলে প্ল্যানচ্যাট বলতে কোনো শব্দ নেই। এটা ইন্ডিয়া থেকে কোনো ভাবে আমাদের দেশে আমদানী হয়েছে যেটা আমিও আগে খুব শুনতাম। তবে প্ল্যনচ্যাটের বদলে রিয়েল ডেমনিক বা স্যাটানিজমে কি শব্দ ব্যবহার করা হয় চলুন জেনে নেয়া যাকঃ

ছান্নেলিং(চ্যানেলিং) – এটা ভেরী ক্লোজলি আপনার প্ল্যানচ্যাটের সাথে ইন্টারচেঞ্জেবল। যার মানে আত্মার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা (Clairaudience – আত্মার কথা শুনতে পারা, Clairgustance – আত্মার স্বাদ নিতে পারা, Clairsentience – আত্মাকে ফিল করতে পারা, Clairovoience – আত্নাকে দেখতে পারা);  এগুলো প্রত্যেকটাই এক একটা শক্তি (সুপারন্যাচারাল পাওয়ার) বলতে পারেন।

এবার আপনি যদি আসলেই আত্মা ডাকতে চান বা কথা বলতে বা আত্নার সান্নিধ্য লাভ করতে চান তাহলে সায়েন্টিফিক উপায়ে বা সায়েন্সের সাহায্য নিয়ে আপনি যেটা ট্রাই করতে পারেন, সেটা হলো EVP। এটা হলো হোয়াইট নয়েস ধরার জন্য অর্থাৎ আত্মা ব্যকগ্রাউন্ডে কোনো র‍্যান্ডম নয়েজ করলে এটা সেই নয়েজ ডিটেক্ট করবে, এমনকি সেটাকে স্পিচেও পরিণত করতে পারে। আবার, EMF বা  ইলেক্ট্রো-ম্যগনেটিক ফিল্ড ডিটেক্টর, যেটা আত্নার অবস্থান নির্ণয়ে সাহায্য করবে। এছাড়াও মোশন ধরার জন্য আছে হাইটেক মোশন ডিটেক্টর। ইনভায়রনমেন্টাল চেইনজ ধরার জন্য আরো অনেক যন্ত্রপাতির মধ্যে আছে রেড সেলোফান, থার্মাল ইমেজিং স্কোপস, স্মল উইন্ডকাইমস, ইনফ্রারেড থার্মাল ডিটেক্টর।

এবার চলুন বহু পেছনে চলে যাই আত্মা ডাকাডাকির আরেকটি প্রচলিত পদ্ধতি ওউইজা (উইজা) বোর্ড সম্পর্কে জানার জন্য। এই টকিং বোর্ডের আবির্ভাব ঘটেছিলো রোমান / গ্রীক শাসন আমলে, তবে এতটুকু শিওর যে এটা যীশুর জন্মেরও অনেক আগে। ইভেনচুয়ালী, যীশু আসার পর এই বোর্ড ক্রিশ্চিয়ানিটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে মানুষ জনকে পুনরায় জীবিত করার ক্ষমতা যীশুর ছিলো সেখানে এই টকিং বোর্ডের ক্ষমতা ব্যবহার করে অনেকেই যীশুর উপর নেতাগিরি করতে চেয়েছিলো। যাই হোক এই কনফ্লিক্ট থেকে আস্তে আস্তে যখন ব্ল্যাক এবং আধুনিক ডেমনিক সমাজে এর প্রচলন বেড়ে যায়,  তখন এটিকে অনেক দেশেই সাময়িকভাবে ব্যান করা হয়। এখনও এটাকে রিলিজিয়াস কাল্ট হিসেবেই ধরা হয়।

এর কার্যকরীতা ডিপেন্ড করে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী।  বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নিয়মে এই বোর্ডের ব্যবহার প্রচলিত আছে। তবে বেসিকলি বলতে গেলে দুইটা সার্কেল থাকে এই বোর্ডে, প্রথম সার্কেলে ‘A’ থেকে ‘Z’ পর্যন্ত লেটার থাকে এবং দ্বিতীয় সার্কেলে ১ থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা থাকে। প্রথম সার্কেলের সব লেটার আত্নার ‘হ্যাঁ’ রিপ্লায়ের সাথে সম্পৃক্ত যেখানে দ্বিতীয় সার্কেলের সব নাম্বার ‘না’ রিপ্লায়ের সাথে সম্পৃক্ত। কথাবার্তা শেষে যদি আত্নাকে আপনার সামনে ভিসিবল করতে পারেন সেটা হবে Materialisation এবং আত্মা চলে গেলে সেটা হবে Dematerialize। এছাড়াও আত্মাকে আরেকজনের উপর ভর করেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। তবে সেটা বড়ই রিস্কি। কোনো ভাবে খারাপ আত্না হলে ডেমনিক পসেশনের স্বীকার হতে হবে, তখন আবার এক্সরসিজম নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। সুতরাং বুঝে শুনে!

Choose your Reaction!
Leave a Comment

Your email address will not be published.