in

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব-২

মুসলিমদের

আজ শোনাবো মুসলিমদের এমন আরো ৪ টি আবিস্কার/উদ্ভাবন যা আজকের পৃথিবীর জন্য বয়ে এনেছে কল্যান আর জিবনকে করেছে সহজ, সৃষ্টি হয়েছে আধুনিক পৃথিবী। মূলত গত পোষ্টে ৬ টি টপিকে লিখতে গিয়ে অনুভব করলাম লেখার মান কিছুটা দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। তো চলুন….

১- রসায়ন/ ক্যামেস্ট্রি

বলা হয়া থাকে প্রতিটা মানুষ সকাল থেকে ঘুমানো পর্যন্ত যা কিছু আমাদের চোখে পড়ে তার মধ্যেই ক্যামেস্ট্রির অবদান, মেডিসিন, ব্যাটারি, কম্পিউটারে চিপ হতে শুরু করে সব। বলা হয় ক্যামেস্ট্রি ইজ এভরিহয়ার। এবং এই ক্যামেস্ট্রির পিতা বলা হয় ইরানের বিজ্ঞানী “জাবির ইবনে হাইয়ান” কে।
তিনি শুধু রসায়নবিদই ছিলেন নাহ, তিনি ছিলেন পিজিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট, দার্শনিক। তিনি একাই লিখেছিলেন ৩ হাজার বই! যা কিনা পৃথিবীর আর কোন বিজ্ঞানীর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়না। এবং তার আবিস্কার ক্যামেস্ট্রিকে নিয়ে গিছে এক ভিন্ন মাত্রায়। তিনি রসায়নের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছিলেন যার অনেকগুলো এখনও ব্যবহৃত হয়। যেমন: হাইড্রোক্লোরিক ও নাইট্রিক এসিড সংশ্লেষণ, পাতন এবং কেলাসীকরণ। তিনি শুধু রসায়নবীদ ছিলেন নাহ, পদার্থ বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞানেও তার ভুমিকা আছে। এবং তাকে রসায়নের জনকও বলা হয়ে থাকে। প্রকৃতি ভারসম্য তত্ত নিয়ে তার লেখা দ্য বুক অফ ব্যালেন্স অন্যতম। এছারাও তিনি রাসায়নিক সংখ্যায়ন পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন। নাইট্রিক এসিড, সালফারিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিন এডিসও তার আবিস্কার করা।

২- সার্জারি/ সার্জারীর ইকুয়েপম্যান

হ্যা আরো হাজার বছর পূর্বে, বিশ্বের প্রথম সার্জন বলা হয় “আবুল কাশেম খালিফ ইবনে আল আবাদ আল জাওয়ারী” কে। তিনিই প্রথম শল্য চিৎকিসার মাধ্যমে সিজারিয়ান করেছিলেন। এবং ১৫০০ পৃষ্টার একটি এনসাইক্লোপিডিয়া রচনা করেন সার্জারির উপর, যা পরবর্তী ৫০০ বছর উইরোপে ছিলো মূল সার্জারী বিদ্যার ওহি। তিনিই শল্য চিৎকিসা দাড়া ক্ষত শেলাই আবিস্কার করেছিলেন। তিনি চিৎকিসা বিজ্ঞান নিয়ে কিতাবুল তাফসির নামের বই লেখেন ৩০ টি খন্ডে, যা কিনা কিছু ক্ষেত্রে এই একবিংশ শতাব্দিতেও ব্যবহার করা হয়। আবুল কাসেম কর্ডোভার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন শাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় তিনি নিজেই সার্জারী ইনস্ট্রিমেন্ট আবিস্কার করেন, তিনি নাকের ছিদ্রে ঔষধ দেয়ার, দাঁত তোলার, দাঁতের গোড়া সাফ বা স্ক্রেপিং করার, দাঁতের গোড়ার গোশ্ত কাটার, চোখের ছানি অপারেশন করার, অন্ধ চোখ চিকিৎসা করার, চোখের পলকের গোশত কাটার, শরীরের যেকোন অংশের বর্ধিত গোশ্ত বেঁচে ফেলার, তীর বের করার, মূত্রনালীর পাথর বের করার, ভাঙা হাড় বের করার, জরায়ূর মুখ প্রশস্ত করার, জরায়ূ থেকে গোশত বের করার, মৃত ভ্রুণকে বের করার দু’রকম যন্ত্র, মৃত ভ্রুণের অংগচ্ছেদ করার যন্ত্র এবং সাধারণ অন্ত্রচিকিৎসার কয়েকরকম যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করেন। তিনি স্পেনে জন্মগ্রহন করেন। কিন্তু আমরা মুসলিমরা কি তার কথা জানি বা মনে রেখেছি! চিৎিকিসা বিজ্ঞানে বিস্ময়কর আবিস্কার সার্জারি। যা প্রতি মুহুর্তে জীবন রক্ষা করে এ ধরনীর। তাকে আধুনিক শল্য চিৎকিসার জনক হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।

৩- বিশ্বমানচিত্র/ ওয়ার্ল্ড ম্যাপ।

আধুনিক যুগে আমরা গুগলে ম্যাচে পুরো পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে যে বিস্ময় এনেছি, আমরা কি জানি তার শুরুটাই মুসলিমদের দ্বারাই করা হয়েছিল। বিশ্বের প্রথম আংশিক মানচিত্র আকার পর, তাতে ছিলো নানান সমস্যা ও অংসগতি। এবং তা দিয়ে ব্যবসায়ের কাজে রাষ্ট্র চিহ্নিত করা যেতো নাহ। ১১৫৪ সালের দিকে প্রথম পূর্নাঙ্গ ও তখনকার সবচেয়ে নির্ভুল মানচিত্র অংকন করে, মুহাম্মদ আল উদ্রিসি। তিনি ছিলেন আরব ভুগোলবীদ ও বিজ্ঞানী।
তার হাত ধরেই আধুনিক ম্যাপ। ভাবতে পারেন মানচিত্র হীন পৃথিবী!

৪- ফ্লাইং মেশিন/ উড্ডয়ন

আকাশে উড়ে বেড়াতে কে না চায়, বিজ্ঞানের শত শত আবিস্কারের মধ্যে অন্যতম একটি হলো আধুনিক বিমান বা এভিয়েশন ব্যবস্থা।
যা প্রথম করে দেখান, আন্দালুসের বহুশাস্থ্রবিশারদ ” আব্বাস ইবনে ফিরনাস” তিনিই প্রথম যিনি কিনা উড়তে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও তিনি জলঘড়ির নকশা করেছিলেন।

৫- জিওডেসি/ পৃথিবী, চন্দ্র, ইত্যাদি সংক্রান্ত গনিত।
ও ফলিত বিজ্ঞান। (বোনাস ওয়ান)

মুসলিমদের

সৌর জগতের এ বিষয়গুলোর যে আকার আকৃতি ও ব্যাসার্ধ তাও আবিস্কার করেন মুসলিম বিজ্ঞানী।
“আবু বায়হান আল বিরুনি” নামের উজবেকিস্তানের বিজ্ঞানী, তিনি পৃথিবীর ব্যাসের ডায়াগ্রাম ও চাঁদের দশা নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে পৃথিবীর পুরো বিজ্ঞানের ফাদার এন্ড মাদার বলা হয় যাদের কে তাদের মধ্যে একজন হয়ে যান। ( একটা ব্যক্তিগত কথা বলি আমি বিজ্ঞানের ছাত্র না হবার কারনে তার কিছু কাজ মূলত কি তা নিয়ে লিখতে পারছি নাহ, প্রায় সবাই ক্ষেত্রেই হচ্ছে এ সমস্যাটা তবে চেষ্টা করবো সবোর্চ্চ।) তাকে মর্ডান জিওসিডির পিতা বলা হয়।

তবে একটা দুঃখ জনক সত্য হলো, আমাদের মুসলিমরা বর্তমানে মুসলিমদের এ অবদান গুলো মনে রাখিনী। বৈশ্বিক ও রাজনৈতিক কারনে নিজেদের গর্বের জায়গাগুলো নষ্ট করেছি। বর্তমানেও যে মুসলিম রা একদম পিছিয়ে তাও নাহ। তবে সমান তালে আগানো হয়নি, তবে সম্পদের পাহার হয়েছে মুসলিম বেশিরভাগ দেশই যা কিনা ভোগ বিলাশেই নষ্ট হচ্ছে। গবেষনা, উদ্ভবন এগুলোতে বিনিয়োগ কম যাচ্ছে। আশা করি এ আধার কাটবে আগামীতে।

চলবে ইনশাআল্লাহ….
#HomeQuarantine

What do you think?

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব-১

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব-৩