in

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব-৩

মুসলিমদের

আশা করি গত দুটি পর্ব আপনাদের ভালো লেগেছে, এবং মুসলিমদের পৃথিবী বদলে দেবার মতো আবিস্কার গুলো জেনেছেন, তো বরাবরের মতো
আজ শোনাবো মুসলিমদের এমন আরো ৩ টি আবিস্কার/উদ্ভাবন যা বর্তমান পৃথিবীতেও সব দেশ সে ভাবে শুরু করেনি। তো চলুন শুর করি….

১- মানমন্দির/ অবজারভেটরি

মূলত মানমন্দির বা অবজারভেটরি হলো মহাশূন্য গবেষনা কেন্দ্র ও আবহাওয়া নিয়ে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। আর বিশ্বের প্রথম মানমন্দিরও মুসলিমের দ্বারা স্থাপিত হয়। আব্বাসীয় খলিফা আল মামুনের (রাজত্বকাল : ৮১৩-৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ) আমলে বাগদাদে প্রথম মানমন্দির নির্মিত হয়।
খুব সম্ভবত নাম “বাইতুল হিকমা” কেউ কেউ মনে করেন প্রাচীন মিশরীয় মুসলিমরা প্রথস মানমন্দির স্থাপন করে, তবে বাগদাদের বাইতুল হিকমাই ই প্রথম বলে যথেষ্ট প্রমান পাওয়া যায়।
কয়েক দিন আগের কথা, বাংলাদেশ গভমেন্ট ঘোষনা দিলো বঙ্গবন্ধুর নামে একটি মান মন্দির করা হবে, তো যথারীতি তা সামাজিক মাধ্যমে আসলো জাতীয় প্রত্রিকার সামাজিক মাধ্যমে আসলো। বরাবরের মতোই সেখানে শুধু গালাগাল আর হিন্দুরের মন্দির ভাবা শুরো করলো আমার বাঙ্গালী মুসলিমরা, কারন শব্দটি হিন্দুদের মন্দির শব্দের সাথে মিলে যায়!

২- এ্যলগরিদম/এ্যালজেবরা ও কিউবিক ইকুয়েশন।

আল খোয়ারিজমিকে আধুনিক বীজগণিতের জনক বলা হয়। তিনি সর্ব প্রথম গুন ও ভাগ করার জন্য সহজ প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন যেটাকে আমরা অ্যালগরিদম বলি। মুলত এটা খুব সহজ করে বোঝানোর জন্য, মুলত এ্যলগরিদমের আছে ব্যাক ব্যবহার। আধুনিক দুনিয়াতে যে সুপার সনিক যুদ্ধ বিমান, আর যানবাহন চড়ে মুহুর্তের মধ্যে একস্থান হতে এক স্থানে চলে যান সেটা মূলত এই এ্যলগরিদমের জন্যই সহজ হয়েছে, মূলত এ পর্ব গুলো লিখতে গিয়ে একটা জিনিস অনুভব করলাম যে আসলে সব কিছু লিখে শতভাগ প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ধরুন কোন পাইলট কে যদি একটা নির্দেশ দেয়া হয়, আর সেখানে যদি এই এ্যলগরিদমের ব্যবহার না করা হয় তাহলে তার সেই নির্দেশ টা বুঝতে এতোটাই কষ্টসাধ্য হবে যে সে নিয়ন্ত্রণও হারাতে পারে শুধু কি তাই, আধুনিক বিজ্ঞানের সকল শাখাতেই এর ব্যবহার আছে। যো কোন যন্ত্র বা মেশিনের তৈরী হতে শুরু করে তা কার্যকরী ভাবে কাজ করাতে বিজ্ঞানীদের করতে হয় হাজার হাজার, এমনকি কোটি কোটি ইকুয়েশন।

—–ওমর খৈয়াম—-
এবং ইঞ্জিনের শক্তি কত থেকে কত হলে কত গতিতে চলবে, বা কোন যন্ত্রের সঠিক নিয়ন্ত্রনের জন্য এবং এ জাতীয় কাজের জন্য যা দরকার হয়, তা হলো কিউবিক ইকুয়েশন! আর এই যুগান্তকারী আবিস্কার করেন ইরানের গনিতবীদ “ওমর খৈয়াম”
এবং ওমর খৈয়াম গনিতের যে উপপাদ্য রচনা করেছেন তা এখনও পড়ানো হয়। তিনি স্বাধীনভাবে গণিতের দ্বিপদ্বী উপপাদ্য আবিষ্কার করেন। বীজগণিতে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান তিনিই প্রথম করেন। বহুমুখী প্রতিভার দৃষ্টান্ত দিতে বলা হলে বিশ্বসাহিত্য কিংবা ইতিহাসে যাদের নাম উপেক্ষা করা কঠিন ওমর খৈয়াম তাদের মধ্যে অন্যতম ও শীর্ষস্থানীয়।

বীজ গনিত, এ্যলজেবরা, বা ইকুয়েশন ছাড়া আধুনিক বিশ্ব কেন, শিক্ষা বা গবেষনা ও কল্পনা করা যায়।

মুসলিমদের

৩- অপটিক্স/ আলোক বিজ্ঞান

যারা চোখে কোন সমস্যার কারনে চোখে চশমা ব্যবহার করেন বা চোখের কোন কোন জটিলতার কারনে ঔষুধ খেয়ে সুস্থ্য হয়েছেন তাদের তো এ বিজ্ঞানীতে মনে রাখাই উচিত। হ্যা এই গুরুত্বপূর্ণ অপটিক্সের আবিস্কারও মুসলিমদের হাত ধরেই, গ্রিক বিজ্ঞানীরা ও এরিষ্টোটল মনে করতেন, মানুষের চোখ থেকে আলো বের হয়ে তা বস্তুর উপর পরে এবং তার কারনেই মানুষ দেখতে পায়। এবং তা দ্বিতীয় শতকেও গ্রিক বিজ্ঞানী উইক্লিড-টলেমীও তাতের তত্বকে নানা রকম যুক্তিতে সঠিক বলে দাবি করেন।

কিন্তু তা ভুল প্রমান করেন ইরানের বিজ্ঞানী “আল হাজেন” যার পুরো নাম আল হাসান ইবন হাইসাম। তিনি নতুন তত্বে বললেন, মানুষের চোখ থেকে নয়, বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে এসে যখন আমাদের চোখের রেটিনার ওপর পড়ে তখনই আমরা বস্তুটাকে দেখি। এবং তিনি আলোক বিজ্ঞানের উপর একটি বই লেখেন দ্যা অপটিক্স নামে, এবং তিনি আবিস্কার করেন আলোর গতি আছে, আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে গেলে এর গতি কমে যায়। আগে মানুষ মনে করত আলোর গতি অসীম। এবং আল হাজেনই আলোক বিজ্ঞানের জনক, এবং তাকে বলা হয় ফাদার অফ অপটিক্স।
এবং বিজ্ঞানী আল হাজেনের লেখা বই দ্যা অপটিক্স থেকে অনুপ্রানীত হয় পৃথিবীর প্রায় সকল বড় বিজ্ঞানীরা আলোক বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেন এবং আল হাজেনের তত্ব সঠিক প্রমান হয়, সে তালিকায় আছেন আইজ্যাক নিউটন হতে আইনস্টাইন পর্যন্ত।
মজার ব্যাপার হলো বিজ্ঞানী গ্যালিলিউ, বিজ্ঞানী আল হাজেনের একটি তত্ব মানতে চাননি যা হলো আলো কোথাও পৌছাতে সময় নেয়, কিস্তু গ্যালিলিউ তা পরিক্ষা করে ভুল প্রমান করতে চান, যা নিয়ে একটি ঘটনা আছে যা কমেন্টে দিবো। লেখা ছোট করার সুবিধার্থে। তার চেয়েও মজার কথা হলো, বিজ্ঞানী আল হাজেনের এ আলোক বিজ্ঞানী হয়ে উঠার পিছনে একটি গল্প আছে, তিনি ইরাকে জন্ম গ্রহন করলেও বসবাস করতেন মিশরে। তখন নীল নদের দেশ মিশরে প্রচুর বন্যা হতো, তখন মিশরের শাসকেরা তাকে অর্থ দেন বাধ নির্মানের জন্য, কিন্তু তিনি তা না করে বাধ নির্মানের টাকা দিয়ে আলোক বিজ্ঞানের উপর গবেষনা করেন।

ইসলামের স্বর্নযুগ সিরিজটি লিখতে গিয়ে নতুন করে অনেক পড়াশুনা করে এটা বুঝতে পারলাম যে, আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে টপিক আকারে লিখছি বা যে সকল মুসলিম বিজ্ঞানীদের কথা উল্লেখ করছি তাদের সকল অবদানের ১% ভাগও আমার লেখাতে নেই, তবুও চেষ্টা করছি যতটুকু সম্ভব তুলে ধরার।
মুসলিমদের এতো সুন্দর গৌরমময় সময় ছিলো তা ভাবতেও ভালো লাগছে….

ছবিতে- বিজ্ঞানী “আল হাজেন” ও “ওমর খৈয়াম”

ইনশাআল্লাহ চলবে…..
#HomeQuarantine

What do you think?

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব-২

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব- ৪