in

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব-১

মুসলিমদের

বর্তমান মুসলিম দের তুলনা মূলক পিছিয়ে পড়া আর দক্ষিন এশিয়ার মুসলিমদের দৈন দশার জন্য আমার নিচের এ লেখা। প্রথম পোষ্ট টি পড়ে আসতে পারেন।

আজ শোনাবো মুসলিমদের এমন ৫ টি আবিস্কার/উদ্ভাবন যা ছাড়া আধুনিক বিশ্ব এক মুহুর্ত কল্পনাও করা যায় না। যার উপর ভিত্তি করেই দাড়িয়ে আছে আজকের আধুনিক পৃথিবী। চলুন তবে শুরু করা যাক। আর এভাবেই প্রতিদিন ৫ টি করে লিখে যেতে চেষ্টা করবো।

১- বিশ্ববিদ্যালয়/ইউনিভার্সিটি

হ্যা ঠিকই শুনছেন, প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিস্কার/উদ্ভাবন হয় মুসলিমদের দ্বারা, গিনেজ বুকের রেকর্ড অনুসারে, মরক্কোর ফেজ নগরীর কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয়ই হচ্ছে পৃথিবীর সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। তাও আবার বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্টা করে একজন নারী যার নাম “ফাতেমা আল-ফিহরী” অথচ আজ মুসলিমদের অনেকেই নারীদের পড়াশুনাতে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখান। চিত্না করুন তো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলে পৃথিবী আজ কতোটা পিছিয়ে থাকতো।

২- হসপিটাল/ হাসপাতাল

কি চমকে উঠলেন! না চমকানোর কারন নেই, নিশ্চয়ই এই করোনা মহামারীতে আপনি কল্পনাই করতে পারছেন না বিশ্বকে হসপিটাল ছাড়া। হ্যা এই হসপিটালের আবিস্কারও মুসলিমদের দ্বারাই। নবম শতকে মিসরে প্রথম এই হাসপাতাল ব্যবস্থার সূচনা হয়। আহমদ ইবনে তুলুন নামক এক মুসলিম ৮৭২ সালে মিসরের রাজধানী কায়রোতে সর্বপ্রথম হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

৩- আধুনিক চিৎকিসা বিজ্ঞান।

মূলত এটি মোটামুটি সকলেরই জানা, আধুনিক চিৎকিসা বিজ্ঞানের জনক বলা হয় ইবনে সিনাকে।
তার পুরো নাম “আবু আলী হোসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ আল হাসান ইবনে আলী ইবনে সিনা”
জন্মগ্রহন করেন বর্তমান উজবেকিস্তানে। মূলত ১৮ শতক পর্যন্ত তার লিখা/রচিত চিকিৎসা বিষয়ক বিশ্বকোষ “কানুন ফিততিব” ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্তও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠানসমূহে পাঠ ছিল।
এছারাও তার শুধু মাত্র চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদান ছিলো তা নয়, তিনি পদার্থবিজ্ঞান, গনিত, অধিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও একজন দার্শনিক ছিলেন। সব সেক্টরেই তার অবদান ছিলো।

৪- বীজগনিত/আলজেবরা

এটাও প্রায় সকলের জানা, বীজগনিতে জনক বলা হয় “মুহাম্মদ ইবনে আল মুসা খোযারেজমি” কে।
মুসলিম বিজ্ঞানীদের/আবিস্কারদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিলেন তিনি। তিনি এছাড়াও ভুগোল, পাটিগণিত, ত্রিকনোমিতি, ইগুদি বর্ষপঞ্জিতে অবদান রাখেন।

৫- ঘড়ি/ক্লক

বিজ্ঞানের এক অসাধারণ এক আবিস্কার ঘড়ি, ঘড়িও প্রাচীন মিশরীয় মুসলিমদের হাত ধরেই আবিস্কার হয়। সূর্যঘড়ি, জলঘড়ি, বালিঘড়ি, মোমঘড়ি এবং পরবর্তিতে একজন ডাচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ঘড়িকে মিনিট সেকেন্ড কাটায় রুপান্তর করেন। জাষ্ট চিত্না করুন ঘড়ি বা সময় বিহীন পৃথিবী কতটা বিশৃঙ্খলায় ভরপুর হতো। প্রিতিদিন মিনিটে মিনিটে পোডাক্টটিভিটি বাড়ানোর এই উদ্ভাবনও মুসলিমদের হাত ধরেই।

৬- ক্যামেরা (বোনাস)

মুসলিমদের

১০২১ সালে ইরাকের বিজ্ঞানী “ইবনে আল হাইতাম” আলোক বিজ্ঞানের উপর একটি বই লেখেন নাম” কিতাব আল মানাজির” তার এই বইতেই ক্যামেরা আবিস্কারের ধারনা উল্লেখ করা হয় সেখান থেকেই ক্যামেরা আবিস্কারের সূত্রপাত ঘটে। এবং তার কিতাব আল মানাজির বইটিই আলোক বিজ্ঞানের ভিত্তি হয়ে দাড়ায় এবং সেখান থেকেই পরবর্তীতে আস্তে ডিজিটাল ক্যামেরায় রুপান্তর হয়। বর্তমানে যেকোন দেশের যে চতুর্থ বর্গ মানে মিডিয়া! সেটার এবং বিনোদন সহ সকল কিছুর মেরুদন্ড বলা যায় এবং ডিভাইসটিকে।

চিত্না করুন, মধ্যযুগেই মুসলিমদের আবিস্কার আর উদ্ভাবন গুলো ছিলো পৃথিবীকে বদলে দেবার, আর আমরা এখন কিনা বিস্বাস করছি থানকুনি পাতায়, কল্লা কাটা গুজবে, আর শিশু জন্মে রং চা খেতে বলে মরে গেসে! মুসলিমদের আবারো নিজের ঐতিহ্য আর স্বর্নযুগ ফিরিয়ে আনতে উচিত সকলের মন মানসিকতার পরিবর্তন আনা।

নোট- প্রতিটা বিষয়ই অতি থেকে অতি সংক্ষিপ্ত–

ইনশাআল্লাহ চলবে…….
#HomeQuirentine

What do you think?

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব-২