Horror

গল্প—ভুতুরে বউ পার্ট -1

–“” সাদা শাড়ি পরা মেয়ে টা প্রতিদিন এর মতো আজও আমায় ডাকছে, আমার দিকে ভয়ানক ভাবে তাকিয়ে আছে। 
.
–“” মেয়েটার চোখের কোটরে কোনো মণি নেই, মুখের মাংশ খুলে পড়ছে নিচে।
ধিরে ধিরে এগিয়ে আসছে আমার দিকে,
.নায়ায়ায়ায়ায়া…
 প্রতিদিনের মতো আজও সেই ভয়ানক সপ্ন টা দেখে ঘুম টা ভেঙে গেলো। মা-বাবা পাশের ঘর থেকে দৌরে আসল, আমি খুব জোরালো ভাবে স্বাশ
নিচ্ছি, শরীর ঘেমে পুরোটা ভিজে গেছে। 
মা এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো ।
বাবা পানির গ্লাস টা হাতে দিয়ে বললো,
পানি টা খেয়ে নিতে, আমি ঢকঢক করে
সব টুকু পানি খেয়ে নিলাম। মাথায়
হাত বুলাতে বুলাতে বললো, আজও কি সেই স্বাপ্নটা আবার দেখেছিস?(মা)
হুম(আমি)
ভয় পাশ না বাবা তুই ঘুমা
আমরা পাশের রুমেই আছি।(মা)
আমি আবার শুয়ে পড়লাম, মা বাবা চলে
গেলো। অহ দেখেছেন এতো কথা হয়ে
গেলো আমি এখনো আমার পরিচয় টাই
দেইনাই, এইজন্যই মা আমাকে মাথা মোটা
বলে।😁 থাক অইসব কথা,আমি নিহাদ, বাবা মায়ের বড় ছেলে, ছোট একটা ভাই আর দুস্টমিস্টি একটা বোন আছে, আমি এইবার অনার্স প্রথম বর্শের ছাত্র।
এখন গল্পে আসি।
সকাল ৯.১৫ বাজে, আমি ঘুমে
বিভোর হয়ে আছি। এমন সময় মনে হচ্ছে 
বৃস্টি পড়ছে, কিন্তু আমি তো আমার
রুমেই আছি, তাহলে পানি আসলো কিভাবে? 😲
নিশ্চোই পাজি টার কাজ। চোখ খুলে ধড়পড় করে ঘুম থেকে উঠলাম। উঠেই দেখি দুস্টুটা বালতি হাতে নিয়ে
দারিয়ে খিল খিল করে হাসছে। আমি রাগি
চেখে তাকাতেই দৌড়ে পালিয়ে গেলো,
আমিও ওকে ধরবার জন্য পিছু পিছু
ছুটলাম, কিন্তু হারামি টা দৌড়ে গিয়ে মায়ের
পিছনে লুকিয়ে পরলো। আমি মায়ের কাছে গিয়ে বললাম,মা তুমি ওকে কিছু
বলবে নাকি আমি ধরে পিটাবো 😡 
.
–“” কি তুই আমার পরিকে পিটাবি তোর এতো বড় সাহস 😡(চোখ বড় বড় করে)(মা)
.
–“” আমি আবার মাকে খুব ভায় পাই তাই
তোতলাতে তোতলাতে বললাম, তোমার
মেয়ে সকাল সকাল আমার গায়ে পানি
ঢেলে গোসল করিয়ে দিয়েছে।😫(আমি)
.
–“” বেশ করছি ভিজিয়েছি।( বুবুন) 😁
(আমি বোন কে বুবুন বলি)
.
দেখেছো মা তোমার সামনে আবার বলছে।(আমি)
.
–“” ঠিকি তো করছে, আর আমিই বলছি তোকে ডেকে তুলতে, আর না উঠলে পানি দিয়ে উঠাতে, তাই তো ও এই কাজ করেছে। তোর না আজ ভার্সিটির প্রথম দিন।(মা)
.
–“” অহ নো.. ৯:৩০ বাজে,আমাকে আরো জলদি ডাক দিতে পারো নাই, আর মাত্র
৩০ মিনিট আছে উফফফ কি যে হবে।
তাড়াতাড়ি গিয়ে দাত ব্রাশ করে, গোসল
সেরে বেরোলাম। আর ২০ মিনিট আছে,জলদি ফোন টা পকেটে নিয়ে নিলাম,মানিব্যাগ টা কেমন যেনো অপুষ্ট লাগছে।
কিন্তু কালকেই বাবার থেকে বেশ কিছু টাকা ধান্দা করে নিয়েছিলাম। মনে একটু সন্দেহ লাগলো, তাই  মানিব্যাগটা খুললাম,মানিব্যাগের ভেতো দেখে  আমি একটা চিৎকার মারলাম,কারন অর্ধেকের বেশি টাকা গায়েব।😫
.
এরকম ষাড়ের মতো চিল্লানী দিলি কেন ?(মা)
.
কাল বাবাকে কত বুঝিয়ে কিছু টাকা নিলাম, টাকা অর্ধেক গায়েব হলো কিভাবে? আমি।
.
অতসব জানি না।(মা)
.
নিশ্চিত হারমি টার কাজ, সকাল সকাল আমার ঘরে এসে টাকা মেড়েছে।(আমি)
.
–“” তোর ভাই তোর মতই হইছে। (মা)
.
হারামিটা তো ওর পকেটমানি খরচ করেই, আবার আমার টাতেও ভাগ বসায়। আজ আসুক, দেখে নেবো হারামিটাকে। (আমি)
.
–“”সে যা করার করিস এখন কলেজ জাবি না? (মা)
.
উফ জলদি জেতে হবে, তাড়াতাড়ি ব্যাগ টা নিয়ে বেড় হলাম।
.
–“”এই নিহাদ খেয়ে যা । (মা)
.
না এখন আর সময় নাই, বাইরে খেয়ে নিবো। (আমি)
.
–“”একটু কিছু মুখে দিয়ে যা। (মা) 
.
না মা, বললাম তো বাইরে খাবো।(আমি)
.
–“” আচ্ছা শুন,আজ একটু তারাতারি বাড়ি চলে আসিস  (মা) 
.
কেন মা তারাতারি আসবো কেন? (আমি)
.
–“”আজ তোর জসিম আংকেল দের বাড়িতে যাব।( মা)
.
কেন মা?(আমি)
.
–“”তোর আর নুপুরে বিয়ের কথা পাকা করতে যাবো। (মা) 
.
অহ ঠিক আছে বলে বাড়ি থেকে বের হলাম (নুপুর আমার গালফ্রেন্ড)।
নুপুরের নাম টা শুনে আমার বুক টা কেপে উঠলো। সেইদিন এর কথা মনে পড়ে গেলো, বেশ কয়েকদিন
আগে আমি আর নুপুর ঘুরতে বেড়িয়েছিলাম, রস্তার চার পাশের এলাকা টা ঘন জংগল এ ঘেরা ছিলো। 
আমাদের বাস টা ব্রেকফেল করে, একটা খাঁদে পরে যায়, আমি আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।
আর একটা বাস এইদিকেই আসে, তখন বাসের লোকজন সবাই মিলে আমাদেরকে হাসপিটালে ভর্তি করে। আমার তিন দিন পর জ্ঞান ফেরে, আমি জ্ঞান ফেরার পরেই আমি নুপুরের কথা জিজ্ঞাসা করি আন্টি মানে নুপুরের মাকে, আন্টি কেঁদে দিয়ে বলে, নুপুর কে নাকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি চিৎকার দিয়ে কেঁদে ফেললাম। খুব ভালবাসি যে পাগলি টাকে,পাগলিটাও আমায় খুব ভালবাসে। আমার ঠিক হতে প্রায় তিন মাস কেটে যায়,হঠাৎ একদিন নুপুর ফিরে আসে। এতো দিন কোথায় ছিলো কিভাবে ছিল জিজ্ঞাসা করলেই প্রচন্ড রেগে যেত। তাই আর কেউ ওকে এই বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। আসার পর থেকে নাকি উদ্ভট আচরণ শুরু করে। রাতে মাঝে মাঝে বাইরে বের হয়ে যাই,আবার একা একা ফিরে আসে।কিছু জিজ্ঞাসা করলেই রেগে যায়।তাই ওর মা বাবা ওর বিয়ের জন্য উঠে পরে লেগেছেন।
একদিন প্রচুর বৃস্টির সময় নুপুর আমদের বাসার গেটের পাশে দারিয়ে ছিল। বাবা বাইরে থেকে ভেতরে নিয়ে আসে ওকে । আমি তো ওকে দেখে অবাক হয়ে গেছিলাম।
সারা শরির কাকভেজা হয়ে গেছে, কেমন করে তাকিয়ে আছে ।চোখ দেখে মনে হচ্ছে চোখে কোন প্রান নেই চখে।একভাবে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, আমি ওর কাছে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আমাকে। আমার স্বাশ বন্ধ হয়ে আসছিল,এতো জোরে ধরেছিল। তারপর ওকে কোন ভাবে ছাড়িয়ে নিয়ে আন্টিকে ফোন দেই, আন্টি এসে ওকে নিয়ে যায়। তারপর ও স্বাভাবিক হয়ে যায়। প্রতিদিন দেখা করা ফোনে কথা বলা তো চলতো ওর আর আমার মধ্যে।
ও কেমন করে যেনো তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। 
আর বলতো, আমি তেমাকে কোন ভাবে হারাতে দিবো না।যে তোমাকে আমার থেকে আলাদা করতে
আসবে তাকেই আমি শেষ করে দিবো।আমি বলতাম কেউ আলাদা করবে না আমাদের।
ওপস আপনাদের আমার আর নুপুরের কথা বলতে বলতে ভার্সিটিতে এসে গেছি।সব ক্লাস গুলো ভালো ভাবে করে বাসায় চলে আসলাম।
–“”জলদি রেডি হয়ে নে নিহাদ যেতে হবে, দেরি হয়ে গেছে। (মা) 
.
মা এখুনি যেতে হবে? এইমাত্র আসলাম ভার্সিটি থেকে, খেয়েনি আগে।(আমি)
–“”ওখানে গিয়ে খাবি,এবার  জলদি রেডি হ। (মা)
হুম, (আমি)
দেখলাম আব্বু বসে আছে, তাই হারামি টারে কিছু বললাম না।মানে আমার ছোট্ট ভাইকে।রেডি হয়ে তারাতারি  গাড়িতে বসে পোরলাম।গাড়িতে প্রাই ১ ঘন্টা বসে থাকার পর পৌছে গেলাম হবু শশুর বাড়ি। বাড়িতে আসার পর অনেক কথা হলো শশুর শাশুড়ির সাথে। তারপর নুপুরের রুমে জেতেই দেখি নুপুর রুমে নেই। তাই বারান্দায় গেলাম। গিয়ে যা দেখলাম তা দেখে আমি চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে
ফেললাম….
চলবে…..?
#Nehシad
নতুন গল্প,,সবাই পড়বেন, আশা করি ভালো লাগবে।এটা অনেক ভয়ানক একটা গল্প হতে চলেছে।এই গল্পের কয়টা পার্ট করবো,এটা আপনারাই বলবেন কমেন্ট এ।আর আমি কিছু নামের জন্যে অনেককেই এসএমএস দিয়ে ছিলাম,এ জন্য ক্ষমা করবেন।সাবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, নিজের যত্ন নিবেন, সাবধানে থাকবেন, ধন্যবাদ🙂।
লেখক~~~#Md_Nehad_Ali

ভুতের গল্প অদৃশ্য আওয়াজ (পর্ব ২)

আবার আরেক শ্রেণীর পাগল আছে যারা এক যায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকে এবং এক দৃষ্টিতে কোন কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকে।

অনেকের উপর প্রয়োগ করা হয় কবিরাজি চিকিৎসা।শরীরের বিভিন্ন জায়গায় তাবিজ বেঁধে দেওয়া হয়।চলতে থাকে রুটিন মাফিক তেল পড়া পানি পড়া সেবন।নির্দিষ্ট সময়ে কবিরাজ আসবেন ঝাড় ফুঁক করবেন।দুষ্টু জ্বীনকে প্রশ্ন করা হবে কিসের বিনিময়ে সে চলে যাবে।কোন কোন জ্বীন একটা খাশিতেই সন্তুষ্ট থাকবে।আর কিছু জ্বীন আছে লোভী যারা ছয় থেকে সাতটি গরু দাবি করে।
আর কোন কোন জ্বীন আছে যেতেই নারাজ।
সে পরিষ্কার কথায় বলে দেবে-ওকে ছেড়ে আমি যাবো না ওকে আমার ভালো লেগেছে।
তার পর শুরু হবে জ্বীনের উপর নির্যাতন।

তবে ঝাড় ফুঁক দেওয়ার আগে কবিরাজ নিজের শরীর বন্ধ করবে। কেননা দুষ্টু আত্মা বা জ্বীন হলে সেটা কবিরাজের শরীরে ভর করবে।রাতে কবিরাজ কে আক্রমন করবে তিনি অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখবেন এবং স্বপ্নের মধ্যে ভয়ংকর কোন জন্তুর সাথে লড়াই করবেন।তারপরর ঘুম থেকে উঠে দেখবেন উঠুনে একটা প্যাঁচা বা কাক মরে আছে।এবাবে চলতে থাকে কবিরাজের চিকিৎসা।

তবে কী আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।না,এই ঘটনা কাউকে বলা যাবে না।যদি বলি তাহলে কেউ কেউ বলবে খারাপ জ্বীনে আসর করেছে।আবার কেউ কেউ বলবে হয়ত মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে, হরমোনের অভাব দেখা দিয়েছে।ভালো ডাক্তারের শরণাপন্ন হও ।এভাবে একের পর এক পরামর্শ আসতে থাকবে।তখন আমার নিজের প্রতি সন্দেহ হবে।আমি নিজেকে প্রশ্ন করব সত্যিই কি আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।তারপর ধীরে ধীরে নিজের প্রতি বিশ্বাসের দানা বাদবে,যে আমি একজন পাগল।কখনো একা একা দাড়িয়ে হা হা অট্রহাসির রুল তুলবো।যা আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হবে কিন্তু আশপাশের লোক গুলা অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিতে তাকিয়ে থাকবে,কেউ কেউ আমার সাথে ও হাসবে।কোন চা স্টলের দুষ্টু কর্মচারী গ্লাসের জল ছুড়ে মারবে আমার দিকে।স্কুলের বাচ্চারা পাগল পাগল বলে চেঁচামেচি করবে।দুষ্টু ছেলেরা ঢিল ছুড়ে মারবে,কাঁধা ছুড়ে মারবে।বিয়ে বাড়িতে কিংবা কোন অনুষ্টানে ঢুকলে আমাকে ঘাড় ধাক্ষা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে।
কথা গুলো ভাবতে ভাবতে কেমন যেন শিওরে উঠলাম,শরীর কাঁপুনি দিয়ে উঠলো।প্রতিটা লোম খাড়া হয়ে গেল।

সিগারেট প্রায় শেষের দিকে।জানালার বাইরের দিকে তাকিয়ে তারিনের কথা ভাবছিলাম।এই সেই তারিন যার মায়ায় পড়েছিলাম।একটু আগে যার মৃদু হাসির স্বর শুনেছি,স্পষ্ট ভাবে।যেন তারিন খুব কাছে বসে হাসছে।কিন্তু আমি তো ওর সাথে প্রেম করিনি।এমন তো না যে আমি ওর কাছ থেকে বড় ধরনের কোন আঘাত পেয়েছি।তাছাড়া ওকে তো মনেই পড়ে না,প্রায় ভুলে গেছি।তাহলে এমন ঘটবে কেন?
ভুত প্রেত কিংবা কোন অশুভ শক্তি এগুলা আমি বিশ্বাস করি না।হতে পারে এটা কোন মানসিক রোগ।তাছাড়া আমি এতটা চাপের মধ্যে না, যে আমার মস্তিষ্ক বিকারগ্রস্ত হবে।

সিগারাটের ধোঁয়ার কারনে রুমের মধ্যে পুড়া পুড়া গন্ধ ভাব চলে এসেছে।এই পোড়া গন্ধটা কিছু সময় থাকবে তারপর চলে যাবে।বাইরের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।পূর্ণিমাতিথি চলছে।ভাবলাম ছাদে গেলে কেমন হয়,এরকম একটা রাতের দৃশ্য হাত ছাড়া করা যাবে না।দরজা খুলে ধীর পায়ে তিন তলার উপরে ছাদে চলে গেলাম।আমি আবার দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা,সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠতে তেমন কষ্ট হয় না।

আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি সৈয়দ মুজতবা আলী হলের দালানের ছাদের কিনার ঘেঁষে। এটি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রাবাস “সৈয়দ:মুজতবা আলী হল”নামে পরিচিত।হলের ছাদে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য উত্তম একটা স্থান।আমি এখন তাকিয়ে আছি সীমাহীন আকাশ গঙ্গার দূর প্রান্তে। গোলাকার থালার মত চাঁদ ঝুলে আছে আকাশের পশ্চিম কিনারে।
“নিঃস্বার্থে ধরনীর বুকে জ্যোৎস্না বিতরন করছে”
এটা কবির কথা।
কিন্তু আমি বলি ভিন্ন কথা।চাঁদেরও কিন্তু এখানে স্বার্থ আছে। যদি পৃথিবী একবার বলে দেয় ওই চাঁদ তুই আমাকে কেন্দ্র করে ঘুরতে পারবে না, তাহলে বেচারা চাঁদ যাবে কোথায়।আর এজন্য বুঝি তিনি অবলীলায় পৃথিবীর সেবায় নিয়জিত।
আমার চোঁখকে ফাঁকি দেওয়া অতটা সহজ না।তবে এই মুহূর্তে তাকে ধন্যবাদ দেওয়া যায় কেননা তার বিকিরিত আলোর সিহরণে পৃথিবীটাকে তাজা যৌবনময় মনে হচ্ছে।আর আমি এক উদ্ভট একাগ্রচিত্তে ধরনীর যৌবন রূপ উপভোগ করছি।
,
হঠাৎ করে কয়েকটা কুকুর রজনীর নিরবতা ভঙ্গ করে ঘেউ ঘেউ আওয়াজ তুলল।হালকা শীতল সমীরণের প্রবাহ বইতে লাগলো।শরীরটা একটু ঝাকুনি দিয়ে উঠলো।
রাশি রাশি জোছনা শরীরে আচড়ে পড়ছে,পশ্চিম আকাশে অনেক গুলা নক্ষত্র শারীবদ্ধভাবে ঝুলে আছে।উত্তর পশ্চিম কোনে হালকা বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।
এক পা দুপা করে চাঁদটা এগিয়ে যাচ্ছে আকাশের পশ্চিম প্রান্তে।জ্যোৎস্নার আলো তির্জক ভাবে ভূপৃষ্টে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে।এক এক করে দালান গুলির বাতি নিভে যাচ্ছে হয়তো সবাই নিদ্রার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রজনী গভীর থেকে গভীরে অগ্রসর মান। পরক্ষনে নৈশ প্রহরীর গর্জন।আবারো নিস্তদ্ধতা ভঙ্গ হল।
দুর থেকে কয়েকটা শিয়ালের হাঁক অস্পট স্বরে ধ্বনিত হল আবার হারিয়ে গেল নির্জন প্রকৃতির বুঁকে।যদিও আশে পাশে কোন চাঁপা ফুলের গাছ নেই তারপরও এক রাশ চাঁপা ফুলের গন্ধ নাসারন্ধ্রে ধাক্ষা দিল।রাত্রে সাধারনতো পক্ষিকোলরা নিরব থাকে,,,,কিন্তু বসন্তে গভীর রজনীতেও কোকিল পাখি কুহু কুহু গান করে।তেমনি একটা কোকিল কুহু কুহু গান তুলল,এবং দুর থেকে আরো একটা কোকিল তার ডাকে সাঁড়া দিল।

প্যাকেটে আর একটি মাত্র সিগারেট আছে।আজকের রাতের শেষ সম্বল বলা যায়।ছাদে বসেই এটি তামাম করবো,আর প্রকৃতিকে কাছে টেনে নেব।গভীর রাতে প্রকৃতি আর আমি একে অপরের সাথে মিশে একাকার হয়ে যাবো।

লাল রঙ্গের একটা টুল রাখা আছে ছাদে,রুদে ঝলসে এবং বৃষ্টিতে ভিজে এটি লাল থেকে সাদা রঙ্গে রুপান্তিরত হচ্ছে।হলের প্রকৃতি প্রেমিকরা এই টুলে বসে বসে প্রকৃতি দেখে,কেউবা আকাশ দেখে।আবার কিছু সৌখিন গায়ক আছেন যারা এই টুলে বসে গলা ছেড়ে গান গায়।

আপন মনে সিগারেট টানতে লাগলাম,কখনো চোঁখ বন্ধ করে কখনোবা আকাশের দিকে চেয়ে।
কি সুন্দর ধোঁয়ার কুন্ডুলি পাক খেতে খেতে প্রকৃতির সাথে মিশে যায়।ঠিক এই ভাবে আমিও যদি পাঁক খেতে খেতে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে পারতাম!
সাথে সাথে একটা দৃশ্য দেখে সটান করে টুল থেকে উঠে পড়লাম।লাফের পর লাফ দিয়ে ছাদ থেকে নেমে রুমে চলে আসলাম।

সিগারেটের ভাসমান ধোঁয়ার মধ্যে আমি তারিনের মুখের অবয়ব দেখতে পেয়েছি।খুবই স্পষ্ট ভাবে চেহারাটা ধোঁয়ার মধ্যে ফুঠে উঠেছে।গভীর রাতে ছাদের উপর এমন দৃশ্য দেখার জন্য প্রস্তুত চিলাম না।কিছুটা ভয় পেয়েছি বটে।হতে পারে ভিজুয়াল হ্যালুসিনেশন হচ্ছে।ভিজুয়াল হ্যালুসিনেশন হচ্ছে এমন কিছু দেখতে পাওয়া বা শুনতে যা আসলে ঘঠছে না।কিন্তু কেন এমন হবে। তাহলে কী আমি জটিল কোন রুগের সম্মুখীন হচ্ছি।খুবই তাড়াতাড়ি একজন সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে দেখা করতে হবে।

প্রায় তিন দিন পর সমস্যার সমাধান পেয়ে গেলাম।এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছি। মাথার চাপা যন্ত্রনা কমে গেছে।অদ্ভুত দৃশ্যগুলাও আর দেখছি না।এটাকে রোগ বলা যায় না তবে বড় কোন রোগের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো।
আর এই সব কিছুর সুত্রপাত ঘটিয়েছে মাথার পাশে থাকা ছোট টেবিল ফ্যান।আমার চাচাতো ভাই সালমান একটু বিজ্ঞানী টাইপের। যে কোন বিষয় নিয়ে তুমুল ঝগড়াঝাঁটি শুরু করবে।তো সেদিন শুরু হয়েছিলো শব্দ ও শব্দের শ্রাব্যতার সীমা নিয়ে বিতর্ক।আমরা বিভিন্ন হার্জের শব্দ নিয়ে তর্ক করছিলাম।হঠাৎ করে আমার টেবিল ফ্যানের দিকে সন্দেহের তীর চলে গেল।সন্দেহের দানাটা বেঁধেছে উনিশ হার্জের একটা শব্দ তরঙ্গ নিয়ে।মানুষের শ্রাব্যতার সীমা সর্বনিম্ন ২০ হার্জ। অর্থাৎ এর চেয়ে কম হার্জের শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।কিন্তু উনিশ হার্জের শব্দটা বিশ হার্জের শব্দের খুব কাছাকাছি থাকায় শব্দটা আমরা শুনতে পারি না ঠিকিই কিন্তু আমাদের মম্তিষ্কে ঠিকিই ধরা দেয়।মস্তিষ্কে সৃষ্টি করে চাপা যন্ত্রনা।স্বাভাবিক চিন্তাধারায় বিঘ্ন ঘটায়।এতে ঘটতে পারে হেলোসিনেশন।মস্তিষ্কে সৃষ্টি হয় অদৃশ্য কথোপকথন।তাছাড়া অস্বাভাবিক দৃশ্যের সৃষ্টি করে যা বাস্তব বলে মনে হয় কিন্তু বাস্তব না।সব কিছু মস্তিষ্কের ধোঁকা।

হঠাৎ করে হাতে একটা যন্ত্র নিয়ে সালমান রুমে প্রবেশ করলো।ও এতটা পাগলাটে হতে পারে
আমার জানা ছিলো না।টেবিল ফ্যান থেকে আসলেই কি উনিশ হার্জের শব্দ তরঙ্গ বের হচ্ছে সেটা পরীক্ষা করার জন্য শব্দের কম্পাঙ্ক নির্ণয়ের জন্য সনোমিটার নিয়ে এসেছে।

পরীক্ষা শেষে সালমান অবাক দৃষ্টিতে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
–আমি বললাম কী হয়েছে?
–এমন ভাবে থাকিয়ে আছিস কেন?

–উত্তেজিত স্বরে বলল-
–ভাই আপনার আইডিয়া শক্তি তো দারুন।সত্যিই তো ফ্যান থেকে উনিশ হার্জের শব্দ তরঙ্গ বের হচ্ছে।

——–সমাপ্ত

লেখক: মাহফুজুর রহমান

ভুতের গল্প অদৃশ্য আওয়াজ (পর্ব ১)

আর্নেস্ট হোমিংয়ের “দ্যা ওল্ড ম্যান এড দ্যা সী” বইটি পড়তে বসেছিলাম।কিন্তু ঘুমে চোখ এতোটাই ভারী হয়ে আছে,মনে হচ্ছে চোখের অক্ষি কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে।

হঠাৎ করে শুনতে পেলাম,কে যেন বিড় বিড়  করে কিছু একটা বলছে আমাকে।কন্ঠস্বর টা অনেক বড়,পুরুষালি কন্ঠ।কি বলা হয়েছে সেটা আমি ধরতে পারি নি।যেহেতু রুমে কেউ নেই,তাই হতে পারে আওয়াজটা বাইরে থেকে এসেছে।ধাক্কা দিয়ে দরজা খুললাম,কিন্তু বাইরে কেউ নেই।হতে পারে এটা ক্লান্ত মস্তিষ্কের অবচেতন কল্পনা।

প্রায় মধ্যরাত হয়ে গেছে-এই সময় আমার সাধারণত ঘুম আসে না।আর যদি খুব বেশি ঘুম পায় তাহলে সেটা সারা রাত না ঘুমানোর লক্ষণ।প্রায়ই এরকম হয়।চোখে প্রচন্ড ঘুমের চাপ থাকে,কিন্তু ঘুম আসে না।তারপরও ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিলাম।এক গ্লাস পানি পান করে, মশারি টানিয়ে বিছানায় গেলাম।ফাল্গুন মাস প্রায় শেষের দিকে,আজকে তাপমাত্রা অনেক বেশি।প্রচন্ড গরম অনুভব করছি।মশার নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মশারি টানিয়েছি।মাথার পেছনের চেয়ারে একটা টেবিল ফ্যান ও রাখা আছে।কিন্ত মশারির ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে না।ফ্যানটাও আকারে অনেক ছোট।

মশারির উপরের দিকটা ঢিলা হয়ে অনেকটা ঝুলে আছে,প্রায় শরীর ছোঁই ছোঁই অবস্থা।তারপরও আমার শরীর থেকে দুই ইঞ্চি উপরে মশারির অবস্থান।তার মানে এই দাঁড়ালো- মশারিতে বসে যদি মশা আমার শরীরে সুঁচ ফোটাতে চায়,তাহলে তার দুই ইঞ্চি লম্বা সুঁচের দরকার।যেহেতু মশার এতো লম্বা সুঁচ নেই,তাহলে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়।প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে ঘুমানোর চেষ্টা করছি কিন্তু ঘুম আসছে না।ঘুম আসার যতোরকম কায়দা আছে সবক’টা অনুসরণ করতে লাগলাম।

যেমন –

একশো থেকে উল্টো গুণে গুণে এক পর্যন্ত আসতে হবে।এতে যদি কাজ না হয় তাহলে চোখ বন্ধ করে বৃত্ত কল্পনা করতে হবে এবং সেগুলা ভরাট করতে হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে এরকম পদ্ধতি অনুসরণ করলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয় এবং  তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসে।কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ঘটলো তার উল্টোটা।চোখের ঘুম যা ছিলো সব চলে গেছে।বিশেষজ্ঞরা বলেছেন একশো থেকে উল্টো গুণতে হবে।আমি ভাবলাম দুইশো থেকে গুণলে সমস্যা কি?এক গুণায় ঘুম চলে আসবে।কিন্তু কিছুক্ষণ পরপর সংখ্যায় তালগোল পাঁকিয়ে ফেলছি।ভাবলাম শুয়ে শুয়ে সঠিক ভাবে গণনা করা সম্ভব নয়।তাই উঠে বসে পুনরায় গণনা শুরু করলাম।গণনা ঠিকই হয়েছে কিন্তু ঘুম বেচারা পুরোটা উধাও হয়ে গিয়েছে।তাই ভাবলাম “দ্যা ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সী ” বইটি নিয়ে আবার বসা যাক।

বিছানা থেকে উঠতেই বিদ্যুৎ চলে গেলো।সচরাচর এখানে লোডশেডিং হয় না।হয়তো আবহাওয়ার অবস্থা খারাপ।ফাল্গুন মাসেও বজ্রের ডামা-ঢোল বাজিয়ে বৃষ্টি হওয়াটা অবাস্তব কিছু না।পূর্বপাশের জানালাটা খুলে দিলাম।বাইরে চাঁদের জোছনা মিটিমিটি করছে।আকাশে তারা গুলো জ্বলজ্বল করছে।অর্থাৎ বৃষ্টির কোনো লক্ষণ নেই।হয়তো অন্যকোনো কারণে লোডশেডিং হয়েছে।ফ্যান বন্ধ হওয়ায় মশার উৎপাত বেড়ে গেলো।তাই আবারো বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম।

মশারিটা মুখ থেকে প্রায় তিন ইঞ্চি উপরে ঝুলে আছে।মনে হচ্ছে প্রায় ডজনখানেক মশা সেখানে বসে ননস্টপ সংগীত পরিবেশন করছে।এই গান আর থামবে বলে মনে হয় না।ভন ভন  আওয়াজে কানটা একেবারে জ্বালা-পালা হয়ে যাচ্ছে।আমি নাছোড়বান্দার মতো বিছানায় পড়ে আছি প্রতিবাদ করার মতো কোনো অস্ত্র আমার কাছে নেই।তাছাড়া আমার অর্থনীতির স্যার বলেছেন মশা মারলে নাকি বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে।যদি সব মশা মেরে ফেলা হয় তাহলে কয়েল কোম্পানিতে ধ্বস নামবে,মশারি কোম্পানিতে ধ্বস নামবে।কোম্পানি গুলো আর শ্রমিক নিয়োগ দেবে না।তাতে বেকারত্বের হার বাড়তে থাকবে।দেশের বৃহৎ স্বার্থের কথা চিন্তা করে মশার উপর পাল্টা আক্রমণ করলাম না।তবে রক্ষণাত্বক ভঙ্গিতে ওদের সাথে মোকাবেলা করা যায়।

দুই হাত দিয়ে দুই কান চেপে ধরলাম,তারপর চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম।কিন্তু এভাবে কতোক্ষণ থাকবো,প্রায় পাঁচ মিনিট পরে হাল ছেড়ে দিলাম।এবার মনে হচ্ছে শব্দ এবং স্বর ঠিকই আছে কিন্তু সংগীতের তাল পরিবর্তন হয়েছে।অনেকটা এরকম- ভন—–ভন—–ভনভন—–ভনভন—- ভন।

মনে হচ্ছে ওরা রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করছে।পীথাগোরাস বলেছিলেন সবকিছুর মধ্যে সংগীত নিহিত রয়েছে।তাই তিনি গণিতের মধ্যে ও সংগীত খোঁজে পেয়েছেন।আইনস্টাইন তো পিয়ানোর সুরের মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব খোঁজে পেতেন।এই দিক বিবেচনা করলে মশার ভন ভন আওয়াজে রবীন্দ্র সংগীত খোঁজে পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না।

এক ঝটকায় বিছানা থেকে উঠে পূর্ব দিকের জানালার পাশে গিয়ে বসলাম।আবাসিক হল থাকার কারণে রুমটা অনেক বড়।রুমের চার কোণায় চারটি বেড এবং চারটি টেবিল আছে।রুমের বাকি তিনজন মুসাফিরের মতো ওরা শুধু পরীক্ষার সময় আসে তারপর আবার উধাও।সবসময় রুমে একা থাকতে হয়।কথা বলার মতো কেউ নেই।তাই বলে কি আমার কথা বলা বন্ধ? দেয়ালের সাথে কথা বলি, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলি।কখনো আয়নার দিকে তাকিয়ে ডেল কার্নেগির মতো বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করি,মাঝে মধ্যে রোহান এটকিনসনের মতো নানারকম ভঙ্গিতে মুখ ভেংচিয়ে নিজেকে হাসানোর চেষ্টা করি।আয়নায় ফুটে ওঠা নিজের অদ্ভূত অঙ্গসঞ্চালন বিদ্যা দেখে কিছুটা অবাক হই।আফসোস করে বলি-সব কিছু ছেড়ে যদি অভিনয় বিদ্যাটা রপ্ত করতে পারতাম!

যাই হোক বিভিন্ন ভাবে নিজেকে খুশি রাখার চেষ্টা করি।তবে একজন মায়াবতীর মায়ায় পড়ে গিয়েছিলাম।এক সময় আবিষ্কার করতে পারলাম আমার হাসি কান্না অনেকটা ওর উপর নির্ভর করে।সে হাসলে আমি হাসি,সে কাঁদলে আমি কাঁদি।

-কিন্তু কেন?

-আমার হাসি কান্না কেন অন্যকেউর উপর নির্ভর করবে?নিজেকে প্রশ্ন করলাম।

-আমার সুখ-দুঃখের নিয়ন্ত্রক কেন অন্য কেউ হবে?।

তারপর নিজের সাথে সংগ্রাম করে সেই মায়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসলাম।

তবে সেই মায়াবতী কী জানতো কেউ একজন তার মায়ায় আটকা পড়েছিল,এবং তার অজান্তেই সেই মায়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে গেছে।

-হয়তো জানে না।অনেক কিছুই আছে যা অজানা থেকে যায়।অনেক রহস্যই আছে যা উদঘাটন করা যায় না।

জানালার সবকটা পার্ট খুলে দিলাম।রাশি রাশি জোছনায় গা ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে,কিন্তু চাঁদটা মধ্য আকাশ পেরিয়ে পশ্চিম প্রান্তে ঢলে পড়ছে।তাই তির্যকভাবে রুমে আলো প্রবেশ করতে পারছে না।কারন জানালাটা পূর্ব প্রান্তেই ছিল।তারপরও অন্ধকার রুমে জোছনা গুচ্ছ লুটুপুটি খাচ্ছে।এমন একটা পরিবেশে যদি হাতে একটা জলন্ত সিগারেট থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। পকেটে মাত্র দুটি সিগারেট আছে, এখন একটা এবং শেষ রাতে একটা। খেল খতম।

দেশলাই এর পুড়া গন্ধটা নাকের মধ্যে জোরালো ধাক্ষা দিলো।এই গন্ধটা আমার অনেক ভালো লাগে।বাঁকা ঠোঁটে সিগারেটে তৃপ্তির টান দিয়ে এক গাল ধোঁয়া নাসারন্ধ্র দিয়ে নিক্ষেপ করলাম।ধোঁয়ার কুন্ডুলি পাঁক খেতে খেতে হাওয়ায় মিশে গেল।চোখ বন্ধ করে বড় করে তৃপ্তির নিঃশ্বাস নিলাম।

হঠাৎ করে স্পষ্ট স্বরে মৃদু হাসির শব্দ শুনতে পেলাম।একটা মেয়ের হাসি,খুবই মিষ্টি স্বরে হাসছে।এই হাসি আমার অনেক পরিচিত।এই হাসিটা সেই ময়াবতীর হাসি।

এবার একটু নড়েচড়ে বসলাম।কিছু একটা গোলমেল তো হচ্ছে।

হাসির শব্দটা খুবই স্পষ্ট ভাবে শুনলাম।মনে হচ্ছে মস্তিষ্কের ভেতর থেকে শব্দটা বের হচ্ছে।গত কদিন ধরে মাথার মধ্যে চাপা যন্ত্রনা অনুভব করছিলাম।সব কিছুর পেছনে কোন না কোন যুক্তি আছে,আমি এটা বিশ্বাস করি।এই ঘটনার পেছনেও কোন যুক্তি আছে সেটা আমাকে খুঁজে বের করতে হবে।তার মানে বিড়্ বিড়্ করে পুরুষালি কন্ঠে যে আওয়াজটা শুনেছিলাম সেটা আমার মস্তিষ্কের ভুল ছিল না।রাত প্রায় দুটো বাজে,আর কোন দিন এরকম পরিস্থিতির সম্মুখিন না হওয়ায় কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম।যদিও যুক্তি দিয়ে ভয় কে জয় করা যায় কিন্তু এর পেছনে শক্তিশালি যুক্তি প্রয়োজন।তবে শুনেছি পাগলরা নাকি এরকম অদ্ভুত কিছু শুনে,অদ্ভুত কিছু দেখে।ভয়ে কাতর ভঙ্গিতে জরসর হয়ে ঘরের কোনে বসে থাকে।অনেকে আবার বিভিন্ন ধরনের কথা বলে,বিশেষ কোন বিষয়কে নির্দেশ করে।কেউ আবার অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে,ভয়ংকর ভঙ্গিতে অট্রহাসি দেয়।আবার আরেক শ্রেণীর পাগল আছে যারা এক যায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকে এবং এক দৃষ্টিতে কোন কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকে।

,,,,চলবে

লেখক- মাহফুজুর রহমান

সাকিউবাস আর ইনকিউবাসঃ সেক্সুয়াল ডেমন নিয়ে না জানা সব তথ্য

আমাকে একবার একজন একটা ঘটনা বলেছিলেন। অতো বড় করে না বলে, ছোট করেই বলি। উনার শ্বাশুড়ি উনার উপর জ্বীনের আছড় লাগিয়ে দিয়েছেন। কারণ, উনাদের প্রেমের বিয়ে ছিল। এখন উনি আমাকে বলছেন যে, উনার শারীরিক অবস্থা খারাপ। উনি ছবি দিলেন। দেখলাম। দু বছরের পার্থক্যে চেহারা আর শরীর ভেঙে একেবারে বিদঘুটে একটা অবস্থা হয়েছে উনার।

এমন ঘটনা কিন্তু সারাদেশে অনেক হয়ে থাকে। মা তার নিজের মেয়েকে জাদু করে, বাবা তার নিজের মেয়েকে এমন জাদু করে, ছেলে তার গার্লফ্রেন্ডকে এমন জাদু করে, স্বামী সন্দেহের বাতিকে স্ত্রীকে জাদু করে… এমন ঘটনা চলছে, আর চলবেই!

কিন্তু আমরা জানিই না যে, কবিরাজ কিংবা যারা জাদুটোনা করে তারা কিভাবে করে, কোন পদ্ধতিতে করে আর করার পরে কি হয়?!

আমরা তো লাভ ঠিকই পাচ্ছি, কিন্তু একটা কথা আমরা ভুলে যাই যে, অল ম্যাজিক কামস উইথ অ্যা প্রাইস!

আজকে আমি বিস্তারিত বলবো না সেসব বিষয় নিয়ে। কারণ, যত কম জানবেন তত কম কৌতুহল তৈরি হবে। যত বেশি জানবেন, তত বেশি আগ্রহ বাড়বে। আর প্যারাসাইকোলজি, ডেমনোলজিতে আগ্রহ যত কম থাকা যায় তত বেটার।

যাই হোক, আজকে একটু কথা বলি ইনকিউবাস আর সাকিউবাস নিয়ে। এরা মূলত এক ধরণের ডেমন বা জ্বীন। ইনকিউবাস হচ্ছে এমন এক ধরনের জ্বীন, যারা মূলত বিভিন্ন ছেলের রূপ ধরে মেয়েদের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে। আর সাকিউবাস হচ্ছে এর উল্টোটা, এরা মূলত মেয়েদের রূপে থাকে, যারা ছেলেদের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে।

ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন, জ্বীনে পোসেসড ব্যক্তি (ছেলে কিংবা মেয়ে) দু ধরণের হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে যারা মূলত লোয়ার লেভেলের ডেমন/জ্বীন দ্বারা পোসেসড হয়, তারা  মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। আর উপরে যে ঘটনাগুলো বললাম, পরিবার ভাঙার জন্য বা এর থেকে ওরে দূরে করার জন্য বা এমন কিছু সিচুয়েশনের সময় এসব সাকিউবাস অথবা ইনকিউবাস ডেমন ব্যবহার করা হয়।

আপনি হুজুরকে বলবেন বা আপনি কবিরাজকে বলবেন যে, আপনার নিজের হবু বউয়ের উপরে এসব করতে। তারা তো টাকা নিয়ে ঠিকই করে দেবে। তারা তো একটা পদ্ধতিই জানে। বাইন্ডিং রিচুয়াল করে তারা আপনার ছেলের বউয়ের সাথে ইনকিউবাস যোগ করে দেবে। আর আপনি ভাবছেন কাজ হয়ে গেছে তাই না?

সুখের খবর কি জানেন?

যেকোনো ডেমনের সাথে বাইন্ড হওয়ার একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে, তারপরে সেটা আর বাইন্ড থাকে না। তখন সে নিজের ইচ্ছেতে কাজ করে! বেস্ট অফ লাক উইথ দ্যাট!

আবারো বলছি, ব্ল্যাক ম্যাজিক ইজ্যান্ট এনি কাইন্ডা ফান। ইটস ট্রু এন্ড ডোন্ট ট্রাই ফাকিন’ এভার, নট ইভেন ফর ফান!

পোষ্টটির লেখক আমাদের প্রিয়
ক্রেডিট: Muntasir Rahman Mahdi

জ্বীন সম্পর্কীয় কিছু মজার ধারনা এবং বাস্তব কিছু তথ্য

শুরুতেই বলি‌ আমি কোন আলেম নই। কোন জ্বীন বিশেষজ্ঞ ও নই।আমি‌ যতটুকু জানি তাই বলছি। অনেকে বলবেন জ্বীন বিশ্বাস করেন না তাহলে জানিয়ে দেই আপনি মুসলমান হলে জ্বীন অস্বীকার করার কোন উপায় নেই কারণ ‌সুরা জ্বীন নামে কুরআন ‌এ‌কটি সুরা রয়েছে। অন্য ধর্মের হলে কিছু বলার নেই

১. কারীন জ্বীন: এই জ্বীন সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।আমাদের  সবার রুহের ভেতরেই একটা করে কারীন‌ জ্বীন আল্লাহ দিয়ে দিয়েছেন‌ যেই জ্বীন জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকে।এই জ্বীন খারাপ সত্ত্বা যেটা আমাদের খারাপ কাজে উদ্বুদ্ধ করবে।খারাপ কাজ করানোর চেষ্টা চালাবে। একে অনেকে নফসের শয়তান অথবা মনের শয়তান বলে‌ থাকেন ।নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই জ্বীন সম্পর্কে সাহাবী দের সাথে আলাপ করার সময় এক সাহাবী‌ সাহস করে জিজ্ঞাসা করেন “হুজুর আপনার সাথেও কি কারীন জ্বীন রয়েছে?? নবীজী উত্তরে বলেন‌‌ “আমার সাথেও‌ আছে কিন্তু আমি‌ তাকে ভালো বানিয়ে ফেলেছি । 
২. হুজুর অথবা কবিরাজ কে যখন কোন প্যারানরমাল বিষয়ে ডাকা হয় ‌তখন তারা অতীতের অনেক কথা বা চোর ধরতে গায়েবি‌ কথা বলে দেন‌ তাতে‌ আমরা‌ খুব অবাক হই। ঘটনা হলো কারীন জ্বীনের সাথে তার জ্বীনের কনভারসেশন হয় এবং আপনার‌ অতীত জানা‌‌ আপনার সাথে বিদ্যমান কারীন জ্বীনটি‌ ঔ জ্বীনকে‌ বলে দেন তাই হুজুর জানতে‌ পারেন।অনেকে‌ চোর ধরতে আয়না পড়া,বাটিচালান এগুলা করে‌ থাকেন‌ যা গুনাহ।এসব দিয়ে গায়েবী ব্যাপার জানা যদি ইসলাম‌ সম্মত হতো তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতো আইন‌ কানুন‌‌ বিচার কাঠামো তৈরি করতেন না।
৩. বদ দুষ্টু ‌ জ্বীন রা প্রচুর মিথ্যা কথা বলেন। তারা ছেলে/মেয়ে উপর আছর‌ করে শুধু মাত্র সহবাস‌‌ করার  উদ্দেশ্যে। স্বপ্নের মধ্যে ‌করে‌ থাকেন যার কারনে অনেক মাদ্রাসার ছেলেদের ‌কোন সময় জঙ্গল থেকে /‌ অস্বাভাবিক জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়।তবে  সবার স্থান পরিবর্তন হয় ‌না। বাড়ি ঘরে আস্তানা বাঁধেন থাকার উদ্দেশ্যে।
৪. জ্বীন থেকে বাঁচার জন্য ‌তাবিজ‌ কবজের‌ প্রয়োজন নেই।এটি শিরক ‌আর শিরকের গুনা। কখনো মাফ হয় না।তাবিজের মধ্যে থাকা কয়েকটা আরবি কালাম যদি আপনাকে রক্ষা করতে পারতো তাহলে কুরআন ‌শরীফ গলায় ঝুলিয়ে রাখা যেতো। আমল হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত ট্রিটমেন্ট। আল্লাহ  এ থেকে বাঁচার জন্য অনেক দোয়া/রুকইয়াহ আমাদের জন্য হাতিয়ার স্বরুপ  দিয়েছেন‌।সহিহ শুদ্ধ ভাবে আমল করাও জরুরি।যে হুজুর তাবিজ‌ দিয়ে আপনার‌ ঈমান ধ্বংস করতে আসবেন তার থেকে দুরে থাকুন।পানি দিয়ে গোসল দিয়ে তা‌ গ্রহন করতে পারেন।
 আমার উপর ছোটবেলা ‌থেকে  জ্বীনের আছর ছিলো অনেক কষ্ট করেছি।  অবশেষে আল্লাহ আমাকে বরাবর এর মত রক্ষা করেছেন এবং ‌আছর কাটিয়েছেন। আমি পরিবারের বিরুদ্ধে ‌তাদের অমতে তাবিজ ফেলে‌ দেই। কিন্তু আমার আমলের জন্য কিছু করতে পারে নি।
৫. আপনি জানেন কি দুষ্টু জ্বীন টাকা পয়সা থেকে শুরু করে কসমেটিকস ও চুরি করে শুধু মাত্র মানুষকে বিরক্ত করার‌ জন্য। অনেক‌ এক্সিডেন্ট ঘটায়, অকারন আগুন লাগায় জ্বীন।তাই সকল ঘরে নামাজ পরুন‌ শুধূ‌‌ এক ঘরেই না
৬.অনেক সময় ‌দেখবেন জ্বীন বিরক্ত করছে আপনি অনেক দোয়া পরছেন কাজ‌ হচ্ছে না।তাহলে দেখুন স্থানটা পবিত্র কি-না। পবিত্র না হলে স্থান পরিবর্তন করুন। যেমন সত্যি একটা উদাহরণ শায়েখ মতিউর রহমান মাদানী একদিন গরমের জন্য ‌ছাদে শুয়ে ছিলেন। তার মনে হচ্ছিল ছোট ছোট জ্বীনের বাচ্চা তাকে ফেলে দিতে চাইছে। দোয়া পরে কাজ হচ্ছিল না।পরে সে রুমে যেয়ে শোয় আর‌ কোন সমস্যা হয়নি।যে সকল বাড়ি তে মানুষ প্রানির ছবি আছে সেই‌ বাসায় আমল করে কাজ হবে না।
৭. দুষ্টু জ্বীন আর শয়তানের নিয়ত ‌একটাই মানুষকে ঈমান থেকে দুরে রাখা আর অপকর্ম করানো। জ্বীন জাতিরও ধর্ম বর্ন ‌আছে।ওদের মধ্যে ও হিন্দু খ্রীষ্টান আছে।ওদেরো হিসাব‌ নিকাস হবে।এরা সংখ্যায় অনেক,আর আয়ু অনেক। প্রজনন ‌হার বেশি। ওরা অনেক কুৎসিত । মেয়ে জ্বীন রাও কুৎসিত কিন্তূ সুন্দর সেজে ছেলেদের আকৃষ্ট করতে‌ চায়।ওরা যেকোনো রুপ ধারণ করতে পারে। ওরা বেশিরভাগ পর্বত আর সমুদ্র, মরুভূমিতে থাকতো।এখন বিল্ডিং ওদের পছন্দের জায়গা। ভালো জ্বীন যে কোনো‌ স্থানে থাকতে পারে। খারাপ জ্বীন সদর দরজা দিয়ে আমাদের সাথে প্রবেশ করে জায়গা দখল করে।তাই সালাম দিয়ে অথবা বিসমিল্লাহ বলে ঢুকলে আর ভেতরে আসতে পারে না।নবীজি একা চলাচল করতে নিষেধ করেছেন আর রাতে দরজা জানালা লাগিয়ে রাখতে বলেছেন।
৮.অনেকে‌ বলে থাকেন আমি‌ জীবনেও জ্বীন দেখলাম না কেনো।আমি‌ বলি আপনি অনেক লাকি যে ফিল করতে পারেন না। জ্বীন থেকে যত দুরে থাকবেন ততোই ভালো।আমি‌ ছোটবেলা থেকে কষ্ট করেছি অনেক।এখনো অনেক সতর্কতার সাথে থাকতে হয় হাজার গরমেও জানালা‌ খুলে‌ ঘুমাতে পারি না। এখন আর ভয় পাই‌না। ভয় পেতে‌‌ পেতে অনেক  সাহস‌ এসে যায়। কিন্তু দূর থেকে হলেও ওরা বিরক্ত করে আমার ঘুম নষ্ট করে। যতদুরে থাকবেন তত ভালো।
৯. বোবায় ধরা ব্যপারটা কি। এটা জ্বীন এর বাচ্চা দের‌ কাজ।ছোট বাবুরা যেমন হামাগুড়ি দিয়ে বুকের উপর উঠে বসে খেলে। জ্বীন এর বাচ্চা রাও তাই করে।তিন‌‌ কুল আর‌ আযাতুল কুরসি‌ পরে শরীর বন্ধ করে ঘুমাবেন
১০. অনেকে জ্বীনে ধরাকে মনে করেন জ্বীনে ধরলে বা‌ আছর থাকলে ভিকটিম পাগলামি ‌করবে।আসলে এই ধারনা ভুল। পাঁচ বছর বয়স থেকে আমার উপর জ্বীন এর আছর ছিলো কিন্তু আমার বাবা মা টের পায়নি, পাত্তা দেয়নি ‌কারন আমি স্বাভাবিক ছিলাম। শুধু ঘুমে কথা বলতাম ঘুমের মধ্যেই উঠে দেয়ালে মাথা অনেক জোরে জোরে ঠুকতাম তারা কোন ভাবে‌ এটা বন্ধ করতে পারতো না।তারা বু্ঝেও নি। কৈশরে পদার্পণ এর পর আমি নিজেই কনফার্ম হই আর তাদের জানাই।কারো যদি ঘুমের মধ্যে কথা বলার /হাঁটার অভ্যাস থাকে তাহলে এটা মেডিকেল প্রবলেম না জ্বীন এর প্রবলেম।
অনেকে বলবেন ‌এতো‌ কিছু কিভাবে জেনেছি।হাদিস ঘেঁটে, বিভিন্ন ইসলামি স্কলার দের কথা শুনে আর নিজের সাথে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতা থেকে বলেছি।একটা সময় জ্বীন সম্পর্কে জানার জন্য লেগে থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম।এতোটাই জ্বীন নিয়ে ঘাটতাম যে কাছের লোকজন আমাকে নিয়ে ভয় পেতো আমিই নাকি জ্বীন হয়ে গেছি।
N.B: কষ্ট করে লিখেছি। নিজেকে পন্ডিত বোদ্ধা যাহির করার জন্য নয়।একটা তথ্যও অতিরঞ্জিত বা বানোয়াট নয়। আক্রমণাত্মক কমেন্ট করে নিজেকে ব্যান খাওয়াবেন‌ না
ছোট্ট একটা ঘটনা দিয়ে শেষ করি।আমাদের বাসার সামনে একটা নারিকেল গাছ ছিলো। আম্মু একদিন দেখিয়েছিলো যে প্রায় ‌ ‌একটা ছোট্ট বাতাসের ঘূর্ণিবলয় দুপুর ২ টার সময় ‌ঐ গাছে যায় তখন আসেপাশে কোন বাতাস থাকে না। সেই বাতাসের বলয় নাকি ওদের বড়যাত্রার অথবা মরা টানার। লক্ষ্য করলাম ঠিকই ব্যপার টা ঘটে। সেন্টমার্টিনে দুপুরে বীচে‌ বসে থাকার সময় হঠাৎ দোকান গুলোর সামনে বালি,‌ময়লা,খাবারের প্যাকেট সহ ঘুরতে দেখি যেটা একদম‌ ছোট ঘূর্ণী ঝরের মতো।খুব খেয়াল করলাম ‌আসেপাশে একটু বাতাস নেই।সবাই হা করে দেখছিলো। তখন আম্মুর‌ কথা মনে পরে।মামা‌ কে বললাম এটা কি সেই জিনিস।মামা বললো হ্যা। ঘূর্ণিঝড় টা বেশি জায়গা ‌জুরে ছিলো না তবে একতলা বিল্ডিং এর‌ সমান ছিলো। একটা দোকানের চেয়ার‌, ছাতা আর টিনের কিছু অংশ উল্টে দিয়ে একজায়গায় ১০ মিনিটের মত রইলো তারপর একই জায়গায় শেষ হয়ে গেলো।আমি‌ কনফার্ম হবার জন্য সবচেয়ে পুরোনো কয়েকজন দোকানদার দের জিজ্ঞাসা করলাম এই জিনিস প্রায়ই ঘটে কিনা।তাদের সবার উত্তর ছিলো না এই জিনিস আজকেই প্রথম ঘটেছে।
পোষ্ট টি লিখেছেন ঃ Mah Ruja 

হ্যামিলিনের বাশিওয়ালা নিয়ে অজানা কিছু তথ্য এবং সত্য উন্মোচন

আজ থেকে ৭৩৫ বছর আগের এই ঘটনা সত্যিই রহস্যময়। আর এই রহস্যময় ঘটনা যদি নাই ঘটে থাকে তাহলে এর জনপ্রিয়তা কেন? শুধু শুধু একটা রূপকথা কেন এত জনপ্রিয় হবে? 🤔 নিম্নে পড়ুন :

হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার (জার্মান: Rattenfänger von Hameln) গল্পটি পৃথিবী বিখ্যাত। আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছরের বেশি আগে জার্মানির ছোট্ট শহর হ্যামিলিনে ঘটেছিল বিখ্যাত এ ঘটনাটি। হ্যামিলিনের গির্জার দেয়ালে আঁকা ছবি থেকে প্রথম এ ঘটনার কথা জানতে পারে মানুষ। পরে এ নিয়ে গল্প-কবিতা লিখেছেন গ্রিম ভ্রাতৃদ্বয় মতো অনেকেই। এ ঘটনার পেছনে যুক্তি খুঁজতে গিয়ে অনেকে বলেন, জার্মানির উত্তর-পূর্বে স্লাভ অধ্যুষিত দেশগুলোতে উপনিবেশ গড়ে তোলার জন্য শহর ছেড়েছিল হ্যামিলিনের বেশ কিছু অল্পবয়সী অধিবাসী। তাদের এই দেশান্তরী হওয়ার ঘটনাই পরে গল্প-গাঁথায় উঠে এসেছে। কেউ বলেন, সে সময় ভয়ঙ্কর মরণরোগের শিকার হয়েছিল হ্যামিলিনের খুদে বাসিন্দারা। পরে সেই রোগকেই বাঁশিওয়ালার প্রতীকী রূপ দেয়া হয়।এর সত্যতা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ আছে বটে, কিন্তু এরপরও পুরো ঘটনাটি বিশ্ব ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে।

পটভূমি :
সাতশ’ বছর আগের জার্মানি আজকের মতো আধুনিক ছিল না। যেমন এলোমেলো ছিল জার্মানির ছোট্ট শহর হ্যামিলিন। হ্যামিলিন ছিল জার্মানির হানোভারের ৩৩ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত একটি ছোট্ট শহর। শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একাদশ শতাব্দীতে। আর আজ থেকে সাতশ’ বছরেরও আগে গোটা শহরের মানুষ ইঁদুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। ইঁদুরবাহিত রোগ যেমন মহামারির আকার ধারণ করে, ঠিক তেমনি ইঁদুরের অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলছিল। কোনো উপায়ন্তর না দেখে হ্যামলিন শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ইঁদুরের হাত থেকে বাঁচার জন্য পৌরসভায় মিটিংয়ে বসলেন। মেয়রের নেতৃত্বে সবাই মিলে একজোট হয়ে ঠিক করলেন, শহরকে ইঁদুরের হাত থেকে যে বাঁচাতে পারবে তাকে মোটা অঙ্কের পুরস্কার দেওয়া হবে। সেই ঘোষণায় সাড়া দিয়ে শহরে এসে হাজির হলো রহস্যময় এক বাঁশিওয়ালা।

 সে জানাল তার বাঁশির সুরে শহরকে ইঁদুরমুক্ত করা সম্ভব। শুনে সবাই অবাক; কিন্তু নিরুপায় হ্যামলিনবাসীর কিছুই করার ছিল না। বাঁশিওয়ালাকে মোটা অঙ্কের পুরস্কারের বিনিময়ে শহরকে ইঁদুরমুক্ত করার আদেশ দিলেন মেয়র। বাঁশি বাজাতে শুরু করলেন বাঁশিওয়ালা। বড় অদ্ভুত সেই সুর। তার বাঁশির শব্দ শুনে গর্ত থেকে বেরিয়ে এলো সব ইঁদুর। যেখানে যেরকম ইঁদুর ছিল সবই বেরিয়ে এলো বাঁশিওয়ালার মায়াবী সুরের টানে। একসময় ইঁদুরগুলোকে নিয়ে গিয়ে ওয়েজার নদীতে ফেলে দিলো বাঁশিওয়ালা। এরপর পারিশ্রমিক চাইতে গেলে মুখ ফিরিয়ে নিল শহরের মেয়র ও গণ্যমান্য মানুষরা। রেগে গিয়ে তখনকার মতো শহর ছেড়ে চলে গেল সেই বাঁশিওয়ালা। কিছুদিন পর এক ধর্মীয় উৎসবের দিনে শহরের বড়রা যখন গির্জায় জমায়েত হয়, তখন আবার ফিরে এলো বাঁশিওয়ালা। এবার তার বাঁশির সুরে বেরিয়ে এলো শহরের ছোট ছোট শিশুরা। তাদের সঙ্গে নিয়ে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল সেই বাঁশিওয়ালা। শিশুদের মধ্যে দু’জন দল থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। তারাই নাকি ফিরে এসে এসব কথা জানাল শহরবাসীকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শিশু দু’টির একজন মূক ও অন্যজন দৃষ্টিহীন হওয়ায় বাঁশিওয়ালার গন্তব্য সম্বন্ধে সঠিক তথ্য আর জানা যায়নি। কেউ বলেন, শহরের বাইরে কোপেলবার্গ পাহাড়ের মাথার গুহায় ঢুকে গিয়েছিল সে। কেউ বলেন, ইঁদুরের মতো শিশুদেরও সলিলসমাধি দেয় সেই বাঁশিওয়ালা। সাধাসিধেভাবে বললে মূল গল্পটি এমনই। তবে এ নিয়ে মতভেদেরও কমতি নেই।

আরেকটি মতবাদ অনুসারে বাঁশিওয়ালা যখন শিশুদের নিয়ে রওনা দেয়, তখন শহরের কারোরই কিছু করার ছিল না। কারণ সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বাঁশির সুর শুনছিল। স্বয়ং মেয়রের মুগ্ধতাও বাঁশির সুরেই নিবিষ্ট ছিল। বাঁশিওয়ালা মায়াবী সুরের টানে বাঁশি বাজাতে বাজাতে এগিয়ে যাচ্ছিল। আর শিশুরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো অনুসরণ করছিল। একসময় বাঁশিওয়ালা শিশুদের নিয়ে হ্যামিলিন শহরের পাঁচিল বেয়ে একটা পাহাড়ের দিকে গেল। এরপর পাহাড়টি হঠাৎ দু’ভাগ হয়ে গেল। আর তখন বাঁশিওয়ালা শিশুদের নিয়ে সেই পাহাড়ের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেল। সেই রহস্যময় বাঁশিওয়ালাকে কিংবা সেসব শিশুকে এরপর আর কখনোই দেখা যায়নি। বলা হয়ে থাকে ১২৮৪ সালের ২২ জুলাই ঘটনাটি ঘটেছে।
ইতিহাসবিখ্যাত এ ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। অনেকে যেমন ঘটনাটিকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন, তেমনি যুক্তি দেখিয়ে অনেকেই চেষ্টা করেন ঘটনাটির সত্যতা প্রমাণের জন্য। আবার একে নেহাতই গল্প বলে উড়িয়ে দেওয়ার লোকের সংখ্যাও কম নয়।
দীর্ঘদিন অমীমাংসিত এই রহস্যের বিস্তর গবেষণা হয়েছে। হ্যামিলিন শহরের পৌরসভায় রাখা কাগজপত্র তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়েছে এ ঘটনার কোনো সত্যতা আছে কি-না তা জানার জন্য। কিন্তু সেখানে এরকম কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

হ্যামিলিন শহরে এ সংক্রান্ত একটি জাদুঘর রয়েছে। ওই জাদুঘরে সঞ্চিত পঞ্চদশ শতাব্দীতে লেখা কয়েকটি বইয়ে এ রহস্যময় কাহিনীর বর্ণনা রয়েছে। সেখানে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ দেওয়া আছে। ফ্রাউ ভন লিউড নামের এক ১৩ বছরের বালক বলেছে, বাঁশিওয়ালার বয়স আনুমানিক ছিল ৩০। দেখতে ছিল অস্বাভাবিক রকম সুদর্শন। তার বাঁশিটি ছিল রুপার তৈরি। অন্য এক নথিতে পাওয়া যায় ১৩০০ শতাব্দীতে হ্যামিলিনের বাজারে এক কাঠের ফলক ছিল। সেখানে এক বংশীবাদক ও অনেক শিশুর ছবি ছিল। সেটা ১৭০০ সালে ঝড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। আরেকটি ঘটনায় হ্যামিলিন শহরে নিকোলাস নামের এক অসৎ ব্যক্তির বর্ণনা পাওয়া যায়। যে কি-না শিশুদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচার করে দিয়েছিল। অনেকে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার সঙ্গে এই ঘটনারও যোগসাজশ খোঁজেন। সেখানকার একটি রাস্তার নাম বাঙ্গেলোসেন্ট্রাস। যার অর্থ ‘যে রাস্তায় বাজনা বাজে না’। ওই রাস্তার একটি কাঠের ফলকে খোদাই করা আছে ১৮২৪ সালের ২৬ জুন হ্যামিলিনের ১৩০টি শিশুকে এক রংচঙা ব্যক্তি অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল যাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা গল্পে ইঁদুর দ্বারা আক্রান্ত শহরের কথা বলা হয়েছে। কেননা মধ্যযুগে ইউরোপে প্লেগরোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তখন ইঁদুর ধরার জন্য এক ধরনের বিশেষ লোক দেখা যেত। বিজ্ঞান বলে, হাই ফ্রিকুয়েন্সির শব্দতরঙ্গ দিয়ে ইঁদুরকে আকৃষ্ট করা যায়। হ্যামিলিনের জাদুঘরে একটি প্রাচীন টিনের বাঁশি রাখা আছে। ধারণা করা হয় প্রাচীনকালে ইঁদুর ধরিয়েরা এ ধরনের বাঁশি ব্যবহার করত। ইতিহাস থেকে আরও জানা যায়, ১২৮৪ সালে হ্যামিলিনে দুটি ঘটনা ঘটে। একটি হচ্ছে প্লেগ, অন্যটি নাচুনে রোগ। এক বিশেষ ধরনের খাদ্য বিষক্রিয়ায় এ রোগ দেখা দেয়। এতে রোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা নাচতে থাকে। লাল রং তাদের আকৃষ্ট করত খুব। সাধারণত ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এ দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গল্পটির বর্ণনা দেন হ্যান্স ডোবারটিন। বর্তমানে হ্যামিলিনে যে পৌরসভা রয়েছে, তার নামের অর্থ হলো ‘ইঁদুর ধরা লোকের বাড়ি’। 

এটি নির্মিত হয় ১৬০২ সালে। এর দেয়ালে বিশ্ববিখ্যাত কাহিনীটির ছবি চমৎকারভাবে আঁকা আছে
হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার গল্প আমাদের অনেকেরই জানা। যে শহরের সব শিশুকে সেই জাদুকরী বাঁশির মোহন সুর শুনিয়েছিল। তবে কোনো এক কারণে ‘হ্যামিলন’ নামটাই বেশি পরিচিত। অথচ নামটা হবে ‘হ্যামেলিন’। এখন প্রশ্ন এটাকী নিছকই গল্প, নাকি এর পেছনে কিছু সত্যিও রয়েছে।আসুন খুঁজে দেখি সেই রহহস্য।ছোটবলোয় যে গল্পটা আমরা জেনেছিলাম তার ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে নিখুঁত বিবরণ।জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনির শহর হ্যামেলিন। সালটা ছিল ঠিক ১২৮৪। হ্যামেলিন শহর তখন ইঁদুরের প্রকোপের শিকার। হঠাৎ একদিনকোথা থেকে যেন এসে হাজির এক বাঁশিওয়ালা (পাইপার), তার গায়ে হরেক রঙের পোশাক। সে একউপায় বাতলে দিল হ্যামেলিনেরমেয়রের কাছে। মেয়র বললেন, ঠিক আছে, ইঁদুর তাড়িয়ে দাও, তাহলে তোমাকে আমি ১০০০ সোনার মুদ্রা দেব। বাঁশওিয়ালা রাজি হয়ে গেল, তার বাঁশি বাজাল আর সুড়সুড় করে সব ইঁদুর পেছন পেছন এসে তলিয়ে গেল শহররে পাশের  নদীরজলে। তবে একটা ইঁদুর বেঁচে গেল কীভাবে যেন!ম্যাপে হ্যামেলিন, সূত্র: উইকিমিডিয়াবাঁশিওয়ালা ফিরে এসে তার প্রাপ্য চাইলো। কিন্তু মেয়র তাকে ১০০০ সোনার মুদ্রা দিতে চাইলেন না, দিলেন মাত্র ৫০! সাথে আরো বলে বসলেন, বাঁশিওয়ালা নিজেই ইঁদুরগুলো এনেছিল যেন তাড়িয়ে টাকা আয় করতে পারে! বাঁশিওয়ালা চলেগেলে রেগে, যাবার আগে বলে গেল প্রতিশোধ নিয়ে ছাড়বে। ওই বছরেরই জুন মাসের ২৬ তারিখ শহরে ফিস্ট চলছিল, রোমে জন ও পলের শহীদ হবার স্মরণে সেন্ট জন-পল দিবস পালন করা হয়। এটিই চলছিল সেদিন। সবাই ছিল চার্চে, ঠিক সে সময়টাতেই ফিরেএল বাঁশিওয়ালা, তবে এবার মোটেও রঙবেরঙের পোশাকে নয়, একরঙা সবুজ পোশাক। (সবুজ মানে ছিল শিকারি) তখন বাজে সকাল সাতটা। সে বাজানো শুরু করল তার মায়াবী বাঁশি। শহরের সব চার বছরের বড় শিশু বেরিয়ে এলো, গুণে গুণে ১৩০ জন শিশু (মেয়রের মেয়েও ছিল সেখানে)! বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুরে শিশুগুলো সম্মোহিত হয়ে এক পাহাড়ের ওপাশের গুহায় ঢুকে গেল, আর কোনদিন ফিরে এলো না। [তাদের নাকি নিয়ে যাওয়া হয় ট্রান্সিল্ভানিয়াতে]তিনজন  শিশু বেঁচে গিয়েছিল। একজন কানে শুনতে পেত না, তাই সুর শোনেনি। আর অন্যজন অন্ধ হয়ে জন্মাবার কারণে দেখতে পায়নি, কোথায় যেতে হবে। আরেকজন জ্যাকেট ফেলে গিয়েছিল বলে আবার ফিরে আসে, জ্যাকেট নিয়ে আবার গিয়ে দেখে সবাই চলে গেছে। তাদের কাছ থেকেই সবাই জানতে পেরেছিল এই কাহিনী।ঘটনার আরেক ভার্সনে বলা হয়, শিশুদের নিয়ে বাঁশিওয়ালা চলে যায় কোপেলবার্গ পাহাড়েরওপারে।হয়ত আপনি ভাবছনে, এ তো নছিক এক গল্প! কিন্তু না, ১২৮৪ সালের ঘটনার পরেই চার্চে Stained-glass জানালা লাগানো হয় ১৩০০ সালের দিকে। সেখানে এই করুণ ঘটনা লেখাছিল। জানালাটা বানাবার উদ্দেশ্যই ছিল শিশুদের স্মরণ করা। জানালাটা ধ্বংস হয়ে যায় ১৬৬০ সালে, পরে ইতিহাসবিদ হ্যান্স ডবারটিন ঐতিহাসিক লিখনি থেকে এই জানালা পুনঃনির্মাণ করেন। সেখানে দেখা যায়, বাঁশিওয়ালা আর সাদা পোশাকে শিশুদের ছবি।জানালার ওপর এ ছবিই আঁকা ছিল, সূত্র: অ্যানসেন্ট-ওরিজিন.নেটআমরা যেরকম ‘খ্রিস্টাব্দ’ বলি, যার মাধ্যমে খ্রিস্টের জন্ম স্মরণ করা হয়, তেমনই হ্যামেলিন শহরের সরকারি ঐতিহাসিক রেকর্ড শুরুই হয় এই ঘটনার রেফারেন্সে। প্রথমযে এন্ট্রি লিপিবদ্ধ আছ, সেটি হলো ১৩৮৪ সালের, সেখানেলেখা-“১০০ বছর হতে চলেছে আমাদের শিশুদের হারিয়েছে। ‘১৫৫৯ সালের বিস্তারিত বিবরণ থেকে ইঁদুরের ঘটনা পাওয়া যায়। তার আগ পর্যন্ত শিশুদের হারাবার করুণ ঘটনা প্রাধান্য পাওয়ায় আগের ইঁদুরের ঘটনা প্রাধান্য পেতনা।সবচেয়ে মজার ব্যাপার, যদিও এই ঐতিহাসিক লেখনি সংরক্ষিতআছে, তারপরেও, এই অদ্ভুত ঘটনার বাস্তবিক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় অনেকেই অস্বীকার করে বসেন যে আদৌ এ ঘটনা ঘটেছিল। এখন পর্যন্ত কেউই এর নিশ্চিত ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। কেউ বলেছেন, পাইড পাইপার আসলে এক শিশুকামী ছিল, তবে কীভাবে এতজনকে নিয়ে গেলে তার ব্যাখ্যা নেই। কারো মতে, ব্ল্যাক ডেথ মহামারিতে সব শিশু মারা যাওয়াতে গ্রামবাসী এই কাহিনী বানিয়েছে। কেউ বলেছে, এই শিশুদের ক্রুসেডে পাঠানো হয়েছিল, গ্রামবাসী যখন দেখল শিশুরা আর ফেরে নি, তখন এই ধাপ্পাবাজি গল্প ফেঁদে বসল নিজেদের বুঝ দিতে। [সেই ক্রুসেড ১২১২ সালে হয়েছিল বলে এই থিওরি বাদ দিতে হয়, অনেক আগের ঘটনা যে!]১৩৮৪ সালে হ্যামেলিনের ডেকান লুডের কাছে থাকা বইতে লাতিনে লিখা বাক্যে তার দাদীর ভাষ্যে নিজের চোখে দেখা হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার ঘটনা লিখিত ছিল। সতের শতকে এসে বইটি হারিয়ে যায়।১৪৪০ সালের Lüneburg পাণ্ডুলিপিতে জার্মান ভাষায় লিখা আছে, হ্যামেলিনের এক বাড়ির দেয়ালে খোদাই করে লিখা এই অনুচ্ছেদ-ANNO 1284 AM DAGE JOHANNIS ET PAULI WAR DER 26. JUNIDORCH EINEN PIPER MIT ALLERLEY FARVE BEKLEDET GEWESEN CXXX KINDER VERLEDET BINNEN HAMELN GEBORENTO CALVARIE BI DEN KOPPEN VERLORENঅর্থ: “১২৮৪ সালের ২৬ জুন, সেন্ট জন পল দিবসে হ্যামেলিনে জন্ম নেয়া ১৩০ জন শিশু এক হরেক রঙা বংশীবাদকের সম্মোহনে পেছন পেছন হারিয়ে যায় কোপেনের পেছনের কাল্ভারিতে।”কোপেন হ্যামেলিনকে ঘিরে থাকা পাহাড়। ১৫৫৬ সালে বলা হয়, বংশীবাদক আসলে ছিল স্বয়ংশয়তান। কালের বিবর্তনে আধুনিক যুগে এসে কেউ কেউ বলেছেন বাঁশিওয়ালা আসলে ছিলএক এলিয়েন, কোপেন পাহাড়ের আড়ালে রাখা মহাকাশযানে করে শিশুদের নিয়ে গিয়েছিল নিজেরগ্রহে, কারণ সেখানে জনসংখ্যা বাড়ানো দরকার ছিল।নির্দিষ্ট ফ্রিকুয়েন্সির সুর বাজিয়ে কখনো ইঁদুর কখনো শিশু আকর্ষণ করতে পারত তার যন্ত্র দিয়ে।বর্তমানের হ্যামেলিন শহরে যদি কখনো বেড়াতে যান তবে দেখবেন সেখানে বাঁশিওয়ালার মূর্তি, সাথে ইঁদুর।হ্যামেলিন শহরে বাঁশিওয়ালার মূর্তি;সূত্র: শাটারস্টক.কম২০০৯ সালে তারা এক টুরিস্ট ফেস্ট আয়োজন করে শিশুদের প্রস্থানের করুণ ঘটনার ৭২৫তম বার্ষিকীতে। যে বাড়িতে খোদাই করা ছিল ইতিহাসটি, সেটিকে এখন “র্যাটক্যাচার” এর বাড়ি বলে। প্রতিবছর ২৬ জুন পালন করা হয় র্যাট ক্যাচার দিবস। আছে পাইড পাইপার থিম রেস্তোরাঁ, আছে পাইড পাইপার মনোপলি! বর্তমানে আমরা যে ভার্সন পড়ি পাঠ্য বইতে সেটা মূলত উপকথা শুনে গ্রিম ভাই-দের পুনর্লিখন। যে রাস্তায় শিশুদের শেষ দেখা গিয়েছিল, সে রাস্তার নাম Bungelosenstrasse (“ড্রাম ছাড়া রাস্তা”), সেখানে কোনো মিউজিক বাজানো নিষিদ্ধ!হ্যামেলিনে চলছে উৎসব; সূত্র: শন গ্যালোপ/গেটি ইমেজেসবানানো হয় মুদ্রাও। আর বহু পরে বানানো মেইন গেটে খোদাই করা ছিল- “১৩০ শিশুকে জাদুকর নিয়ে যাবার ২৭২ বছর পর এই ফটক নির্মিত।” হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালাকে নিয়ে লিখা হয়েছে অনেক কবিতা, গল্প আর উপন্যাস, এমনকি ছায়াছবিও, অন্য দেশেও এর অনুকরণে রূপকথা চালু হয়ে যায়। কিন্ত হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার রহস্য আজও অমীমাংসিত। কী হয়েছিল সেই ১৩০ শিশুর ভাগ্যে?
Sources : 
Wkipedia & গণবার্তা
Anees (3 January 2015). “Was the Pied Piper of Hamelin real?” . UK: Ary Services. Retrieved 6 June 2015.
2. ^ “Deutungsansätze zur Sage – Ein Funken Wahrheit mit einer Prise Phantasie” . Stadt Hameln. Retrieved 29 December 2017.
3. ^ a b “Kirchenfenster” . Marktkirche St. Nicolai Hameln. Retrieved 29 December 2017.
4. ^ a b c “The Children of Hameln” . University of Pittsburgh. Retrieved 29 December 2017.
সৌজন্যেঃ Benedict Corrya Tom

ভুতূড়ে বাগান বাড়ি পর্ব 3 (শেষ পর্ব)

ভিতরে ঢুকে মাঝ বরাবর এসে দাড়াল জিশান।।
ওর মাথায় এখন বিভিন্ন প্রশ্ন আসতেছে। এই জিনিস টা ওর খুবই ভাল লাগে সমস্যা সমাধানের আগে নিজে ভেবে নেই কি হতে পারে।
ওর পায়ের নিচে শুধু মাটি নয় মাটির দিয়ে ডেকে রাখা হয়েছে একটা কাঠ কে আর তার উপর টোকা দিয়ে বুঝতে পারল নিছে গর্ত আছে ।
এখন সে ভাবছে কি থাকতে পারে এই গরতে নাকি অন্ধকার পাহাড়ের মত মাটির নিচেও ঘর আছে….?
এসব ভাবতে ভাবতে তুলে ফেলল কাঠ টা ।
নিচের দিকে তাকিয়ে চোখ লালা হয়ে গেল জিশানের । ইয়াবার পেকেট দিয়ে গর্ত টা ভরাট করা।
পেকেট গুলো বস্তা ভরে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাটা দিল জিশান ।
****
জামাল সাহেবের উঠানে অনেক লোকের ভিড় ।
জিশান গিয়ে দাড়াল ফারহান সাহেবের পাশে ।
কিছুক্ষন পর রফিক ও কামালের সাথে জামশেদ সাহেব কে ও দাড় করানো হল।।
ততক্ষনে পুলিশ এসে হাজির হয়েছে ।
ফারহান সাহেব কে সেলুট করে আসামী তিনজনের হাতে হাতকড়া লাগিয়ে গাড়িতে তুলতে যাবে পিছন থেকে জিশান বলে উঠল চলে যে যাচ্ছেন মুল ঘটনা তো অজানায় থেকে গেল ।
সে সব থানায় গিয়েও করা যাবে বলল পুলিশ জসিম ।
সেটা যদি হয় তাহলে আসল অপরাধী যে খোলা আকাশের নিচে থাকার সুযোগ পেয়ে যাবে।
কি বলতে চাচ্ছেন খুলে বলুন ।
বসুন বসুন সবই বলছি।
তার আগে বলুন গত তিন মাসে যে ইয়াবা গুলো আটক তা তো এই থানাতেই ছিল এগুলা এখন কোথায় ?
সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জিশানের দিকে ।
ইতস্ততভাবে উত্তর দিল সেগুলো থানাতেই আছে..!সেগুলার তো এই কেইসের সাথে সম্পর্ক নেই অযথা সময় নষ্ট করবেন না।
সম্পর্ক আছে বলেই তো বলছি আপনার কন্সটেবল কে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করুন ইয়াবা গুলো আছে কিনা…?
আলবাদ আছে আমি নিজে ওগুলা রেখেছি জোর গলায় বলল জসিম।
তাহলে এগুলা কি বস্তার মুখ খুলে ইয়াবাগুলো দেখাল জিশান । সবাই হা করে তাকিয়ে আছে।
কিছু বুঝতে না পেরে ফারহান সাহেব বললেন একটু খুলে বল না আর সহ্য হচ্ছে না যে।
মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল জসিম ।
ফারহান সাহেবের আদেশে চার পাশে গিরে দাড়াল পুলিশ।
জিশান বলতে শুরু করল ।
কেইসটা শুধু বাংলো নিয়ে নয় ।
জামশেদ সাহেব একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী ।
জসিম সাহেবের সাথে হাত করে ঢাকাতে তিনি তার ব্যবসা সুন্দর ভাবে চালাচ্ছিলেন ।
কিন্তু কয়েক মাস আগে জসিম সাহেব এই এলাকায় ট্রান্সফার হলে জামশেদ সাহেবের ব্যবসায় ব্যগাত ঘঠে ফলে তিনি এই এলাকায় চলে আসেন ।
এখানে এসে তিনি জসিম সাহেবের সাথে ঢিল করতে গেলে জসিম সাহেব উচ্ছ মুল্যে ইয়াবা গুলো বিক্রয় করে দেয় ।
অন্যদিকে রফিক ও কামাল দুজন জামাল সাহেবের শালা হন ।
বোনের সাথে কথা বলে তারা এই বাংলোটা দখল করতে চেয়েছিল ।
কারন সন্তান না হওয়ায় মিসেস রাবেয়া আর জামাল সাহেবের মধ্যে সম্পর্ক টা ভাল যাচ্ছে না তাই বাংলো টা দখল করে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি ।
কিন্তু ভয় দেখাতে গিয়ে ওই দিন কাজ করতে আসা লোকটির মৃত্যু হওয়ার পর যখন ওরা বাড়ি পিরছিল তখন জামশেদ সাহেব কে দেখে পেলেন ইয়াবা সহ । পুলিশ কে বলার কথা বলল জামশেদ ওদের কে এই ভয় দেখায় যে খুন করার কথা ও বলে দিবে।
তখন চোরে চোর মাসতুতো ভাই হয়ে যায়।
জামশেদ সাহেব তার ইয়াবা ঐ গর্তে রেখে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর সাথে দেখা করতে যায় সাথে লেখাটা ছাপানো ও হয় ।
কিন্তু ঐ ব্যবসায়ীর সাথে হিসেব মিলাতে না পেরে এক পর্যায়ে চলে আসে জামশেদ সাহেন।
এর পর যখন আমরা ঐ লোকটার সন্ধান করে না পায় তখন চলে আসার সময় উনার সাথে দেখা হয়।।
পুলিশের ভয় দেখালে উনি সব কিছু বলতে বাধ্য হন ।
দুর্ভাগ্য বসত রাতেই উনি ট্রেন থেকে পালিয়ে যায়।
বলে থামল জিশান ।
গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হল রাবেয়া আর জসিম সহ অন্য তিনজন কেও ।
জামাল সাহেব এসে বললেন আমাকে ক্ষমা কর বাবা আমি তোমার কাচ থেকে এই বিষয়টা লুকিয়ে ছিলাম যে আমার স্ত্রীর সাথে আমার সম্পর্ক ভাল নয় কিন্তু সে যে এমন করবে তা ভাবিনি ।
তুমি আমার চোখ খুলে দিলে ।
জামাল সাহেব কে শান্তনা দিয়ে জিশান বলল আংকেল “আমরা যা সব সময় দেখি তা মুল রহস্য নয় মুল সহস্য তো সেটাই যেটা লুকিয়ে থাকে “যা সবাই দেখে না ।
জসিমের দিকে চেয়ে ফারহান সাহেব বলল যে ইউনিফর্ম টা গায়ে দিয়েছ তার সম্মান রাখতে পারলে না। সরকার তোমাদের কে দেশের শান্তি রক্ষার জন্য মাসে মাসে বেতন দিয়ে যাচ্ছে আর তোমরা সরকারের টাকা খেয়ে সরকারের ক্ষতি করে চলছ ।
মুনা গিয়ে রাবেয়া বেগম কে বলল আপনার অসুবিধার কথা অন্তত নিজের স্বামীর সাথে শেয়ার করতে পারতেন । উনি সমাধাম বের করে দিতেন । কিন্তু লোভ আপনাকে অন্ধকরে রেখেছিল । যার ফলে নিজের স্বামীর ক্ষতি করতে ও আপনার হাত কাপেনি ।
ওদের কে নিয়ে চলে গেল পুলিশ ।
জামাল সাহেবের কাছে বিধায় নিয়ে
ফারহান সাহেব কে নিয়ে
জিশানও চলল তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে ।
(সমাপ্ত)
কেমন লেগেছে জানাতে ভুলবেন না।

ভুতুড়ে বাগান বাড়ি পর্ব – ২

সকালে নাস্তার টেবিল এসে বিষন্ন অবস্থায় পেল জামাল সাহেব কে ।
উনাকে শান্তনা দিতে জিশান বলে উঠল দেখুন আংকেল যা হবার হয়ে গেছে কিন্তু তার বিনিময়ে আমরা একটা ক্লু তো জানতে পারছি যে এটা কোন ভুতের কাজ নয় । আর যাই হোক ভুত তো আর চিঠি লিখতে যাবে না ।
তাহলে কেইস টা পুলিশের হাতে দিয়ে দিন উনিই বের করবেন বলল জামাল সাহেবের স্ত্রী রাবেয়া ।
পুলিশ তো একটা জামেলাই আছেই মৃত ব্যাক্তির মৃত্যুর রহস্য যে ওদেরই বের করতে হবে দেখি এর মাঝে যদি আমরা কোন সমাধান পাই বলল জিশান।
কাগজটা হাতে নিয়ে ভাবতে লাগল জিশান । কি করা যায় কোন ক্লুই তো মিলাতে পারছে না।
হঠাৎ তার চোখ গেল কাগজ টার ডান কোনাতে। কম্পিউটার দোকানের নামটা কাগজের কোনায় লেখাই আছে ।
নিজের আজান্তেই বলে পেলল অপরাধী যত বড়ই চালাক হোক একটা না একটা চিহ্ন রেখেই যায়।
জিশানের মুখে এই কথা শুনেই দাঁড়িয়ে গেল নাফিস আর হৃদয় ।
সমস্যার একটা কুল নিশ্চয় পেয়েছিস বলল নাফিস। হুম বলেই হাতে কাগজ টা নাফিসের দিকে এগিয়ে দিয়ে রেডি হতে বলল ওদের।
পুরো বাজার তন্য তন্য করে খুজে ও দোকানটা খুজে পেল না ওরা জামাল সাহেবর কাছে গেলে তিনিও কোন ঠিকানা দিতে পারলেন না ।
হৃদয়ের কাছে সব শুনে কাগজটা নিল মুনা ।
নিজের ল্যাপটপ অন করেই মুখ কাল করে পেলল সে। দোকান টার সন্ধান পেয়েছে গুগল ম্যাপে কিন্তু তা তো ঢাকায়।
অবাক হল সবাই । ঘঠনা এখানের আর লেখাটা লিখানো হয়েছে ঢাকা থেকে বড়ই অদ্ভুত লাগছে এই কেইস টা বলল রাফি ।
যতই অদ্ভুত হোক আমাদের কে এখন ঢাকায় যেতে হচ্ছে ।
কাগজটা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেন দরল নাফিস আর জিশান ।
পরের দিন ঢাকাতে গিয়েই খুজে বের করল দোকান টা।
বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে দোকানটা খুজে পেতে কোন অসুবিধে হয়নি ওদের ।।
দোকানে গিয়েই অবাক হয়ে গেল ওরা কারন এই মাত্র দোকান থেকে যে বের হল সে আর কেউ নয় জামশেদ সাহেব ই।
এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি বলল জিশান।।
জামশেদ সাহেব কে লক্ষে রেখে হাটছে ওরা ।
একটা তিনতলা বিল্ডিং এ এসে উপরে উটতে লাগল। দোতলার ৩১ নাম্বার রুমটায় ডুকে গেল জামশেদ সাহেব ।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।
কম্পিউটার দোকানটায় গিয়ে দাড়াল ওরা ।
হাতে সময় কম তাই সোজা বলে দিল এক ঘন্টা আগে যে লোকটি আপনার দোকানে এসেছিল সে কি টাইপিং করিয়েছে?
কোন লোক..? আর আপনারা কারা? আপনাদের প্রশ্মের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নয় ।বলল দোকানদার লোকটি ।
আপনাকে কি বাধ্য করাতে বলছেন রেগে গিয়ে বলল নাফিস ।
বাইরে গিয়ে ইন্সপেক্টর ফারহান সাহেব কে ফোন দিল জিশান ।
মামা আপনার সাহায্য খুবই ধরকার।
আমি তো অনেক দূর আছি, তোমরা কোথায়..? বলল ইন্সপেক্টর ফারহান।
ঢাকায় এসে বিপদে পড়েছি । আপনি আসতে আসতে অনেক দেরি হবে তার চেয়ে আপনি ঢাকার পুলিসস্টেশনে ফোন দিয়ে আমাদের কথা বলে ।
দোকানের নাম বলতে ভুলল না জিশান।
আচ্ছা বলে ফোন রেখে দিল ফারহান সাহেব।
জিশানদের এলাকার একজন সৎ পুলিশ অফিসার।
পনের মিনিট পর পাচজন পুলিশ এসে হাজির হল।
আমিই জিশান ।
কিছুই করার নেই বেচারা দোকানীর ।
কম্পিউটারের স্কিনে চোখ পরতেই তাড়াতাড়ি মুনা কে ফোন দিল জিশান তোরা সবাই ঠিক আছোস তো..?
ওপাশ থেকে কথার ধরন বুঝেই জিশান আতংকে উঠল।
সন্ধায় হৃদয় বাংলোতে গিয়েছিল এখনো পিরে আসে নি বলল মুনা।
কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে রাখল জিশান ।
অপেক্ষা কর কিছুক্ষনের মধ্যে একটা চিঠি পাবি যাতে লেখা থাকবে “
একজন কে নিয়ে গেলাম যদি তোমার ঐ গোয়েন্দা বাহিনী এখান থেকে না জায় তাহলে বাকি গুলো কেও হারাবে”।
আর শুন তোরা কোথায় যাওয়াত দরকার নেই বাসাই বসে থাক এমন কি জামাল সাহেব কেও বাইরে যেতে নিষেধ করল জিশান।
পুলিশ সব শুনে দোকানিকে নিয়ে গেল থানায় প্রয়োজন হলেই পাটিয়ে দিবে জামাল সাগেবের ঠিকানা দিয়ে দুই জন পুলিশ নিয়ে জামশেদ সাহেবের উদ্দেশ্যে গেল ওরা কিন্থ ৩১ নাম্বার রুমটি বন্ধ পেল ।
পুলিসস্টেশনের নাম্বার নিয়ে রাতেই রওনা দিল দুজন….
ট্রেন থেকে নেমে একটা গাড়ি নিয়ে বাংলোর সামনে গিয়ে থামল রাত তখন তিনটা।
গাড়িওয়ালার বাড়া চুকিয়ে দিয়ে ভিতরে ডুকল ওরা দুজন ।
গাড়িওয়ালা নিশ্চয় এই এলাকার নয় নইলে এত রাতে এখানে আসত না হাজার টাকার বিনিময়েও বলল নাফিস ।
ঠিক বলেছিস তুই কিন্তু এখন একটু সাবধান হো ।
আশা করি এত রাতে কেউ ভুতের ভয় দেখাবে না কিন্তু
ফাদ পেতে রাখতে তো পারে ।
এমন সময় মুনার ফোন পেয়ে একটু অবাক হলই দুজন ।
তোর কথা ঠিক প্রমান করে দিয়ে গেল একটু আগে কিন্তু
দুর্ভাগ্য বসত আমরা লোকটাকে দরতে পারে নি। বলল মুনা ।
তোদের দরতে হবে না এক্ষুনি ঘরে ডুক চিৎকার দিয়ে বলে উঠল জিশান ।
তখনই হঠাৎ মিউজিক শুরু হয়ে গেল।
শব্দটা অনুসরন করতে লাগল জিশান কিন্তু মিউজিক যে মাটির নিচ থেকেই আসছে ।
এমন সময় কিছু দূরে সাদা কিছু একটা দৌড়ে চলে গেল।
কিছুক্ষন পর আউউউ করে চিৎকার দিয়ে মাটিতে পরে গেল নাফিস……

দৌড়ে নাফিসে কাছে গেল জিশান । মাথায় আগাত লেগেছে ।
পকেট থেকে ফোন বের করে মুনা কে ফোন দিতে যাবে এমন সময় ইটের স্তুপের পাশ থেকে কেউ একজন দৌড় দিল । কিছু বুঝে উঠার আগে জিশানও ছুটল লোকটির পিছন পিছন ।
কিন্তু হঠাৎ গাছের শিকড়ের সাথে হোছড় খেয়ে পরে গেল সে । উঠে দাঁড়িয়ে লোকটিকে আর দেখা গেল না।
নাফিস কে নিয়ে জামাল সাহেবের বাড়িতে পিরল ।
পরদিন সকাল…..
এখনো কারো ঘুম ভাঙে নি ।
ইন্সপেক্টর ফারহান সাহেব কে ফোন দিল জিশান ।
আজকেই এখানে আসতে হবে বলে দিল।।
নাফিসের আগাতটা বেশি নয়, তবুও রেষ্ট নেওয়া দরকার ।
সকাল সকাল বেরিয়ে পরল জিশান ।
কাল রাতে যেখান থেকে লোকটিকে হাতের নাগালের বাইরে করেছিল সেখানে এসে থেমে গেল ও

পিছন থেকে কেউ একজন ওর মুখ চেপে ধরেছে ।
হাতটা গুরিয়ে সোজা লোকটির বুড়ির উপর ড্রাইভ করতে যাবে কিন্তু তার আগেই ধাক্কা দিয়ে নিচের গর্ততে ফেলে দিল ওকে ।
চোখ বন্ধ করে চিৎকার দিতে যাবে এমন সময় থেমে গেল সে।
যা ভেবে ছিল তা তো হয় নি ।
একবারে সুস্থদেহে নিচে পড়ে আছে ও ।
দুটো লোক এসে হাত পা বেধে একটা অন্ধকার রুমে নিয়ে আসল জিশান কে ।
রুমটা অন্ধকার বসে আছে জিশান কিন্তু একা নয় তার পাশে হাত পা বাধা অবস্থায় হৃদয় ও রয়েছে ।
লোকগুলো নিশ্চয় এতক্ষনে চলে গেছে ।
মশারাও আজ খেপেছে,মনে হয় কত কালের শত্রুতা ওদের সাথে সব রক্ত চুষে নিবে যেন ।
যে ছেলে দুটি তোর হাত লা বেধে ছিল তাদের নাম রফিক ও কামাল অসহায় ভঙ্গিতে বলল হৃদয়।
তুই কি করে জানলি বল জিশান ।
ওদের কথা বার্তা শুনে বুঝলাম।এখানে এভাবে বসে থাকলে মশার কামড়েই মারা যাব । এই জাহান্নাম থেকে হতে হবে নাকি ।
ওদিকে
তন্য তন্য করে খোজা হচ্ছে জিশান আর হৃদয় কে। ফারহান সাহেব এসে গেছে ।
জামশেদ মিয়া কে পাওয়া যাচ্ছে না এলাকায় ।
দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে নাফিস ।
আমার পিছনে গিয়ে পকেট থেকে ছুরিটা বের কর বলল জিশান।।
একেতো নিজের হাত বাধা তার উপর আবার পিছনের দিকে তাই অনেক কষ্টে ছুরিটা বের করে সাবধানে বাধন টা কেটে দিল হৃদয় ।
দুজনেই উঠে দাড়াল ।
একসাথে সামনের দিকে পা বাড়াল ।
নাফিস কে একটা ফোন কর বলল হৃদয়।
এখান থেকে বের হয়ে করা**************
কথা শেষ হওয়ার আগেই কেউ বলে উঠল “কিন্তু সেই সুযোগ তোমাদের কে দিচ্ছি না”
বলেই দুটি মাঝ বয়সের ছেলে ছুটে এল ওদের দিকে।
বামদিকে গুরে নিজেকে দরতে আসা লোকটির পেটে ঘুসি টা বসিয়ে দিল জিশান ।
হৃদয় ঘুসি মারতে ব্যার্থ হলেও আত্বরক্ষা করতে পেরেছে ফলে লোকটি গিয়ে পড়ল পাশে রাখা মাটির স্তুপের উপর ।
আরো কয়েকটা ঘুসি বসিয়ে দুজনের হাত পা বেধে নাফিস কে ফোন দিল জিশান।
ওদের কে বাংলোতে আসতে বলে গর্তের মুখ খুজতে লাগলল ওরা ।
দু’জন বেরিয়ে এল গর্ত থেকে ।
ফারহান সাহেব কে দেখে খুশি হল জিশান।
লোক দুটো কে নিয়ে জামাল সাহেবের বাড়িতে গেল ওরা ।
রয়ে গেল শুধু জিশান।।
গর্তটার ভিতরে আবার ডুকল সে ।
উঠে আসার সময় পায়ের নিচে মাটির বদলে শক্ত কিছু লক্ষ করেছিল সে সবাই থাকায় এই বিষয়ে কিছু বলে নি সে ।
(চলবে)

ভুতুড়ে বাগান বাড়ি পর্ব – ১

গল্প:- #বাগান_বাড়ি পর্ব ১

ঘড়ির কাটা যেন চলতে চাচ্ছে না ।
স্কুল মাঠে বসে আছে নাফিস আর হৃদয় ।
কিন্তু কারো শুন্যতা বিরাজ করছে তাদের মাঝে ।
অধীর আগ্রহে বসে আছে কারো জন্য ।
কিন্তু কে সে..? যার জন্য নিরবতার অবসন ঘঠছে না ।
ঐ তো আসছে বলল হৃদয় । গুরে তাকাল নাফিস,
জিশানের দিকে তাকিয়ে চোখ লাল করে রাখল সে ।
কিরে ব্যাঙের মত ফুলে আছিস কেন বলল জিশান ।
জিশানের দিকে তাকিয়ে উত্তর না দিয়েই বলল নাফিস
কয়টায় আসার কথা ছিল তোর…?
মানলাম একটু দেরু হয়েছে তাই বলে কি রাগ দেখাতে হবে…বসতে বসতে বলল জিশান ।
আচ্ছা বল কেন আসতে বললি (হৃদয়)
একটা ভুতুরে বাড়িতে যেতে হবে বলল জিশান ।
তুই বলছিস এই কথা (নাফিস)
কেন সন্দেহ আছে নাকি উৎসুকভাবে নাফিসের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল জিশান ।
অবশ্যই আছে , ভুত বলতে কিছু আছে নাকি..?তুই তো ভুতের গল্পও পড়িস না ভুত বিশ্বাস তো দুরের কথা আর সেই তুই কিনা বলছিস ভুতুড়ে বাড়ি..! বলল নাফিস ।
কেন তোরা কি ভুতে বিশ্বাস করছ নাকি? (জিশান)
অবাস্তব কে বিশ্বাস করবে কে..?বলল হৃদয় ।
অবাস্তব হলেও আমাদের সমাজে এমন বহু লোক আছে যাদের রাতের ঘুম হারাম হয় অবাস্তব এই ভুতের ভয়ে ।
তবুও ভাবলাম যাব। একবার দেখেই আসি না ভুত বেটা দেখতে কেমন হয় !! (জিশান)
আচ্ছা হঠাৎ তোকে এই ভুতের ঠিকানা কে বলল জিজ্ঞাসা করল নাফিস ।
গতকাল রাতেই পেলাম। অপরিচিত
নাম্বার থেকে ফোন আসল ।
ফোনটা ধরে কানে লাগানোর আগেই লম্বা একটা সালাম পেলাম । সালামের জবাব দিয়ে জিজ্ঞাস করলাম কে তখন লোকটি আমাকে তার ঠিকানা দিল ।
লোকটির বাবার আমলের বিশাল একবাড়ি। তার ইচ্ছা ছিল একটা হোটেল করবন সেখানে । তাই বাড়িটাকে পরিষ্কার করতে লোক লাগিয়ে কাজ করালেন ।
কিন্তু সেই দিন থেকেই বাড়িটির ভিতরে অদ্ভুত সব কিছু ঘঠছে ।রাতে কেউ সেখানে গেলেই ২য় বার যাওয়ার সাহস পায় না ।তাছাড়া আরো অদ্ভুত কিছুও নাকি হচ্ছে ঐ বাড়িটায় । তাই আমাদের সেখানে গিয়ে একবার দেখে আসতে বলল লোকটা। একটানা কথাগুলো বলল জিশান ।
আচ্ছা লোকটি আমাদের ঠিকানা কোথায় পেল বলল হৃদয় ।
আমাদের ঠিকানা আমার মামা দিয়েছেন।।(জিশান)
তুই কি ভেবেছিস..? যাবি সেখানে..? (নাফিস)
লোকটি যখন এত করে রিকুয়েস্ট করেছে তখন তো যেতেই হয় (জিশান)
তাহলে আর দেরি কেন চল কাল সকালেই যাওয়া যাক উৎসুকভাবে বলল হৃদয় ।
আচ্ছা চল কালই যাব । আর মুনা ও রাফিকেও জানিয়ে দিছ। কাল সকালেই রওনা দিব, বলল জিশান ।
তারপর যে যার বাসায় চলে গেল ।
পরের দিন……
জায়গাটার নাম অম্বলপুর। আসতে আসতে অনেক বিকেল হয়ে গেছে স্টেশনে নামতেই জিশানের ফোনটা বেজে উঠল ।
স্যার আপনারা কোথায় …? বলল কলদাতা
এইত এইমাত্র গাড়ি থেকে নামলাম উত্তর দিল জিশান ।
একমিনিট স্যার আমি আসছি বলে ফোন কেটে দিল লোকটি ।
কিছুক্ষণ পর একজন লোক এসে হাজির হল জিশানদের সামনে ।
আপনি কি মি. জামাল…?আগন্তুক কে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ম করল জিশান ।
হ্যা আমি…
কিন্তু আপনারা…. বলতে গিয়েও থেমে গেল জামাল সাহেব।
আমরা কি…?বলল নাফিস
না…মানে,ভেবেছিল আরো বড় কেউ হবেন কিন্তু আপনাদের দেখছি সবই ছেলেমানুষ…মুখ কাছুমাছু করে উত্তর দিল লোকটি।
সে পরেই দেখা যাবে… এখন চলুন বাসায় বলল জিশান ।
হ্যা চলুন চলুন ।
একটি টেক্সি দাড় করিয়ে উঠে পড়ল ওরা ।
বাড়ি পৌছাতে আরো বিশ মিনিট লাগল ।
এটা জামাল সাহেবের বাড়ি বাংলো টা এখান থেকে কিছুটা দূরে।
আপাদত জিশানরা এখানেই থাকবে রাতে বাংলোতে থাকতে দিলেন না জামাল সাহেব ।
ফ্রেশ হয়ে এল ওরা জামাল সাহেব ওদের জন্য খাবার টেবিলে অপেক্ষা করছেন ।
এসে বসল জিশান,নাফিস,হৃদয়,মুনা ও রাফি ।
রান্না কি আপনার স্ত্রী করেছে..? জিজ্ঞাসা করল রাফি.।
রাফির দিকে তাকিয়ে মৃদুসুরে হ্যা বলল জামাল সাহেব ।
খুব ভালই রান্না করতে পারে।
আচ্ছা আপনাদের বাড়িতে কে কে আছে..? হঠাৎ প্রশ্ম করল জিশান।।
বাড়িতে তেমন কেউ থাকে না।আমি দেশের বাইরে থাকতাম আর আমার স্ত্রী বাপের বাড়িতেই থাকত ।
কোন সন্তান আমাদের।
কিন্তু এবার ভাবছি আর যাব না দেশের বাইরে বাংলোটাকে ঠিক করে একটা হোটেল দিলে বাকি জীবনটা চলে যাবে ।
কিন্তু যেদিনই আমি বাংলোতে লোক পাঠায় ওটা পরিষ্কার করতে সেইদিন থেকেই বাংলোতে সমস্যা শুরু হয় ।
একদিন কাজ করতে করতে রাত হয়ে যায়। আমি নিজেই সেদিন সেখানে ছিলাম। রাত আট টা হবে, তখন হঠাৎ কোথা থেকে কান্নার সব্দ ভেসে আসছে।
পোড়া মাংসের গন্ধ নাকে লাগল। কিছুক্ষন পর একটা সাদা পোশাক উড়ে এসে আমার গায়ে পড়ে পরে কি একটা আমার পাশ দিয়েই দৌড়ে চলে যায়।।
ভয়ে সেদিনের পর আমি আর ঐ বাংলোতে যায় নি
এর মাঝে আমার ভাই ও আরো অনেক লোক গিয়েছিল সবাই একই কথা বলল ।
এমন হয়েছে যে রাতে কেউ ঐ রাস্তা দিয়ে হাটতে ও ভয় পায় ।
হালকা নাস্তা করে বেরিয়ে পড়ল বাংলোর উদ্দেশ্যে ।
পড়ন্ত বিকেল । সূর্যটা পশ্চিম দিকে হেলে পড়লেও একেবারে লুকাইনি ।
পশ্চিমের আকাশটাকে রাঙিয়ে এখনো আকাশে ভাসছে ।
পাখিরা পিরছে আপন বাসায় । হালকা বাতাস বইছে ।
সব মিলিয়ে এক রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে ।
বাংলো টা জামাল সাহেবের বাড়ি থেকে বেশু দূরে নয় ।
অনেক বড় এরিয়া নিয়ে বাড়িটা তৈরি করেছে। বিভিন্ন ধরনের গাছ গাছালিতে ভরা বাগান রয়েছে ।
মাঝখানে একটা দোতলা দালান । সামনে কাঠ-কাঠি পরে আছে । বাড়িটা বেশ মজারই।
কাজ থাকাই জিশানদের রেখে চলে গেল জামাল সাহেব। জিশানদের উপর ভরসা করতে পারেন নি উনি। উনার মতে এই ছোট্ট ছেলেগুলো কি করবে অযথা নিজেদের বিপদ ডেকে আনার আগে ছাইছিলেন বিদেয় করে দিতে কিন্তু এত রিকুয়েস্ট করে আবলেন যাভে বলে মনে হয়না তাই উনি ও কিছু বলেন নি।
চার দিক টা গুরে দেখল জিশান।
সন্ধ্যা হয়ে আসাই সেদিনের মত চলে গেল । তেমন কোন ক্লু পেল না।
রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগল জিশান…সত্যিই কি এটা কোন ভুতের নাকি কেউ ভুত সেজে ভয় দেখাচ্ছে।
কেনই বা তা করবে এলাকার একজন সম্মানিত ব্যাক্তি জামাল সাহেব কেউ তার কাজে বাধাও দিচ্ছে না ।
এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল জিশান।
সকালে ঘুম ভাঙল নাফিসের ঢাকে ।
নাস্তা করতে বসে আবার জিজ্ঞাসা করল জিশান
কেউ কি আপনার কাজে বাধা দিচ্ছে আংকেল…?
না তো এমন কেউ তো নেই । তাছাড়া আমার জায়গা আমি যা ইচ্ছা করব তাতে বাধা দেওয়ার জন্য কে আসবে ।
আচ্ছা আপনি এক কাজ করুন কাজের জন্য লোক ঠিক করে কাজ শুরু করে দিন ।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরল ওরা । আসার সময় ছাবিটা নিয়ে আসল জিশান।।
বাংলোতে এসে ভিতরে ডুকতে যাবে এমন সময় পিছন থেকে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করে গুরে দাড়াল জিশান ।
জিশানের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে লোকটি জিজ্ঞাসা করল তোমরা কারা বাবা এলাকায় তো আর দেখিনি মনে হয়?
কিছু বলতে জাচ্ছিল নাফিস তাকে থামিয়ে দিয়ে জিশান বলল জি আমরা এখানে নতুন এসেছি কাকার বাড়িতে বেড়াতে ।
ও আচ্ছা এই বাংলো তে যাচ্ছ কিছু জানো কি বলল লোকটি ।
কি জানার আছে একটা বাংলো সম্পর্কে অবাক হওয়ার ভান করে বলল জিশান ।
এই বাংলোই ভুত আছে। গত কয়েক দিনে এখানে মানুষজন অদ্ভুত সব কিছু ঘঠতে দেখেছে। তাই একটু সাবধানে থেক বলে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল লোকটি।
পিছন থেকে ডাকদিয়ে বলে উঠল জিশান, আংকেল আপনার নামটা কি বললেন না তো..
আমার নাম জামশেদ ।বলেই হেটে চলে গেল।
অদ্ভুত লোকত হঠাৎ এসে হঠাৎই চলে গেল বলে ভিতরে প্রবেশ করল ওরা।
তালা খুলে ভিতরে ডুকল ওরা। সব গুলো রুম গুরে গুরে দেখল । বেশ অগোছালো সব কিছু ।
কাঠখড় সব ছড়িয়ে ছিঁড়িয়ো আছে।
ছাদের উপরে উঠে এল ওরা।
কিছুক্ষণ পর চারজন লোক বাংলোতে আসল সাথে জামাল সাহেব ।
লোকগুলো কে কাজে লাগিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছিল জামাল সাহেব, পিছন থেকে জিশানের ডাক শুনে দাঁড়িয়ে গেল।
একসাথে বাড়ি যাওয়া যাক বলল জিশান।
আচ্ছা আংকেল জামশেদ কে..?
ঐ তো একটু পরেই ওর বাড়ি কেন কি হয়েছে ।
না তেমন কিছু না আজ দেখা হয়েছিল তাই আরকি।
পরদিন সকাল। জামাল সাহেবের উঠানে লোকজনের কোলাহল ।
চোখ কচলাতে কচলাতে বাইরে এল জিশান। কান্নার শব্দ শুনা যাচ্ছে।
জিশান কে দেখেই এগিয়ে গেল জামাল সাহেব জিশানের হাতে একটা কাগজ দিয়ে বলল কাল যাদের কাজ করতে এনেছিলাম তাদের একজন বলেই উঠানের দিকে আঙুল তুলে দেখাল।
চমকে উঠল জিশান। একটা মানুষকে এভাবে খুন করাও সম্ভব..?
কিছুক্ষন পর পুলিশ এল লাশটা নিয়ে চলে গেল।
জামাল সাহেব কে বলল আর জেন কোন লোককে ঐ বাংলোতে কাজের জন্য না আনে ।
গত রাতে ও জিশান ওখানে গিয়েছিল কিন্তু কিছুই তো দেখতে পাই নি ।
হাতের কাগজটির দিকে তাকাল সে।
খুলে দেখল ভিতরে লেখা : বাংলোটার কথা ভুলে যাও পরিত্যাক্ত হিসেবে ছেড়ে দাও ।
এর মধ্যেও হাসি ফুটল জিশানের মুখে ।
ভুতে তো আর চিঠি লিখতে যাবে না …..
(চলবে)…..

নরকের ৭২ ডেমন । পর্ব ৭

কিং সলোমন এর বশকৃত ৭২ ডেমনের উপর সিরিজের আর সপ্তম পর্ব। আজকের ডেমন এয়মন 
৭২ ডেমনের সপ্তম ডেমন হল এয়মন
এয়মন অনেক গুলো নামে পরিচিত যেমন, অ্যামন, আমুন, নাহুম ইত্যাদি। সে এয়মন নামেই বেশি পরিচিত।
এয়মন বা “অ্যামন” নামটি এসেছে মিশরীয় দেবতা “আমুন” থেকে। আর তার নাম
“নাহুম” শব্দের অর্থ “যে আগ্রহ বা উৎসাহে প্রভাব বিস্তার করে” । ডেমন
এয়মন বা মিশরীয় দেবতা আমুন
শুনলে মনে হবে নাম দুইটাতে শুধু মিলই আছে কিন্তু আসলে দুইজন একই । তাদের দুইজনের
বর্ণনায় অনেক মিল পাওয়া যায়।
মিশরীয় দেবতা “আমুন” বা “আমুন-রা” প্রাচীন মিশরীয়দের একজন শক্তিশালী
দেবতা।আমুন ছিল বাতাসের দেবতা। আমুন মিশরীয় সূর্যদেবতা “রা” এর সাথে মিলিত হয়ে
“আমুন-রা” নাম লাভ করে। আমুন শব্দের অর্থ “দ্য ইনভিজিবল” । সে নিজেকে দেবতাদের
রাজা দাবি করত। এছাড়া সে রহস্যের দেবতা এবং 
“লর্ড অফ সাইলেন্ট” নামেও পরিচিত। মিশরীয় প্যাগানিজমে আমুন নীল চামড়া
বিশিষ্ট মানুষের রূপে থাকে।
পরবর্তীতে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোনোলজিতে এয়মন কে ডেমন হিসেবে দেখানো হয়। এয়মন কে বিভিন্ন বইয়ে পাওয়া যায় এর মধ্যে “ডিকশোনারিয়েট ইনফার্নাল” ও
“লেসার কী অফ সলোমন” অন্যতম।
এয়মন কে কিং সলোমন এর বশকৃত ৭২ ডেমনের একজন বলা হয়। সে একজন মার্কুইস
বা গণ্যমান্য শ্রেনীর। অনেক বইয়ে তাকে “প্রিন্স” ক্যাটাগরি তে ফেলা হয়।
এয়মন খুবই শক্তিশালী ডেমন।
তাকে কিছু বইয়ে
এয়মন কে পশ্চিমের আবার কিছু বইয়ে পুর্বের শাসক দেখানো হয়েছে। সে হেল এর
৪০ লিজিয়ন ডেমন শাসন করে।
এয়মন একজন ফলেন এঞ্জেল। এয়মন হেল এর ৮ জন সাব প্রিন্স দের একজন।
মধ্য এপ্রিল এর পর থেকে এয়মন সবথেকে শক্তিশালী থাকে। এছাড়া ২১-৩১ মে এবং জুন ২৭-১ জুলাই তাকে
ডাকার জন্য উপযুক্ত।
এয়মন একজন ডে ডেমন অর্থাৎ তাকে দিনের বেলায় ডাকতে হয়। সকাল ৯ টা এবং
বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত তাকে ডাকার উপযুক্ত সময়। তাকে ডাকতে লাল এবং
সোনালী মোমবাতি, সোনা, রুপা, যষ্ঠী মধু ইত্যাদি লাগে।
এয়মন যখন আসে তখন তাকে নেকড়ের রূপে কিন্তু সাপের লেজে দেখা যায়। তাকে
সবথেকে বেশি দেখা যায় নাকি কাকের মাথার সাথে নেকড়ে বা কুকুরের দাঁত বিশিষ্ট মুখ
অবস্থায়। সে মুখ দিয়ে আগুন বের করে।
একজন এক্সপার্ট ডেমন সামনকারী বর্ণনা করেছিলেন এয়মন সম্পর্কে। সে এয়মন এর আসল রূপ দেখতে পেরেছিল। সামনকারীর বর্ণনা অনুযায়ী এয়মন লম্বা, শক্তিশালী,
সুন্দর মানুষ। তার চামড়া ও চুল উজ্জ্বল এবং তার শরীর থেকে পজিটিভ এনার্জি বের হয়।
তার কাধে একটা সুন্দর বাজপাখি থাকে।
এয়মন এর ইমোশন কন্ট্রোল করার ক্ষমতা আছে। এয়মন দুইজন বন্ধুর মধ্যে যদি শত্রুতা থাকে তবে তা দূর করতে পারে। সে
ম্যাজিশিয়ান কে সম্পদ, সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য দান করতে পারে।
এয়মন ম্যাজিশিয়ান কে তার মনের আসল ইচ্ছার কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
এয়মন সবকিছু জানে। সে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ বলতে পারে। এয়মন দুটো মানুষের মধ্যে
ভালোবাসার সৃষ্টি করতে পারে। সে শেইপশিফটিং ক্ষমতা দিতে পারে। সে মানসিক রোগিদের
ভালো করতে পারে। এছাড়া সে ভুডু ম্যাজিক ও স্বপ্নের বর্ণনায় সাহায্য করে।
১ম ছবি এয়মন এর সিল ও অন্যটা তার কাল্পনিক ছবি।   


সত্য ভুতের ঘটনা নিয়ে লেখা – সব ভুতুড়ে

হ্যালো বন্ধুরা আশা করি সবাই ভালো আছেন।
আজ হাজির হয়ে গেলাম সেই মানের একটি ভুতের গল্প গুচ্ছ নিয়ে চলুন পড়ে নেওয়া যাক।

আপনি বইটিতে পাবেন অসাধারন কিছু গল্প যা একটু হলেও গায়ের লোম খাড়া করে দিতে সক্ষম।
চলুন তাহলে পড়ে নেওয়া যাক সব ভূতুড়ে বইটি।

আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে।
আজকের মত বিদায় দেখা হবে অন্য কোন দিন নতুন কিছু নিয়ে।

সৌজন্যে: সাইবার প্রিন্স

নরকের ৭২ ডেমন। পর্ব ৬

কিং সলোমন এর বশকৃত ৭২ ডেমনের উপর সিরিজের আর ষষ্ঠ পর্ব। আজকের ডেমন
“ভেলফোর”
6. Valefor
৭২ ডেমনের ৬ নং
ডেমন হল “ভেলফোর” । ভেলফোর আরও অনেক নামে পরিচিত যেমন ভেলফার, মালাফার, ভালাফার,
মেলফার ইত্যাদি। তবে সে “ভেলফোর”  নামেই
বেশী পরিচিত।
ডেমন হওয়ার আগে
সে ছিল এঞ্জেল। সে একজন ফলেন এঞ্জেল। সে কপার সিলযুক্ত অর্থাৎ সে ডিউক বা সর্দার
শ্রেনীর। সে হেল এর উত্তর পশ্চিম অংশের শাসক। তার অধীনে ১০ লিজিয়ন ডেমন আছে।
“ভেলফোর”  একজন ডে ডেমন অর্থাৎ সে দিনের বেলায় বেশি
সক্রিয়। তাকে ডাকার উপযুক্ত সময় দিনের বেলা। ১৫-১৯ এপ্রিল এবং ১১-২০ মে সে সবথেকে
বেশি সক্রিয় থাকে। তাকে ডাকার দিন হচ্ছে শুক্রবার। তাকে ডাকতে গোলাপী মোমবতি,
আগুন, টিন, ড্যানডেলিয়ন গাছ ইত্যাদি লাগে।
ভেলফোর কে ডাকলে
সে তার সামনকারীর সামনে তার ডেমনিক রূপে আসে। তার বডিটা সিংহের আর মাথাটা চোরের
অথবা গাধার মাথা হয়। তাছাড়া তার একটা দৈত্যাকার রূপ ও দেখা যায় সেটা হল অনেকগুলো
সিংহ এর অবয়ব সেইসাথে একটা মুখের ভেতর আরেকটা মুখ, গাধার মত কান এবং শয়তানের মত
লেজ। তার হিউম্যান ফর্ম হল সবুজ চামড়ার মানুষ যার দুইটা সাদা পাখা আছে । তাকে
দেখতে ডাইনী এবং এঞ্জেল এর মিশ্রণ এর মত লাগে।
বিভিন্ন বইয়ে
ভেলফোর কে চোর হিসেবে দেখানো হয়েছে। সে চোরেদের সর্দার। সে “সারাগানটাস” নামক ডেমন
এর অধীনে কাজ করে। তাকে “লেসার কী অফ সলোমন” বইয়ে চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানির ডেমন
হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাকে ডাকা হয় মানুষ কে চুরিবিদ্যায় পারদর্শী করানোর জন্য। সে
মানুষকে চুরিবিদ্যায় জ্ঞান দিতে পারে সেইসাথে তাকে চতুরতা ও দ্রুতগতি দান করে যাতে
সে সফল হতে পারে। “ভেলফোর” এর কাছ থেকে শক্তি পেয়েছে এমন কিছু লোকের দাবী শক্তি
পাওয়ার পর থেকে তাদের হাত, চোঁখ ও মাথা আগের থেকে অনেক শার্প হয়ে গেছিল। তারা চুরি
করার জন্য পারফেক্ট হয়ে গেছিল। তবে একথা প্রচলিত যে “ভেলফোর” ততক্ষণ ই তোমার সাথে
থাকবে যতক্ষণ না তুমি ধরা পড়। ধরা পড়লেই সে সামনকারী কে ছেড়ে চলে যায়।
বেশিরভাগ ডেমন
কে যখন ডাকা হয় তখন সামনকারী একটা প্রটেকটিভ সার্কেল এর মধ্যে থাকে যাতে ডেমন এর
ভিতরে এসে তার ক্ষতি করতে না পারে। কিন্তু “ভেলফোর” সামনকারীকে বলে সেও তার সাথে
চুরি করতে যেতে চায়। কিন্তু ডেমনকে বিদায় করে ডেমন ওয়ার্ল্ড এর পোর্টাল বন্ধ না
করে সার্কেল এর বাইরে যাওয়া বোকামী। কারণ ভেলফোর এটা করে যাতে সামনকারী বাইরে বের
হয় এবং সে ক্ষতি করতে পারে।
ভেলফোর একজন
যাদুকর কে শেখায় কিভাবে তার পরিচিত জন দের কন্ট্রোল করতে হয় এবং তাদের নিজের প্রতি
লয়্যাল করতে হয়। সে গ্রহ নক্ষত্র গণনায় পারদর্শী এবং স্বপ্নের বর্ণনাও দিতে পারে।
অনেকের মতে সে অনেক এঞ্জেল দের মারতে পারে। তাকে এঞ্জেল তাড়াতে ডাকা হয়।
ভেলফোর নিজে
যেমন নরকের এক ভয়ংকর যোদ্ধা তেমন সে একজন যাদুকর কে ভয়ংকর জন্তুতে পরিণত করতে
পারে। সে নরহত্যা ও গুপ্তচরবৃত্তিতে সাহায্য করে। সে মৃতদেহ গোপন করতেও সাহায্য
করে। সে যাদুকর কে হামলাকারী যেকোন স্পিরিট কে ধ্বংস করতে পারে এবং যাদুকর এর ম্যাজিকাল
ক্ষমতা কে আরও দৃঢ় করতে পারে। সে যাদুকর কে চতুর করে। এছাড়া তার ক্ষমতা আছে হারিয়ে
যাওয়া জিনিস খুঁজে বের করার।
বলা হয়ে থাকে এই
ডিউক অফ হেল “ম্যাজিকাল ঔষধ” এর একজন এক্সপার্ট। সে ম্যাজিকের মাধ্যমে রোগ সারাতে
পারে । যাদুকর এর যেকোন রোগ সে এই দিয়ে সারায় এবং যাদুকর কে সে কিছু কিছু শিক্ষা
দান করে এ বিষয়ে।
১ম ছবি “ভেলফোর”
এর সিল ও অন্যটা তার কাল্পনিক চিত্র