Mystery

The last day on earth of dinasours

প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বা ৬.৬ কোটি বছর পূর্বেকার কোনো এক সকাল বেলা, সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই “সেন্ট্রাল মেক্সিকো”-র সমতল ভূমিতে খাদ্যের সন্ধানে জড়ো হয় শত শত বিশালাকার অ্যালামোসোরাস। এদিকে ঠিক সেসময়ই উত্তর আমেরিকার উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে খাদ্যের সন্ধানে একটা টিরেক্সের বাসার উপরের আকাশে বিশাল বিশাল ডানা মেলে চক্কর দিচ্ছে ক্যাটজাল্কোঅ্যাটলাস। গত রাতেই বেশ ক’পশলা ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। তাতে বনভূমিটা আরো সজীব হয়ে উঠেছে। বেশ কিছু সময় আগেই খাদ্যের সন্ধানে বেড়িয়ে পড়েছে মা টিরেক্স। এ সুযোগে টিরেক্সের বাসায় হানা দেয় ক্যাটজাল্কোঅ্যাটলাস। ছোট ছোট টিরেক্সের ছানাগুলোকে ধরে একের পর এক গিলতে থাকে সে।

এদিকে, মা টিরেক্সটা ঠিক যখনই এঙ্কিলোসোরাসটাকে মাটিতে ফেলে থাবা বসাতে যাবে ঠিক তখনই অন্য একটা থেরোপড এসে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেয়। ব্যাপারটা নিয়ে তুমুল ঝগড়া বেঁধে যায় তাদের মাঝে, একপর্যায়ে মা টিরেক্স ওই থেরোপডকে যুদ্ধে হারিয়ে এঙ্কিলোসোরাসের মৃতদেহটা মুখে করে তার বাসার দিকে পা বাড়ায়। বাচ্চারা আজ বেশ ভালোভাবেই সকালের খাবারটা সেরে নিবে!
.
ঠিক সেসময়টাতেই, এখান থেকে ১২ হাজার কি.মি. দূরে অবস্থিত মঙ্গোলিয়ার ছোট ছোট পানির উৎসগুলোর আশপাশে চড়ে বেড়াচ্ছে তৃণভোজী ক্যারানোসোরাসেরা….তাদের উপর সরু দৃষ্টি রাখছে ছোট ছোট মাংসাশী অর্ণিথইডিসের পাল। কোনো ক্যারানোসোরাস দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে তার উপর!
. 👇👇👇
পুরো ব্যাপারটা কল্পনা হলেও ঠিক এভাবেই হয়ত শুরু হত ডাইনোসরদের বিবর্তনের শেষ পর্ব ক্রিটেশিয়াস যুগের একটা সাধারণ সকাল। কিন্তু এই সাধারণ সকালটাই কিছুক্ষণের মধ্যে আর সাধারণ থাকবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে একটা গোটা জীবগোষ্ঠী!
.
তো,প্রায় ৬.৬ কোটি বছর আগে ক্রিটেশিয়াস-প্যালিওসিন যুগে এসে কোনো একদিন এমন একটা ঘটনা ঘটে যাতে পাল্টে যায় পুরো পৃথিবীর প্রাণের বিকাশের ধারা, বিলুপ্ত হয়ে যায় শত কোটি বছর ধরে পৃথিবী রাজত্ব করা ডাইনোসরেরা। ঠিক কিভাবে ঘটে এই ব্যাপারটা?
.
ঘটনার সূত্রপাত হয় আরো প্রায় ১০ কোটি বছর পূর্বে অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ১৬ কোটি বছর আগে। পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ কোটি মাইল দূরে মঙ্গল আর বৃহস্পতির মাঝে বিরাট একটা “এস্টেরয়েড বেল্ট” আছে। তো,এই এস্টরয়েড বেল্টে প্রায় শত কোটি গ্রহাণু আছে যেগুলো একই পথে পরিভ্রমণ করে চলেছে। কোথাও কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা নেই। তো, ১৬ কোটি বছর আগে কোনো একটা সময় ক্ষুদ্র আকারের একটা গ্রহাণু এই এস্টরয়েড বেল্টে উল্টো দিক হতে ঢুকে পড়ে প্রায় ২২ হাজার কি.মি. গতিবেগ নিয়ে আরেকটা বড় গ্রহাণুকে আঘাত করে। মুহূর্তের মাঝেই অসংখ্য ছোট বড় খন্ডে বিভক্ত হয়ে গেল গ্রহাণু দুটো,অনেকটা দুটো পাথর আঘাত করলে যেমনটা হয়!
.

গবেষনা করে বিজ্ঞানীরা বলেন যে,এগুলোর মধ্যে ২৪ কি.মি. দৈর্ঘ্য আর ১০ কি.মি. পরিধির একটা ছোট পিন্ড বেশ কিছু সময় এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করে আরো প্রায় ১০ কোটি বছর পরে সেটা একটা সুনির্দিষ্ট পথে যাত্রা শুরু করে। আর এই সুনির্দিষ্ট যাত্রাটা ছিল একেবারে পৃথিবী অভিমুখে। তবে এই ভয়ংকর ব্যাপারটার মুখোমুখি সেদিন শুধু একা পৃথিবীই হয় নি, বরং পৃথিবী থেকে ৩,৮৪,৪০০ কি.মি. দূরে অবস্থিত চাঁদও এই ভয়ংকর ব্যাপারটার মুখে পড়েছিল। অতীতে বহুবারই এমন অনেক ব্যাপার চাঁদ সামাল দিয়ে বাঁচিয়েছিল পৃথিবীকে।
.
কিন্তু,এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি! দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেদিন সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় এসে উপস্থিত হতে পারেনি সে, চাঁদকে পাশ কাটিয়েই ওই ক্ষুদ্র গ্রহাণু পিন্ডটি সোজা ঢুকে পড়ে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বলয়ের পরিসীমায়। মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে প্রতি ঘন্টায় এর গতি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াল প্রায় ৬৪ হাজার কি.মি.! ভর-বেগ এক হয়ে প্রচন্ড শক্তি নিয়ে এই গ্রহাণুটা এগিয়ে চলল পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে!
.
পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের সাথে ক্রমাগত ঘর্ষণের ফলে জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হল ওটা। ফলে এই অগ্নিপিণ্ডের তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ালো প্রায় ৩৫ হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস ! আর জ্বলতে লাগলো সূর্যের চেয়েও বেশি উজ্জ্বলতা নিয়ে। পৃথিবীর সাথে প্রায় ৩০ ডিগ্রী কোণ করে উত্তর-পশ্চিম বরাবর প্রায় ১০০ মিলিয়ন মেগাটন শক্তি নিয়ে গাল্ফ অফ মেক্সিকোতে আছড়ে পড়লো এই বিশাল অগ্নিকুণ্ডটা….উৎপন্ন করল প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন টন বিষাক্ত টিএনটি। মুহূর্তের মাঝেই বাষ্প হয়ে মিলিয়ে গেল সাগরের পানি। আর, হাজার মাইল বেগে ওই গ্রহাণু পিন্ড আর ভুপৃষ্ঠের অংশ খন্ড বিখন্ডিত হয়ে উর্ধ্বাকাশের দিকে উড়ে গেল। যেগুলোর কোনো কোনোটার আয়তন আজকের দিনের বড় বড় বিল্ডংয়ের চাইতেও বিশাল ছিল!
.
এর ফলে পৃথিবীর ভূত্বকে মারাত্মক ইমপ্যাক্ট পড়ে। গ্রহাণু পিন্ডটা ঠিক যেখানে আঘাত করে ঠিক সেখানেই প্রায় কয়েক মাইল গভীর আর ১১৫ মাইল ব্যাপী দীর্ঘ একটা গর্তের সৃষ্টি হয়। আশপাশের বিশাল আয়তনের পাথর খন্ডগুলো একে একে মুহূর্তের মাঝেই গলে যেতে থাকে। এই অগ্নিপিণ্ডের পতনের ফলে অনেকটা চেইন রিএকশনের মত বেশ ক’টা গ্লোবাল ক্যাটাস্ট্রোফের সৃষ্টি হয় যার কারণে পৃথিবীর প্রায় ৮০ শতাংশ জীবগোষ্ঠীই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
.
আঘাতস্থলের 500 মাইল দূরে যেখানে বিশালাকৃতির অ্যালামোসরাসের পাল চড়ে বেড়াচ্ছিল প্রায় ১মিনিট ৮সেকেন্ডের মধ্যেই সেখানে বাতাসের তাপমাত্রা গিয়ে পৌঁছাল ৬০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট! খোলা প্রান্তরে চড়ে বেড়ানো শত শত ডাইনোসর সাথে অন্যান্য প্রাণীরা তাতে জ্বলে পুড়ে একেবারে ছাই হয়ে গেল। ভস্মীভূত হয়ে গেল প্রতিটা গাছ, বনজঙ্গল….
.
প্রায় ১মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মাথায় এই সংঘর্ষের উজ্জ্বলতা পৌঁছে গেল প্রায় ৩০০০ মাইল দূরে অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে উত্তর আমেরিকার উঁচু পাহাড়ে বাসা বানানো ক্যাটজাল্কোআটলাসদের চোখে।
.
এদিকে বড় বড় পাহাড়ের আড়ালে থাকা অসংখ্য অ্যালামোসোরাস রক্ষা পেল শুরুর সেই ভয়ংকর দুর্যোগের হাত থেকে, কিন্তু তাতে তাদের শেষ রক্ষা হলো না। এর পরপরই আরো প্রায় তিন তিনটে ভয়ংকর দুর্যোগ তাদের দিকে ধেয়ে আসতে থাকল।
.
প্রথমেই ধেয়ে এলো শূন্যে উড়ে যাওয়া সেসব বড় বড় পাথর খন্ডগুলো। মুহূর্তের মধ্যেই বিশাল বিশাল সব পাথরখন্ডগুলো প্রচন্ড বেগ নিয়ে নেমে আসতে লাগলো তাদের উপর। অনেকটা পাথরবৃষ্টির মত! আর তাতেই মাটিতে একের পর এক লুটিয়ে পড়তে লাগলো ৩০,৪০ টন ওজনের অ্যালামোসোরাস।
.
দ্বিতীয় আঘাতটা এল মাটির নিচ থেকে। রিখটার স্কেলে প্রায় ১১.১ মাত্রার মারাত্মক শক্তিশালী ভূমিকম্পে আবারো মারা পড়ল তারা, এবার আরো ব্যাপক হারে।
.
পরবর্তী আঘাতটা আসলো ৪৫ মিনিটের মাথায়, ৬০০ মাইল বেগের বাতাস সাথে প্রায় ১০৫ ডেসিবেল মাত্রার শক ওয়েভের সাথে। সব ডাইনোসরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির এ তরঙ্গ কেন্দ্রের চারদিকে বৃত্তাকারে অগ্রসর হতে থাকল আর তাতে একে একে প্রাণ হারাতে লাগল সব ডাইনোসরেরা।
…..
তো ঘটনার মাত্র সাড়ে ৫ মিনিটের মাথায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অ্যালামোসোরাস সহ অন্যান্য সব ডাইনোসর প্রজাতি একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেল।
.
এই ঘটনার প্রায় ৭ মিনিটের মাথায় ওই সংঘর্ষস্থানে প্রায় ১০০ মাইল উঁচু একটা অগ্নি বলয়ের সৃষ্টি হয় আর তার সাথে সৃষ্টি হয় ৭০ বিলিয়ন টন পাথর, কাঁচ আর চার্জিত কণা নিয়ে “এজেক্টা মেঘ”! বাতাসের সাথে এসব কণার ক্রমাগত ঘর্ষণের ফলে মেঘের তাপমাত্রা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার ডিগ্রী ফারেনহাইট।
.
প্রায় ১৬ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের মাথায় ১১.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটা এবার আঘাত হানল উত্তর পশ্চিম আমেরিকায়। তাতে কাছাকাছি থাকা বেশিরভাগ টিরেক্স, ট্রাইসেরাটপস আর অন্যান্য বিশাল ডাইনোসরেরা মারা পড়তে লাগল। ঘটনার আকস্মিকতায় দূরে থাকা ডাইনোসর গুলো কিছু বুঝে উঠতে না পেরে দিগ্বিদিক ছুটতে লাগল। কিন্তু, ক’মিনিটের মাথায় ১৫ হাজার ডিগ্রী ফারেনহাইটের “এজেক্টা মেঘ” এসে তাদের ঢেকে ফেলল,আর তাতেই পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিশালকার সব ডাইনোসর। এদিকে ডানা মেলে পালিয়ে যাবার সময় উপর হতে বৃষ্টির মত আগুন,পাথর বর্ষণে একে একে মারা পড়তে লাগল। খুবই অল্পসংখ্যক যেগুলো বেঁচে গিয়েছিল সেগুলো দূরের দ্বীপগুলোতে আশ্রয় নেয়।
.
এই এজেক্টা মেঘের প্রকোপ শেষ হয়নি তখনো। ওই গ্রহাণু পিণ্ডটা পৃথিবীর বুকে আঘাত হানার প্রায় ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এই এজেক্টা মেঘ উপস্থিত হল ১২ হাজার কি.মি দূরে অবস্থিত ডাইনোসরদের আরেক বিশাল আবাসস্থল বর্তমান চীন আর মঙ্গোলিয়ায়। সেকেন্ডের সাথে তাপমাত্রা তখন আস্তে আস্তেই কমতে লাগল, শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ডিগ্রীতে পৌছে গিয়েছিল তাপমাত্রা। কিন্তু তার আগেই যা করার করে ফেলেছিল এজেক্টা মেঘ। মারা গেল ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ ডাইনোসরেরা।
.
এদিকে উত্তর আমেরিকায় এ প্রলয় এড়িয়ে যাওয়া কিছু কিছু ট্রাইসেরাটপস,ক্যাটজাল্কোঅ্যাটলাস আর অন্যান্য তৃণভোজী ডাইনোসরেরা খাদ্য আর পানির খোঁজে পাড়ি জমাল প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলের দিকে। কিন্তু, সেখানে গিয়ে দেখতে পেল সবুজ বলতে আর কোনো কিছুই সেখানে অবশিষ্ট রইল না। পড়ে থাকা কিছু মৃতদেহ টিরেক্সের খাদ্যের যোগান দিল, কিন্তু পরবর্তীতে খাদ্যের অভাবে এই ক্যানিবালরা ট্রাইসেরাটপস সহ অন্যান্য তৃণভোজীদের নিজেদের খাদ্য বানিয়ে ফেলল!
.
প্রায় ১ সপ্তাহের মাথায় মেক্সিকোর সমুদ্রের তলদেশের একস্থান অনেকখানিই দেবে গেল। আর তাতেই প্রায় ৩০০ মিটার উঁচু সুনামি আঘাত হানে উপকূলে আশ্রয় নেওয়া সেসব ডাইনোসরদের উপর। আর তাতে মারা পড়ে অবশিষ্ট ডাইনোসরেরা।
.
কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি প্রকৃতি। একের পর এক আগ্নেয়গিরিতে বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল বাতাস। ভয়ংকর মরু ঝড়ে মঙ্গোলিয়ার অবশিষ্ট ডাইনোসরেরাও মারা পড়ল। পানির সাথে বুদবুদ আকারে উঠতে লাগল বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস। ফলে পানির অভাবে মারা পড়তে লাগলো তারা।
.
আমেরিকার লুনার ও প্লেনেটারি ইন্সটিটিউটের ভূতত্ত্ববিদ ডেভিড ক্রিঞ্জের মতে, কার্বন ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে,সেসময় আগ্নেয়গিরির বিষ্ফোরণে প্রায় ১০০ বিলিয়ন টন কার্বন ডাইঅক্সাইড,কার্বন মনোক্সাইড আর মিথেন উৎপন্ন হয়েছিলো, যার ফলেই মূলত ডাইনোসরদের অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়েছিল। তিনি মনে করেন, মূলত এসব ঘটনার লং টার্ম ইফেক্টের কারণেই আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে গিয়েছিল প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি বছর ধরে পৃথিবী রাজত্ব করা ডাইনোসর।
.
কিন্তু এত এত বিশাল দুর্যোগের পরেও পৃথিবীর বুকে প্রাণের অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়নি। অসংখ্য ছোট ছোট প্রাণী, পোকামাকড় বেঁচে গিয়েছিল। এরই মাঝে ছিল,মাত্র একদিনেই বংশবিস্তার করতে পারা মারসুপিয়ালস জাতীয় কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণি। বলা হয়ে থাকে এদের বিবর্তনের মধ্য দিয়েই পরবর্তীতে পৃথিবীতে গড়ে উঠেছে এই বিশাল বৈচিত্র‍্যময় জীববিন্যাস।
….
তবে, এসবই বিজ্ঞানীদের এস্টিমেট, কোটি কোটি বছর আগে এ পৃথিবীতে আসলেই কি হয়েছিল, কিভাবে শত কোটি বছর পৃথিবী রাজত্ব করা এ দানব সদৃশ ডাইনোসরেরা বিলীন হয়ে গিয়েছিল তা খুঁজে পাওয়া অল্প কিছুসংখ্যক ফসিল বিশ্লেষণ করে জানতে পারা আসলেই দুরূহ ব্যাপার।
.
তবে, বিশাল কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগই যে তাদের বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণ, তাতে সন্দেহ প্রকাশ করার কোনো অবকাশ নেই। তবে, শেষ দিনগুলোয় ডাইনোসরদের সাথে আদৌ কি হয়ছিলো,তা আজও মোটামুটি রহস্যই রয়ে গেছে….
……
[ Informations gathered from (websites): national geographic, discovery, hybrid knowledge, mysterious universe, Listverse, Live science ]

সুইসাইড ফরেস্ট আওকিগাহারা – Suicide Forest Aokigahara

পৃথিবীতে কত যে রহস্যময় জায়গা আছে। পৃথিবীর এমন একটা জায়গা যেখানে রয়েছে নানা রহস্য। যে রহস্যময়তার সন্ধান আমরা মাঝে মাঝে উদ্ধার করতে পারি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রহস্যের কোন কুল কিনারা খুঁজে পাওয়া যায় না।

আর এমন কিছু রহস্যময় স্থান আছে যেগুলোর কথা জানলে ও শুনলে আমরা অবাক হই এবং এমন কিছু স্থান আছে যেগুলোর কথা শুনলে শুধু অবাকই হইনা সেগুলোর প্রতি আমাদের জানার আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।

তেমনি একটি অদ্ভুত জায়গা যেটি জাপান শহরের মাউন্ট ফুজি পাহাড়ের উত্তর পাদদেশে অবস্থিত। সুন্দর ও মনোরম পরিবেশের এই জায়গাটি সুদীর্ঘ ও বিশাল বিশাল সবুজ গাছগাছালি দ্বারা নিভৃত। এই জায়গাটির নেপথ্যের কথা জানলে অবাক হতে হয় যে এখানে মানুষ আসে শুধুমাত্র আত্ম-হত্যা করার জন্য। যদিওবা কিছু কিছু ব্যক্তি এখানে আসেন তদন্তমুলক কাজ করতে তবে বেশির ভাগের উদ্দেশ্য আত্মহত্যা।

এই রহস্যময় জঙ্গলটির নাম “Aokigahara”। এটি পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় স্থান, যার কারন আজ পর্যন্ত জানতে পারেননি পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা। আওকিগাহারা একটি বন যেটি মাউন্ট ফুজির পাদদেশে এবং টোকিও শহর থেকে ১০০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে এটি “জুকাই” নামে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষায় জুকাই শব্দের অর্থ “গাছের সাগর”। এই বনটিতে থাকা গাছের উচ্চতা ও ঘনত্ব অনেক বেশি। এটি ভ্রমণকারীদের জনপ্রিয় মাউন্ট ফুজি পাহাড়ের দুই গুহা “বরফ গুহা ও বায়ু গুহার” নিকটেই অবস্থিত।

আওকিগাহারা সুইসাইড ফরেস্ট নামেও পরিচিত যার আয়তন ৩৫ বর্গ কিলোমিটার। এই সুবিস্তৃত বনটি কঠিন পাথর ও বরফ গুহা দ্বারা সমৃদ্ধ। এই সুবিশাল বনটির গাছগুলোর ঘনত্ব এত বেশি যে, এর মধ্যে একবার ঢুঁকলে নিশ্চিত পথ হারিয়ে ফেলবে। জানা যায় যে অনেক আগ্রহী দর্শনার্থী এর মধ্যে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের পথ নির্দেশনা ঠিক রাখতে তারা প্লাস্টিক টেপ ব্যবহার করেছিলেন কিন্তু তাদেরও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে এই বনের মধ্যে কেউ একবার প্রবেশ করলে তার এমন মায়ার সৃষ্টি হয় যে সে আর ফিরে আসতে পারে না। এক সময় সে তার অতীত কাহিনী পর্যালোচনা শুরু করে এবং নিষ্ঠুরভাবে নিজেকে নিজেই শেষ করে দেয়। এমনকি জাপানিরা এই জায়গাটিকে অভিশপ্ত ভাবে তাই অনেকেই এই জায়গায় আসার সাহস করে না। যার কারনেই আজও এই জায়গাটি রহস্যময় থেকে গেছে।

এমনকি আপনি যদি ভুতের গল্পের প্রতি আকৃষ্ট নাও থাকেন তারপরও এই স্থানটির একটি বিশেষ অনুভুতি আছে। Seicho Matsumoto একজন বিখ্যাত জাপানি লেখক তার ১৯৬০ সালে প্রকাশিত “KuroiJukai”উপন্যাসে লিখেন একজন যুবক প্রেমিক এখানে আত্ম-হত্যা করেন।

এছাড়াও CNN-এররিপোর্ট থেকে জানা যায়, তারু নামের ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি লোহা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন যাকে একসময় তার কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সে প্রচণ্ড হতাশা, গ্লানি আর তার পরিবারের দায়ভার চালাতে পারবে না এই ভেবে সে চলে যায় সুইসাইড খ্যাঁত ফরেস্ট আওকিগাহারাতে। তার চিরকুট হতে পাওয়া তথ্য মতে সে বলেছিল, “আমি অদৃশ্যভাবে এখানে থাকতে চাই, আমি আমার পরিচয় হারিয়ে ফেলেছি তাই আমি এখানে”।

এই বনটি দিন দিন আত্মহত্যার জন্য একটি জনপ্রিয় জায়গা হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখানে প্রতিবছর গড়ে ১০০টিরও বেশি মৃতদেহ পাওয়া যায়। ২০০৩ সালে মোট ১০৫টি মৃতদেহ পাওয়া যায় যা ২০০২ সালের রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। ১৯৯৮ সালে ৭৩টি, ১৯৯৯ সালে ৬৮টি, ২০০০ সালে ৫৯টি, ২০০১ সালে ৫৯টি ও ২০০২ সালে ৭৮টি মৃতদেহ পাওয়া যায়।

সর্বশেষ সমীক্ষা থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে মোট ২৪৭টি মৃতদেহ পাওয়া যায়, যা সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। স্থানীয় সরকার কঠোর ভাবে এই আত্মহত্যার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। স্থানীয় সরকার পুলিশ, সেবাকর্মী ও অবস্থানরত সাংবাদিকদের মাধ্যমে আত্মহত্যা করতে আসা লোকদের সাহায্য ও তাদের আত্মহত্যা না করতে উদ্ভুত্ত করে যাচ্ছে।

ভারতের ১৬টি সুন্দর স্থান যেখানে পর্যটন নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভৌতিক কারণে

এখানে কিছু স্থান দেওয়া হলো যেগুলিতে অতিপ্রাকৃত উপস্থিতির কারণে পর্যটন সীমানার বাইরেই রাখা হযেছে। যদি সাহস থেকে থাকে তো এক্ষুনি উত্ঘাটনে বেড়িয়ে পড়ুন।

১. ভানগর দুর্গ – পৃথিবীর অন্যতম একটি ভুতুরে স্থান

ভানগর দুর্গ শুধুমাত্র ভারতের সবচেয়ে ভৌতিক জায়গাই নয় সারা বিশ্বের মধ্যেও এটি ভৌতিক স্থানগুলোর শীর্ষে রয়েছে। এই দুর্গ রাজস্থানে অবস্থিত, ভারত সরকারের পক্ষ্ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুর্গকে ভৌতিক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই দুর্গে প্রবেশের জন্য কতৃপক্ষের আদেশ ও নিয়ম খুব কঠোর এবং যারা এখানে সময় কাটিয়ে গেছেন, তারা তাদের গল্পে অস্বাবিক ক্রিয়াকলাপের কথা বর্ণনা করেছেন।

২. বৃজরাজ ভবন প্রাসাদ, কোটা, রাজস্থান

যেখানে শ্রী বার্টন ও তার পুত্রকে খুন করা হয়েছিল।
রাজস্থানের কোটার বৃজরাজ ভবন হলো একটি বিশাল রাজকীয় স্থান। এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ, এখানকার রক্ষীরাও ভূতুরে ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়েছেন। ব্রিটিশ আমলে জনৈক বার্টন এবং তার ছেলেকে এখানে খুন করা হয়। এখানকার অধিবাসী ও রক্ষিবাহিনীদের থেকে এই স্থানের বিভিন্ন ভৌতিক অভিজ্ঞতার কথা গণমাধ্যমের সুত্রে জানা গিয়েছে।

৩. ডুমাস বীচ – গুজরাটের সবচেয়ে সুন্দর বীচ

এখানে একজন মানুষ রাত কাটানোর জন্য গেছিলেন, কিন্তু আর ফেরেননি।
গুজরাটের ডুমাস সৈকত হলো অন্যতম সুদৃশ সৈকত কিন্তু জায়গাটি মোটেই উপভোগ্য নয় কারণ ভারতীয় সরকার স্থানটিকে ভূতুরে স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সুরাটের স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে কোনো ব্যক্তি যদি এই সমুদ্র সৈকত পরিদর্শনে এসে এক রাত কাটান, তাহলে তারা আর কখনই ফিরে আসেন না। এই জায়গায় আগে একটি হিন্দু শ্মশান ছিল।

৪. কুদহারা – রাজস্থানের ভৌতিক গ্রাম

রাজস্থানের দ্বিতীয় ভয়ংকর জায়গাটি হলো কুদহারা, ১৯৯০ সাল থেকে এই গ্রাম ভৌতিক গ্রাম হিসাবে পরিচিত। একটি উপকথা অনুসারে, আট শতাব্দীর অধিক ধরে সেখানে থাকা গ্রামবাসীরা হঠাত এক রাত্রিতে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং আর ফিরে আসেনি। কোনো ব্যক্তি এই গ্রামে জমি ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করলে গ্রামে উপস্থিত আত্মা তাকে মেরে ফেলে।

৫. ডি’সুজা বস্তি – মহারাষ্ট্রের সর্বাধিক ভৌতিক স্থান

মুম্বাইবাসীরা মহিমের ডি’সুজা বস্তির সঙ্গে খুব ভালোভাবে পরিচিত কারণ এটি মহারাষ্ট্রের পোড়ো জাগাগুলির মধ্যে সবথেকে ভয়ানক জায়গা। স্থানীয় লোকদের মতে এই জায়গায় একটি মহিলার আত্মা আছে, যিনি কুয়ো থেকে জল তুলতে গিয়ে মারা যান। তিনি কারো ক্ষতি করেন না কিন্তু মানুষদের এই গ্রামের কাছে ঘেসতে দেন না।

৬. বৃন্দাবন সোসাইটি – থানের সর্বাধিক ভৌতিক স্থান

যেখানে এক অদৃশ্য আত্মা রক্ষীদের থাপ্পর মারেন।
বৃন্দাবন সোসাইটিকে থানের সবচেয়ে ভোতিক স্থান বলে গন্য হয়, যেখানে একজন মানুষ অনেক বছর আগে তার জীবন হারিয়েছেন। রক্ষীরা তাদের বয়ানে জানিয়েছেন যে রাতে তারা প্রহরারত অবস্থায় কেউ চোখের পাতা বুঝলে সেই সময় কেউ একজন এসে নাকি তাদের সজোড়ে থাপ্পর মারে!

৭. তাজমহল প্রাসাদ হোটেল

সম্পূর্ণ বারান্দা জুড়ে ভুতুরে আনাগোনার কথা শোনা যায়।
হ্যাঁ এটা সত্য! বলা হয়ে থাকে যে, তাজমহল প্রাসাদের স্থপতি কাঠামো অনুসারে হোটেল তৈরি না করার জন্য হোটেলের ভিতরে খুন হন। অনেকে হোটেলের বারান্দার প্রবেশ দ্বারে তাঁর ভূত দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। সেখানে না যাওয়া অবধি আপনার পক্ষে এর সত্য উত্ঘাতন করা সম্ভব নয়।

৮. আসামের জাতিঙ্গা

অসমাধিত পাখিদের আত্মহত্যার জন্য এই স্থান বিখ্যাত।
আসামের জাতিঙ্গা পাখিদের জন্য একটি সুন্দর জায়গা। অসমাধিত পাখি আত্মহত্যার কারণে জায়গাটি বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। ঘটনা খারাপের দিকে যায় যখন লক্ষ্য করা হয় পাখিরা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ৬.৩০ থেকে ৯ টার মধ্যে মারা যায়। এই ঘটনাটি বুঝতে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে, কিন্তু কিছুই সুরাহা পাওয়া যায়নি।

৯. রাজ কিরণ হোটেল

মুম্বাইয়ের অতিপ্রাকৃত ঘটনার জন্য প্রখ্যাত এক স্থান।
হোটেলটিতে অতিপ্রাকৃত ক্রিয়াকর্মের কারণে আপনাকে আপনার নিজের ঝুঁকিতে রাজকিরণ হোটেল দেখার অনুমতি নিতে হবে। হোটেলের অধিবাসীগণ প্রচন্ড কম্পনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এবং বিছানার চাদর নিজে থেকেই দূরে সরে যায় বলেও জানিয়েছেন। পোড়ো রুমটি অভ্যর্থনার পিছন দিকে একটি নিরিবিলি কোণে অবস্থিত।

১০. জি.পি. ব্লক

মিরাটে অবস্থিত একটি স্থান যেখানে চার জন পুরুষকে সুরাপান করে আমোদ করতে দেখা যায়।
মীরাটের জি.পি. ব্লকে যারা থেকেছেন তারা বলেন যে তারা নাকি চারটে ছেলেকে সুরা সেবন করতে ও আড্ডা মারতে দেখেছেন! যাইহোক, কিছু সময় পর পরিস্থিতিটি আরও ভুতুড়ে হয়ে যায় এবং তাদের কাউকেই দেখা যায় না। তাই জায়গাটি অতিপ্রাকৃত কার্যক্রম পর্যবেক্ষকদের কাছে দর্শনীয় হয়ে উঠেছে।

১১. আলেয়া প্রেতাত্মা দীপ্তি

পশ্চিমবঙ্গের একটি স্থান, যেইসব মত্সজীবিরা এই দীপ্তিকে অনুসরণ করেছেন তারা আর ফিরে আসেন নি পশ্চিমবঙ্গের প্রেতাত্মা আলেয়া, মার্শাল প্রেতাত্মা নামেও পরিচিত।

মার্শাল লাইট দ্বারা অনেক জেলে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং এটা বিশ্বাস করা হয় যে, কেউ যদি সেই আলো কে অনুসরণ করে, তারই বিপদ ঘনিয়ে আসে। যেসব জেলেরা অন্ধভাবে মার্শাল লাইটের পথ অনুসরণ করেছেন তারা কখনো ফিরে আসেন নি।

১২. দার্জিলিং এর ডাউন হিল

বিচিত্র অপ্রাকৃতিক ক্রিয়াকলাপ এবং মস্তকহীন বালকের ভ্রমনের জন্য পরিচিত।

দার্জিলিঙ্গের কুর্সেং-এ অবস্থিত ডাউন হিল, বেড়াবার জন্য এটি একটি সুন্দর জায়গা, কিন্তু এটিকে দেশের সবচেয়ে ভৌতিক স্থান গুলোর মধ্যে একটি বলে গণ্য হয়। ডাউন হিল-এর কাছে মেয়েদের একটি বিদ্যালয় অতিপ্রাকৃত ও অস্বাভাবিক কাজকর্মের প্রত্যক্ষ্ সাক্ষী এবং অনকেই পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে মুন্ডহীন একটি ছেলেকে চলাফেরা করতে দেখেছে। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলা যায় যে ডাউন হিল-এর বনে অসংখ্য খুন সংঘটিত হয়েছে।

১৩. সঞ্জয় ভ্যান

নিউ দিল্লির এক ভৌতিক স্থান।
সঞ্জয় ভ্যান নিউ দিল্লির একটি বিশাল বনভূমি। মানুষ এখানে একটি লাল শাড়ি পরিহত মহিলা কে দেখেছন যিনি হঠাতই দৃশ্যমান হন এবং সেখানকার মানুষজন আতঙ্কিত হওয়া মাত্রই আবার অদৃশ্য হয়ে যান।

১৪. রামোজি ফিল্ম সিটি

যেখানকার আলো নিজে থেকেই জ্বলে আবার নিজে থেকেই নিভে যায়।
জানেন কি এটাও একটা ভুতুরে জায়গা? রামোজি ফিল্ম সিটি অনেক অস্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের সাক্ষী। বলা হয়ে থাকে যে, এখানকার আলো নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং একবার অন্ধকার হলে নিজে থেকেই ফিরে আসে। বাতি হাতে পাহারাদারেরা আহত হয় এবং অবশিষ্ট খাওয়ার নিজের মতো বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

১৫. আগ্রাসেন কি বাওলি

দিল্লির জন্তর-মন্তরের নিকট একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ।
এটা দিল্লির একটা ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং যন্তর মন্তর থেকে হাটা পথের দুরত্বে। কিন্তু জনশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি পাঁচ মিনিটের বেশি এটাকে দেখলে আত্মহত্যা করেন এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখা পাওয়া যায়নি।

১৬. সানিওয়ারওয়াদা দুর্গ

পুনের প্রখ্যাত একটি ভৌতিক স্থান।
এটি পুনের একটি বিখ্যাত দুর্গ এবং মহারাষ্ট্রের প্রাচীনতম দুর্গগুলির মধ্যে একটি। অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পর এই দুর্গে যাওয়া ঠিক নয়, কারণ বলা হয় যে, দুর্গটিতে কোন যুবরাজের আত্মা তাড়িয়ে বেড়ায় যাঁকে তাঁর নিজের খুড়তোত ভাইবোন ও পরিবারের সদস্যরাই খুন করেছিলেন। ভৌতিক কার্যকলাপ প্রত্যেক পূর্ণিমার রাতে আরো বেশি করে দেখা যায়।

পৃথিবির বিখ্যাত কিছু রহস্যময় এবং রহস্যেঘেরা স্থান পর্ব ০৪

বেংগল সোয়াম্প- পশ্চিমবঙ্গ (আলেয়া- ভূতুড়ে আলো)

আলেয়ার আলো বা জলাভূমির ভূতুড়ে আলোগুলো হল পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় জেলেদের দেখা জলাভুমির অব্যাখ্যাত কিছু আলো। এই আলোগুলো জেলেদের দ্বিধান্বিত করে, যার ফলে তারা সঠিক দিকনির্দেশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কেউ যদি একবার জলাভূমির এই আলেয়াকে অনুসরণ করতে শুরু করে, তবে তারা ডুবে মারাও যেতে পারে। অনেক মৃতদেহ পাওয়া গেছে জলাভূমির কুলে, বলা হয় এরা আলেয়ার ছলনার শিকার। স্থানীয়রা বিশ্বাস করে, জলাভুমিতে বিচরণ করা এই ভূতুড়ে আলোগুলো আসলে সেইসব জেলেদের আত্মা বা ভূত যারা মাছ শিকার করতে গিয়ে প্রান হারিয়েছে। মাঝে মাঝে আলোগুলো জেলেদের দ্বিধায় ফেলে দেয় আবার মাঝে মাঝে তাদের আসন্ন বিপদের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে (এক্ষেত্রে অনেকে হলিউডের এনিমেশন মুভি brave এ দেখানো will-o-the-wisp এর মিল পেতে পারেন। রাজকুমারী মেরিডাকে কয়েকবার বিপদের হাত থেকে বাঁচায় এরা, আবার সঠিক পথেরও সন্ধান দেয়)।

৫. বান্নি গ্রাসল্যান্ড রিসার্ভ – Rann of Kutch (ছির বাত্তি)

বান্নি গ্রাসল্যান্ড রিসার্ভ গুজরাটের দক্ষিণ প্রান্তে rann of kutch এর লবনাক্ত সমভূমিতে অবস্থিত। এটা একটা ঋতুভিত্তিক জলজ তৃণভূমি যা কিনা প্রতিবছর মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে তৈরি হয়। এখানে রাতের বেলায় অব্যাখ্যাত রহস্যজনক অদ্ভুত আলোর নাচ দেখতে পাবার প্রচুর ঘটনার উল্লেখ আছে, যাকে স্থানীয়রা ;ছির বাত্তি; হিসেবে অভিহিত করে। বলা হয় এই আলোগুলো তেলের বাতির আলোর মতই উজ্জ্বল যা কিনা রং পরিবর্তন করে নীল, লাল, হলুদ বর্নধারন করতে পারে এবং দেখতে নাশপাতি আকৃতির চলন্ত বলের মত। তারা তীরের মত দ্রুতগতিতে চলতে পারে, আবার হঠাত করে স্থির দাঁড়িয়েও থাকতে পারে। স্থানীয় লোকগাথা অনুযায়ী, ;ছির বাত্তি; গুলো হল তৃণভূমির ;জীবনের অংশ; এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। কিছু লোক উল্লেখ করেছে যে, মাঝেমাঝে বাতিগুলো তাদের অনুসরণ করেছে জলাভূমির ভিতর দিয়ে চলার সময়। স্থানীয়রা ছাড়াও বিদেশীরা এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সৈন্যরাও এই বাতি দেখেছে বলে উল্লেখ করেছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, জলা থেকে উত্থিত মিথেন গ্যাসের জারনের ফলে এই আলোর উতপত্তি হয়।

৬. গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র ডেল্টার অব্যাখ্যাত শব্দ (Mistpouffers, Barisal Guns)

Mistpouffers অথবা Barisal Guns হল একধরনের অব্যাখ্যাত শব্দ যার সাথে ;সনিক বুম; এর মিল রয়েছে এবং পৃথিবী জুড়ে পানির কাছাকাছি জনপদগুলোতে এসব শব্দ শোনা গেছে বলে প্রমান রয়েছে। বিশেষ করে ভারতে তাদের শোনা গেছে গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্রের ;ডেল্টা রিজিয়ন; এ। সুপারসনিক জেট (শব্দের চেয়ে উচ্চগতিসম্পন্ন বিমান) এর সনিক বুম এর সাথে যদিও এদের মিল রয়েছে, কিন্তু রহস্যময় ব্যাপার হল এই ধরনের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় এমনকি বিমান আবিষ্কার এর আরও অনেক আগে থেকেই। টি ডি লাটুচে নামের এক ব্রিটিশ অফিসার ১৮৯০ সালে তাঁর জার্নালে এই সম্পর্কে লেখেন। তিনি লেখেন, “Barisal Guns ভূকম্পনজনিত ধাক্কার ফলে উতপন্ন হয়, যদিও ভূমিকম্প ছাড়া এবং বড় ধরনের ভুকম্পনের আগে এদের শোনা গেছে। এই ঘটনার কিছু ব্যাখ্যা আছে, যার ভিতরে আছে ভূমিকম্প, পাথরের ভাঙ্গন, কাদার আগ্নেয়গিরি, গ্যাসের উদগিরনজনিত বিস্ফোরণ, ঝড়বাহিত শব্দ, সুনামি, উল্কা, দুরবর্তী বজ্রপাত এবং তথাকথিত booming sand.; এখনো এই রহস্যময় শব্দগুলো শোনা যায় এবং যা প্রতিনিয়ত গবেষকদের ধাঁধায় ফেলে যাচ্ছে।

৭. কঙ্গকা লা পাস- আকসাই ছিন, লাদাখ (ইন্দো-চাইনীজ ইউ এফ ও ঘাটি)

হিমালয়ের কঙ্গকা লা পাস আকসাই ছিনের ইন্দো-চাইনিজ সীমান্তে অবস্থিত। চীনের অন্তর্গত অংশ আকসাই ছিন নামে এবং ভারতীয় অধিকৃত অংশ লাদাখ নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম প্রবেশাধিকারমূলক এলাকাগুলোর একটি এবং দুই দেশের ভিতর চুক্তি অনুযায়ী এখানে কোন বর্ডার পেট্রল এর ব্যবস্থা নেই। সীমান্তের উভয়পাশের স্থানীয়রাই বিশ্বাস করে এই এলাকায় সমন্বিতভাবে দুই দেশের একটা ভুগর্ভস্থ ইউ এফ ও ঘাটি রয়েছে (যা বলা হল তা না থাক কিছু একটা তো আছে। হিমালয় তো দেখি আসলেই রহস্যময়!!!) স্থানীয়রা ভুগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা ইউ এফ ও দেখেছে অনেকবার, এমনটাই দাবি(যা রটে, তার কিছু তো বটে)। পর্যটকেরা অদ্ভুত ত্রিকোণাকৃতি আলোকবিশিষ্ট নিঃশব্দ আকাশযান দেখেছে মাটি থেকে উঠে আসতে এবং সম্পুর্ন খাঁড়া ভাবে আকাশে উঠে গেছে সেগুলো। স্থানীয় গাইডরা বলে এটা এখানের কোন নতুন জিনিস না বরং খুবই সাধারন ঘটনা! পর্যটকেরা এখানে দুই দেশের ভিতর ভ্রমনের অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করতে পারে না।
২০০৬ সালের জুনমাসে গুগল আর্থের স্যাটেলাইট ইমেজগুলো এই এলাকার(চাইনিজ অংশ) ১:৫০০ স্কেলের বিস্তৃত মডেল দেখায় যেখানে দেখা যাচ্ছে অনেক বিল্ডিং, যেগুলোর সাথে একটা মিলিটারি ফ্যাসিলিটিরই তুলনা হতে পারে। আকসাই ছিন এমন একটা এলাকা যেখানে ইউরেশিয়ান এবং ইন্ডিয়ান টেকটনিক প্লেট মিলে এক ;কনভারজেন্ট প্লেট বাউন্ডারী; তৈরি করেছে, মানে হল একটা প্লেট আরেকটার নিচে অবস্থান করছে এবং এই ঘটনা এই এলাকাকে সেইসব বিরল এলাকার একটায় পরিণত করেছে যেখানকার ভূপৃষ্ঠ অন্য জায়গার তুলনায় দ্বিগুণ পুরু(এবার ভাবুনতো ২০১২ মুভিটার কথা। সারা পৃথিবী যখন একের পর এক ভুমিকম্পে টালটামাল তখন মানুষের শেষ ভরসা সেই জাহাজ তিনটা কোথায় ছিল! জ্বি, এই হিমালয়েই। সৃষ্টিকর্তা পাহাড়গুলোকে তৈরি করেছেন পৃথিবীর পেরেক হিসেবে। যদি প্রশ্ন করেন সেখানেই কেন ভুমিকম্পের প্রকোপ বেশি তাহলে আমাকে একটি প্রশ্ন করতে দিন। ;হাসপাতালে তো মানুষেরা সুস্থ হয়ে ওঠে, তাহলে সেখানে কেন রোগীর সংখ্যা বেশি?

৮. রুপকুন্দ লেক- উত্তরখন্দ (কঙ্কাল হ্রদ)

রুপকুন্দ লেক হল এক হিমবাহ হ্রদ যা উত্তরখন্দের হিমালয়ান রেঞ্জের (আবার হিমালয়!!) ৫০০০ মিটার উপরে অবস্থিত। ১৯৪২ সালে এক বনরক্ষী রুপকুন্দের তীরে শতশত মানবকঙ্কাল দেখতে পান। বছরের পর বছর ভারতীয় এবং ইউরোপিয়ান বিজ্ঞানীরা এই মৃত্যুরহস্য সমাধান করার জন্য বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে। বেশ কয়েকটা তত্ত্ব আছে এই সংরক্ষিত কঙ্কালগুলোর রহস্য ব্যাখ্যার জন্য। এক তত্ত্ব অনুযায়ী এই কঙ্কালগুলো আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়ে মৃত্যুবরণকারী জাপানি সৈন্যদের। কেউ কেউ বলেন এগুলো কাশ্মীরের জেনারেল জোরাওয়ার সিং এবং তাঁর সৈন্যদের কঙ্কাল, আবার আরেক তত্ত্ব মতে এগুলো মুহাম্মদ তুঘলকের অসফল Garhwal হিমালয় অধিকার অভিযানের ফসল। এগুলোর কার্বন ডেটিং করে বয়স নির্ধারন করা হয়েছে ১২শ-১৫শ শতাব্দীর ভিতরে। তিব্বতের সাথে এই এলাকার ভিতর দিয়ে বাণিজ্যিক পথের কোন ঐতিহাসিক প্রমান নেই। এক তত্ত্ব বলে এগুলো কনৌজ এর রাজা জশদেওয়াল এর লোকদের। তারা হিমালয়ের নন্দদেবী পাহাড়ে তীর্থে যাচ্ছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। পথে তারা প্রচণ্ড তুষার ঝড়ের কবলে পড়েন এবং খোলা পাহাড়ের গায়ে কোন আশ্রয় না পেয়ে প্রত্যেকে মৃত্যুবরন করেন।

পৃথিবির বিখ্যাত কিছু রহস্যময় এবং রহস্যেঘেরা স্থান পর্ব ০৩

বহুকাল আগে থেকেই ভারত রহস্যময়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ এই রহস্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। ভারতীয় সাহিত্যে, লোকগানে, গল্পে, ধর্মে সবখানেই রহস্যের ছড়াছড়ি। তাঁর উপর আছে অশিক্ষা আর কুসংস্কার এর মেলবন্ধন যা কিনা আবার কোন অব্যাখ্যাত ঘটনার গায়ে রহস্যের তকমা লাগানোর সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। ভারতীয় যোগী-সন্নাসীরা আজও, এই আধুনিক যুগে বিভিন্ন রহস্যময় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন আর মানুষের ধারণা তারা বিভিন্ন ধরনের অব্যাখ্যাত শক্তির অধিকারী হয়েছেন সাধনার দ্বারা।

কথা না বাড়িয়ে চলুন দেখে নেই কিছু রহস্যময় ঘটনা আর স্থানের পরিচয়। আর ভাই-বোনেরা শুরুতেই বলে রাখি, বিশ্বাস অবিশ্বাস সবই যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। কারও জোর করে বিশ্বাস করার কিছু নেই আর কেউ বিশ্বাস করলে তাকে বেকুব বলে হাসি দেবারও কিছু নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে রহস্যে বিশ্বাসী। আমার মনে হয় ব্যাখ্যার অতীত কিছু ঘটনা আজও আছে বিধায় পৃথিবীটা এখনো পানসে হয়ে যায় নি। সৃষ্টিকর্তা রহস্যময় পথে কাজ করেন সবসময়, তিনি আমাদের সামনে রহস্য রেখে দেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে তাঁর থেকেও সুপিরিয়র অস্তিত্ব বর্তমান, আর তিনি এমন কিছু ঘটাতে পারেন যা ব্যাখ্যা করা মানুষের অসাধ্য। আমার কাছে প্রাকৃতিক রহস্যগুলো সবসময় সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার নিদর্শন বলে বিবেচিত।

হিমালয় রহস্য (অমর মানুষ, ইয়েতি, যোগী, ভূত, লোহিত তুষার)

হিমালয় রেঞ্জ যতটা বড় ঠিক তত বেশিই এর রহস্যের পরিমান। হিমালয় অমর এক প্রজাতির আবাস এমন ধারণা করা হয়। তিব্বত এবং নেপালের হিমালয়ান পার্টে ইয়েতি নামক কুৎসিত তুষারমানবেরা বসবাস করে বলে ধারণাটা জনপ্রিয়। অনেক পর্বতারোহী রহস্যজনক লোহিত তুষার দেখেছেন বলে ঊল্লেখ করেছেন। দেখে নাকি মনে হয়, বরফের উপর রক্ত বা লাল কোন কিছু স্প্রে করা হয়েছে, যার ফলে ছোপ ছোপ লাল দাগ ফুটে উঠে তুষারের উপর। হিমালয়ের গোলকধাঁধা সমতুল্য অঞ্চলে লুকানো আশ্রমে রহস্যময় ধ্যানী যোগীদের অসংখ্য গল্প প্রচলিত আছে (আসলে কি সেগুলো শুধুই গল্প!! এত গল্পের অল্প কিছু অংশও যদি সত্যি হয়ে থাকে তাতেই এনাফ। দুনিয়ার এত জায়গা থাকতে ওই হিম ঠাণ্ডার মধ্যে বসে কিসের এত ধ্যান তাদের!! আমার মনে হয় যে, ধ্যানের উচ্চতর লেভেলে উঠে গেলে মানুষ এমন কিছু জিনিস অর্জন করতে সক্ষম, যা সাধারনের কাছে জাদুর সমতুল্য এবং সেগুলোর ব্যবহার খুব বিপদজনক। তাই এত লুকোচুরি। ভাবতে কিন্তু আমার ভালই লাগে)। হাজার হাজার মানুষ পর্বতের শিখর ছোবার অভিপ্রায়ে মৃত্যুবরণ করেছে এই হিমালয়ে। ইন্ডিয়ান আর্মির সৈন্যরা মৃত পর্বতারোহী আর সৈন্যদের দেখেছেন বলে দাবি করেছেন অনেকবার।

কুলধারা- রাজস্থান (ভূতের গ্রাম)

কুলধারা গ্রামটা ;ভূতের গ্রাম, বলে খ্যাত যা কিনা ১৮২৫ সাল থেকে পরিত্যাক্ত। গ্রামবাসীরা যারা এই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়, তাদের অভিশাপ বহন করে চলেছে গ্রামটা। কুলধারা পশ্চিম রাজস্থান এর জয়সলমীর থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রামটা এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। গ্রামটা পলিওয়াল ব্রাহ্মণদের দ্বারা ১২৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যারা ছিল খুব ধনী গোত্র এবং তাদের ব্যাবসায়িক আর কৃষিসংক্রান্ত জ্ঞানের জন্য সর্বজনবিদিত ছিল। কিন্তু ১৮২৫ সালে কুলধারা এবং এর আশেপাশের আরও ৮৩ টি গ্রামের অধিবাসীরা এক রাতের ভিতরেই উধাও হয়ে যায়। স্রেফ উধাও। কারও কোন টিকিটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। লোকগাথা অনুযায়ী, রাজ্যের মন্ত্রী সেলিম/সালিম সিং, একবার গ্রাম পরিদর্শনে এসে গ্রামের সর্দারের মেয়ের প্রেমে পড়ে যান এবং বিয়ে করতে চান (দুনিয়ার যত গ্যাঞ্জাম, তার বহু ঘটনার পিছে একটা করে মেয়ের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। পুরো হিউম্যান হিস্টোরি জুড়ে যেমন চরিত্রহীন পুরুষদের দেখা গেছে, তেমনি লাস্যময়ী ট্রিকি নারীদেরও কোন কমতি নেই)। মন্ত্রী হুমকি দেয়, যদি তাঁর সাথে বিয়ে না দেয়া হয় তবে গ্রামের উপর প্রচুর কর ধার্য করা হবে। সালিম সিংয়ের সাথে বিয়ে ঠেকাতে গ্রামের সর্দার অন্য ৮৩ টা গ্রামের লোকসহ গ্রামত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু রহস্যটা হল, কেউই তাদের চলে যেতে দেখেনি বা কোথায় তারা গিয়েছে কেউই জানেনা। তারা স্রেফ ভ্যানিসড(POOF!! like a pile of ash, blown by wind)।

কোট্টায়াম, ইদ্দুকি- কেরালা (লোহিত বৃষ্টিপাত)

কেরালার কোট্টায়াম এবং ইদ্দুকির দক্ষিনের জেলাগুলোতে এক অস্বাভাবিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করা যায় ২০০১ সালের ২৫শে জুলাই থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, সেটা হল বৃষ্টির পানির লাল রং। রংবহুল বৃষ্টিপাত কেরালাতে দেখা যায় ১৯৮৬ সালের প্রথমার্ধ থেকে এবং তারপর থেকে বেশ কয়েকবার, যার মধ্যে সবচেয়ে সাম্প্রতিকটা হল ২০১২ সালের জুলাই মাসে। ২০০৬ সালে কেরালার এই ঘটনা মিডিয়ার আকর্ষন কাড়তে সক্ষম হয় যখন মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দাবি করেন যে, রঙ্গিন পার্টিকেল গুলো ছিল ;বহির্জাগতিক কোষ(extraterrestrial cell);। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ এর নিচে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি থেকে পৃথক করা সলিড পিগমেন্ট গুলোর সাথে জীবদেহের কোষের মিল রয়েছে! প্রাথমিক অফিসিয়াল রিপোর্টে বলা হয়, এক ধ্বংসপ্রাপ্ত উল্কার দ্বারা এই পিগমেন্ট বিস্তার লাভ করেছে, কিন্তু পরে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, trentopholia জেনাসের অন্তর্গত লাইকেন- গঠনকারী এলজির(algae)র স্পোরের সাথে আরও বেশি মিল রয়েছে এদের। আরও অনুসন্ধানে আবিষ্কৃত হয় যে, অত্র এলাকার গাছপালায়, পাথরে, এমনকি ল্যাম্পপোস্টে এই ধরনের এলজির প্রচুর পরিমানে উপস্থিতি রয়েছে।

পৃথিবির বিখ্যাত কিছু রহস্যময় এবং রহস্যেঘেরা স্থান পর্ব ০২

লেপটিস মাগনা, লিবিয়া

লিবিয়া বিশ্ব মানচিত্রে সম্ভবত গাদ্দাফির সৈন্য বাহিনীর আবাসস্থল হিসেবে বেশি পরিচিতি পেয়েছে ২০১১ সালে লিবিয়ান সিভিল ওয়ারের সময়, কিন্তু খুব কম লোকই জানে যে, লিবিয়াতে আছে প্রাচীন স্থাপত্যের এক অত্যাশ্চর্য ধ্বংসস্তুপের সংগ্রহ। রোম বাদে, লেপটিস মাগনা হল স্থাপত্য এবং ইতিহাসপ্রেমীদের আরেক তীর্থস্থান স্বরূপ।
এই জায়গায় প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের এক নগরী ছিল সুতরাং এখানে যে বিখ্যাত এবং দর্শনীয় রোমান ধ্বংসস্তূপ পাওয়া যাবে তাতে আর আশ্চর্য কি!

মাউন্ট ওয়েদার ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র

যদি টপ সিক্রেট আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটির কথা বলা হয়, তবে খুব কমই মাউন্ট ওয়েদার ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ঘিরে থাকা রহস্যের সাথে তুলনায় যেতে পারবে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মিলিটারি বেসে জীবনধারণের জন্য এবং দীর্ঘসময় ধরে টিকে থাকার জন্য যে সব সরঞ্জামাদি দরকার তার সবই মজুদ আছে বলে ধারনা করা হয়। যারা এই ফ্যাসিলিটির ভিতরে কাজ করে, হাই র‍্যাংকিং অফিসিয়াল যারা কোন জাতীয় দুর্যোগের সময় সেখানে যাবার উপযুক্ত এবং যারা ফ্যাসিলিটিটা তৈরি করেছে একমাত্র তারাই জানে যে, এর অভ্যন্তরটা আসলে কিরকম(সেখানকার কমোড কি হাই, নাকি লো! কফি কি সবসময় ব্লাকই খেতে হয় নাকি হোয়াইটনারও মেশানো যায়, এইসব আরকি!!! হা হা হা )।
মাউন্ট ওয়েদার ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার স্নায়ু যুদ্ধের সময় ১৯৫০ সালে তৈরি করা হয়। এখন পর্যন্ত এটা অপারেট করা হচ্ছে, “শেষ ভরসা” হিসেবে। এটার চার্জে আছে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি স্টাফ (FEMA)। ইতোমধ্যেই, যখন প্রয়োজন হয় বেশিরভাগ ইউ এস টেলিকমিউনিকেশন ট্র্যাফিক এই ফ্যাসিলিটি থেকে নিয়ন্ত্রন করা হয়, যাতে ইমার্জেন্সির সময় ভালভাবে অপারেট করা যায়।(এত ভয় কেন ওদের? সবকিছু আগে থেকে তৈরি। কিছু হলেই গাট্টি বোচকা নিয়ে ঢুকে পড়বে ইদুরের গর্তে!!)

গ্রুম লেক, নেভাডা

এই লেক রহস্যময় মাত্র এবং শুধুমাত্র একটা কারনেঃ এরিয়া ৫১। এই গোপন মিলিটারি বেসকে ঘিরে যত কন্সপিরেসি থিয়োরি, ডকুমেন্টারি, মুভি এবং একাডেমিক ডিবেট হয়েছে অর্ধ শতাব্দী ধরে, তা বিশ্বের অন্য কোন ফ্যাসিলিটি নিয়ে হয়েছে কিনা কে জানে! গ্রুম লেক নেভাডার দক্ষিন অংশে অবস্থিত, লাস ভেগাস থেকে ৮৩ কিলোমিটার দূরে। ওখানে কি চলেছে বা চলছে তা এখন পর্যন্ত অজানা। বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টাল এয়ারক্রাফট এবং এডভান্স ওয়েপন্স সিস্টেম পরীক্ষা করা হয় বলে জানা যায় ওখানে। কিন্তু অনেক কন্সপিরেসি থিয়োরিষ্ট বলেন যে, এই ফ্যাসিলিটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলিয়েন স্পেসশিপ আছে এবং সরকার এখানে কাটিং এজ ইউএফও রিসার্চ চালাচ্ছে(ভাবতে তো আমারই ভাল লাগছে!! থ্রিল বোধ করছি। আমি এলিয়েন অস্তিত্বে বিশ্বাসী)। আমরা হয়ত কোনদিনই কিছু জানতে পারব না এই জায়গা সম্পর্কে।
বিনামুল্যে সবাইকে একটা উপদেশ দান করি, খবরদার ভুলেও কেউ গ্রুম লেকের কাছাকাছি যাবেন না। কারন গার্ডদের আদেশ দেওয়া আছে কাউকে দেখামাত্র গুলি করার(shoot on sight)। (সেনসিটিভ আমেরিকান সরকার!!!! ভাবুন তো, ওখানে বড় মাথা-বাকা চোখের কোন এলিয়েন আমেরিকান আর্মির কোন চার তারকা জেনারেলের সাথে বসে হুইস্কি খাচ্ছে। আর সাথে চলছে নতুন ধরনের অস্ত্র বা ফাইটার বিমান বা উচ্চগতির মহাকাশযান নিয়ে আলোচনা। ইন্টারপ্ল্যানেটরি রিলেশনশিপ আর কি!! ফায়দা লুটছে আমেরিকা, আর কাউকে লুটতে দেবে না তাই এই গোপনীয়তা! মজা না? ভাই, আমরা আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর নিয়ে আমাদের লাভ কি?)

পৃথিবির বিখ্যাত কিছু রহস্যময় এবং রহস্যেঘেরা স্থান পর্ব ০১

ইয়ংবিয়ন নিউক্লিয়ার সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টার, উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার ইয়ংবিয়ন নিউক্লিয়ার সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টার সম্ভবত বিশ্বের সর্বাধিক গোপন স্থানের লিস্টে প্রথমদিকে থাকবে। প্রথমত এই ফ্যাসিলিটি এমন দেশে অবস্থিত যেখানে যে কোন বিদেশী নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ, আর এই প্রধান পারমানবিক স্থাপনা বিশ্বের অবশিষ্ট সব দেশের কাছ থেকে গোপন রাখা হয় ১৯৭৯ সালে এর নির্মানের সময় থেকেই। ৬ বছর পরে ১৯৮৫ সালে যখন এর ৫ মেগাওয়াট নিউক্লিয়ার রিয়েক্টরে সমস্যা দেখা দেয়, তখনই মাত্র সারা বিশ্বের মানুষ এই স্থাপনার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে।
জনশ্রুতি অনুযায়ী এই পারমানবিক স্থাপনা ১৯৯৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় উত্তর কোরিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে এক চুক্তি অনুযায়ী। কিন্তু ২০০২ সালে চুক্তি ভংগ হয়ে গেলে আবার স্থাপনাটি তার কাজ পুনরারম্ভ করে।

জলমগ্ন ধ্বংসস্তূপ, জাপান

আপনি যদি বিশ্বের সবচেয়ে উৎসাহী স্কুবা ডাইভার হন, তারপরেও আপনি সম্ভবত ইয়নাগুনির দক্ষিন উপকূলে শতাব্দী প্রাচীন ধ্বংসস্তূপে যেতে পারবেন না। এটা বিশ্বের মধ্যে একটা অত্যন্ত গোপনীয় স্থান এবং এটা এতই রহস্যময় যে এর কোন অফিসিয়াল নামপর্যন্ত দেয়া হয়নি। ১৯৯৫ সালে পথভ্রষ্ট এক ডুবুরী এটা আবিষ্কার করে। জাপানের এই ধ্বংসস্তুপকে ভাবা হয় কোন ভৌগলিক ঘটনার ফল। যদিও এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই ধ্বংসস্তূপ মানুষের হাতে গড়া।
এই দাবির পক্ষে তাহলে যুক্তিগুলো কি? ওখানে গিয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা খুব নগন্য, সুতরাং এমন দাবি তুলতে গেলে কিছু ফটোগ্রাফের উপরই শুধু ভরসা করতে হবে। যেগুলোতে আছে দুর্বোধ্য ভাস্কর্য, খোদাই, জটিল সিড়িবিন্যাস, আর বিভিন্ন স্ট্রাকচারের এমন সব নিখুত বিন্যাস যা সাধারনত প্রকৃতিতে দেখা যায়না বরং মানবসৃষ্ট হলেই বেশি মানায়।

লেক ভস্টক, এন্টার্কটিকা

প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর খুবই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে এন্টার্কটিকা পৃথিবির সবচেয়ে কম জানা এবং সবচেয়ে রহস্যময় স্থান। এই রহস্যময় ভূখণ্ডের মাঝেও একটা জায়গা আছে যেটা রয়ে গেছে সবচেয়ে গোপনতাপুর্ন- লেক ভস্টক।
যখন লেকের পানির প্রথম স্যাম্পলের বিশ্লেষণ করে একেবার বিশুদ্ধ পানি পাওয়া গেল, তাতে করে কিন্তু বলা গেল না যে, অতীতে এখানে কোন ধরনের জীবনের অস্তিত্ব ছিল। প্রাথমিক ফলাফল যেখান থেকে এসেছিল তা ছিল ড্রিলের দাতের সাথে লেগে থাকা বরফ, সেই পানি না যা লেক থেকে উঠে এসেছিল ড্রিলের ফলে তৈরি হওয়া গর্ত পুর্ন করতে। এখন পর্যন্ত কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে, লেক ভস্টকের নিচের দিকের বিশ্লেষণে পরে একসময় না একসময় প্রমানিত হবে যে, এই লেক একসময় কিছু প্রজাতির আবাসস্থল ছিল যারা কিনা আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন বছরের পুরানো।

#চলবে