Parapsychology

প্ল্যানচ্যাট বা মৃতমানুষের আত্মাকে আহ্বানের প্রক্রিয়া – How to summon a spirit

এই পৃথিবীতে মানুষের কৌতূহলের কোন কমতি নেই। ঠিক তেমনি মানুষের কৌতূহলের একটি বিষয় হল মৃতমানুষের আত্মাকে আহ্বানের প্রক্রিয়া। আবার বলছি, কথাগুলো বিশ্বাস করবেন কি করবেন না সেটা আপনাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার তবে কথাগুলো নেহাত ভুয়া কথা নয়, এর সাথে বাস্তবেরও যথেষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।

সত্যিকথা বলতে কি, আসলে প্ল্যানচ্যাট বলতে কোনো শব্দ নেই। এটা ইন্ডিয়া থেকে কোনো ভাবে আমাদের দেশে আমদানী হয়েছে যেটা আমিও আগে খুব শুনতাম। তবে প্ল্যনচ্যাটের বদলে রিয়েল ডেমনিক বা স্যাটানিজমে কি শব্দ ব্যবহার করা হয় চলুন জেনে নেয়া যাকঃ

ছান্নেলিং(চ্যানেলিং) – এটা ভেরী ক্লোজলি আপনার প্ল্যানচ্যাটের সাথে ইন্টারচেঞ্জেবল। যার মানে আত্মার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা (Clairaudience – আত্মার কথা শুনতে পারা, Clairgustance – আত্মার স্বাদ নিতে পারা, Clairsentience – আত্মাকে ফিল করতে পারা, Clairovoience – আত্নাকে দেখতে পারা);  এগুলো প্রত্যেকটাই এক একটা শক্তি (সুপারন্যাচারাল পাওয়ার) বলতে পারেন।

এবার আপনি যদি আসলেই আত্মা ডাকতে চান বা কথা বলতে বা আত্নার সান্নিধ্য লাভ করতে চান তাহলে সায়েন্টিফিক উপায়ে বা সায়েন্সের সাহায্য নিয়ে আপনি যেটা ট্রাই করতে পারেন, সেটা হলো EVP। এটা হলো হোয়াইট নয়েস ধরার জন্য অর্থাৎ আত্মা ব্যকগ্রাউন্ডে কোনো র‍্যান্ডম নয়েজ করলে এটা সেই নয়েজ ডিটেক্ট করবে, এমনকি সেটাকে স্পিচেও পরিণত করতে পারে। আবার, EMF বা  ইলেক্ট্রো-ম্যগনেটিক ফিল্ড ডিটেক্টর, যেটা আত্নার অবস্থান নির্ণয়ে সাহায্য করবে। এছাড়াও মোশন ধরার জন্য আছে হাইটেক মোশন ডিটেক্টর। ইনভায়রনমেন্টাল চেইনজ ধরার জন্য আরো অনেক যন্ত্রপাতির মধ্যে আছে রেড সেলোফান, থার্মাল ইমেজিং স্কোপস, স্মল উইন্ডকাইমস, ইনফ্রারেড থার্মাল ডিটেক্টর।

এবার চলুন বহু পেছনে চলে যাই আত্মা ডাকাডাকির আরেকটি প্রচলিত পদ্ধতি ওউইজা (উইজা) বোর্ড সম্পর্কে জানার জন্য। এই টকিং বোর্ডের আবির্ভাব ঘটেছিলো রোমান / গ্রীক শাসন আমলে, তবে এতটুকু শিওর যে এটা যীশুর জন্মেরও অনেক আগে। ইভেনচুয়ালী, যীশু আসার পর এই বোর্ড ক্রিশ্চিয়ানিটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে মানুষ জনকে পুনরায় জীবিত করার ক্ষমতা যীশুর ছিলো সেখানে এই টকিং বোর্ডের ক্ষমতা ব্যবহার করে অনেকেই যীশুর উপর নেতাগিরি করতে চেয়েছিলো। যাই হোক এই কনফ্লিক্ট থেকে আস্তে আস্তে যখন ব্ল্যাক এবং আধুনিক ডেমনিক সমাজে এর প্রচলন বেড়ে যায়,  তখন এটিকে অনেক দেশেই সাময়িকভাবে ব্যান করা হয়। এখনও এটাকে রিলিজিয়াস কাল্ট হিসেবেই ধরা হয়।

এর কার্যকরীতা ডিপেন্ড করে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী।  বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নিয়মে এই বোর্ডের ব্যবহার প্রচলিত আছে। তবে বেসিকলি বলতে গেলে দুইটা সার্কেল থাকে এই বোর্ডে, প্রথম সার্কেলে ‘A’ থেকে ‘Z’ পর্যন্ত লেটার থাকে এবং দ্বিতীয় সার্কেলে ১ থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা থাকে। প্রথম সার্কেলের সব লেটার আত্নার ‘হ্যাঁ’ রিপ্লায়ের সাথে সম্পৃক্ত যেখানে দ্বিতীয় সার্কেলের সব নাম্বার ‘না’ রিপ্লায়ের সাথে সম্পৃক্ত। কথাবার্তা শেষে যদি আত্নাকে আপনার সামনে ভিসিবল করতে পারেন সেটা হবে Materialisation এবং আত্মা চলে গেলে সেটা হবে Dematerialize। এছাড়াও আত্মাকে আরেকজনের উপর ভর করেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। তবে সেটা বড়ই রিস্কি। কোনো ভাবে খারাপ আত্না হলে ডেমনিক পসেশনের স্বীকার হতে হবে, তখন আবার এক্সরসিজম নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। সুতরাং বুঝে শুনে!

প্যারানর্মাল সাইকোলজি বা প্যারাসাইকোলজি কি?

এমনিতে প্যারানর্মাল বলে তাকেই যা কিনা আমাদের স্বাভাবিক বা নর্মাল যুক্তিগ্রাহ্য অভিজ্ঞতা বা বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।অর্থাৎ সোজা কথায় বলতে গেলে নানারকম ভূতুড়ে বা অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা, এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল জিনিসপত্তরই প্যারানর্মালের বিষয়বস্তু।আর এটাই হচ্ছে প্যারানর্মাল সাইকোলজি বা প্যারাসাইকোলজির চর্চার বিষয়।টেলিপ্যাথি থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের জিনিস দেখতে পাওয়া,সাইকোকাইনেসিস বা বিশেষ ক্ষমতার বলে মানুষের শরীরকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা,পুনর্জন্ম বা আদৌ পুনর্জন্ম বলে কিছু হয় কিনা,এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ যে সমস্ত অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়—সেটাই প্যারাসাইকোলজির বিষয়বস্তু।

প্যারাসাইকোলজি ও বিজ্ঞান

ওপরে যে জিনিসগুলোর কথা বললাম,আমাদের বৈজ্ঞানিক যুক্তি-বুদ্ধিওয়ালা মন দিয়ে কিন্তু তার একটারও ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না।উল্টে বিজ্ঞান এগুলোকে অস্বীকারই করে।আর বিজ্ঞান যেগুলোকে অস্বীকার করে আজগুবি বলে উড়িয়ে দেয়,প্যারাসাইকোলজি সেটাকেই একভাবে স্বীকার করে নিয়ে তাকে তার চর্চার ক্ষেত্র করে তুলেছে।

প্যারাসাইকোলজি ও মেইন স্ট্রিম পড়াশোনা

প্যারাসাইকোলজি চর্চার শুরু কিন্তু নিতান্তই হাল আমলে।মোটামুটি ১৮৫৩ সালে রবার্ট হেয়ার প্রথম প্যারাসাইকোলজি নিয়ে গবেষণা করেন।এরপর যত দিন গেছে,এই নিয়ে চর্চার আগ্রহ মানুষের বেড়েছে।আর ভূত,অদ্ভুত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তো চিরকালীন।যা সে জানে না,যার ব্যাখ্যা সে পায় না,তাকেই তো সে নানাভাবে জানতে,ভাবতে চায়।তাই যত দিন গেছে ভূতুড়ে-অদ্ভুতুড়ের মিশেলে এই প্যারাসাইকোলজিতে মানুষ নানা ভাবে মজেছে। তবে হ্যাঁ,মেইনস্ট্রিম বিজ্ঞানের শাখা যাকে বলে,তাতে কিন্তু প্যারাসাইকোলজি কোনোদিনই স্থান পায়নি।মানুষ বরং একে খানিক সন্দেহের দৃষ্টিতেই দেখে এসেছে।তাই মেইনস্ট্রিম বিজ্ঞানের চর্চায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনও প্যারাসাইকোলজি বিষয় হিসেবে স্থান পায়নি।এই নিয়ে যা টুকটাক কাজ,গবেষণা হয়েছে,সবই ব্যক্তিগত উদ্যোগে।আর সন্দেহের কারণও আছে।কারণ আজ পর্যন্ত এই প্যারাসাইকোলজি চর্চার ক্ষেত্রে ভুয়ো জিনিসপত্রের,ভাঁওতাবাজির অভাব হয়নি।ফ্রডনেসের দায়ে ধরা পড়েছেন একাধিক মানুষ।

তাই নানা অবিশ্বাস্য জিনিসের প্রতি যদি আপনার আগ্রহ থেকে থাকে, তাহলে কিন্তু প্যারাসাইকোলজি বা প্যারানর্মাল সাইকোলজিতে আপনি একজন রীতিমতো বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার কথা ভাবতেই পারেন।নাই বা থাকলো সিলেবাস আর প্রথাগত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা।বইপত্র আর বিশেষজ্ঞের তো অভাব নেই।

তাই বলে বলা তো যায় না।আপনিই হয়তো প্যারাসাইকোলজির কোনো এক বিশেষ তত্ত্ব আবিষ্কার করে ফেললেন।তাই আগ্রহ থাকলে কিন্তু প্যারানর্মাল সাইকোলজি চর্চার কথা আপনিও ভেবে ফেলতেই পারেন।

মাইক্রো এক্সপ্রেশন – Micro Expression

মাইক্রো এক্সপ্রেশন  হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন অভিব্যক্তি থেকে তার মনোভাব সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায়। ডিটেকটিভ বই যারা পড়েন,  তারা এই ব্যাপারটির সাথে বেশ ভালভাবে পরিচিত। আমাদের যদিও এ ধরনের বিশ্লেষণের কথা শুনলে প্রথমেই শার্লক হোমস,  ফেলুদার কথা মনে আসে;  বাস্তবিক ক্ষেত্রে কিন্তু এর বিস্তার আরও বহুদূর! বিশেষ করে সাইকোলজির অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায় এই মাইক্রো এক্সপ্রেশন। অপরাধীর কাছ থেকে সত্য কথা বের করার জন্যে এর জুড়ি নেই।

মিথ্যা কথা শনাক্ত করার পদ্ধতিকে,  কিংবা অভিযুক্ত সত্যিই দোষী কিনা তা বের করার পদ্ধতিকে মূলত ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হচ্ছে-

১. বডি ল্যাংগুয়েজঃ  যে মানুষটি মিথ্যা বলছে,  সে সাধারণভাবে চোখে চোখ রেখে কথা বলবে না,  অর্থাৎ আই কন্ট্যাক্ট তেমন হবে না। হলেও মিথ্যার মূল অংশটুকুতে সে চোখ ফিরিয়ে নিবে,  কিংবা ওই মূহূর্তে চোখের পলক ফেলবে। সম্ভাবনা আশি ভাগ যে, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই পলক ফেলতে সে বেশি সময় ধরে চোখ বন্ধ করে থাকবে।

>> ফিজিক্যাল এক্সপ্রেশন লক্ষ্যনীয় হবে,  শরীরের কোন অঙ্গ খুব বেশি নড়াচড়া করবে না। এছাড়াও হাত-পা ছড়ানো অবস্থায় থাকলে সেগুলো কাছাকাছি টেনে নিবে। ঘন ঘন চুলে হাত দেয়ার অভ্যাস না থাকলে এবং কোন বিশেষ কথা বলার সময় সেটা করলে সেটা মিথ্যা হবার সম্ভাবনা বেশি। কারও যদি হাত ভাঁজ করার অভ্যাস না থাকে,  তাহলে বিশেষ কোন কথা বলার সময় হাত ভাঁজ করলে মোটামুটি আশি ভাগ সম্ভাবনা যে সে কথাটা মিথ্যা।

>> সহজ ভঙ্গিতে উত্তর দিতে চাইবে,  ব্যাপারটাকে তুচ্ছ করার জন্যে হাত পা নেড়ে পাত্তা না দেয়ার ভঙ্গি করবে।

২. ইমোশনাল স্টেটের পরিবর্তনঃ এক্সপ্রেশন ও কথার মধ্যে সময়ের অসামঞ্জস্যতা থাকবে, সাধারণভাবে কথা বলার পর সেটার অভিব্যক্তি ফুটে উঠবে। যেমন- ‘আমার কিন্তু এখন তোমার উপর দারুণ রাগ হচ্ছে…’ একটু বিরতি, তারপর রাগের চিহ্ন ফুটে ওঠা, এর মানে কথাটা মিথ্যা হবার সম্ভাবনা বেশি। এবং এই অভিব্যক্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হবেনা।

>> কথা ও এক্সপ্রেশনের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা থাকবে। যেমন- হাত ভাঁজ করে রেখে,  শক্ত রেখে কিংবা পা নাচাতে নাচাতে বলা,  ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’। কিংবা আবেগী, নরম স্বরে বলা,  ‘সত্যি বলছি, এই কাজটা করতে পারব,  যতো কঠিনই হোক না কেন’।

>> চট করে এক্সট্রিম ধরনের এক্সপ্রেশনের পরিবর্তন হবে। যেমন- হঠাৎ খুব রেগে যেতে যেতে কেঁদে ফেলা,  কিংবা হাসতে হাসতে হঠাৎ বিষম খাওয়া,  কাঁদতে কাঁদতে রেগে যাওয়া ইত্যাদি। উল্লেখ্য,  এক্সপ্রেশনের পরিবর্তন না হলে কিংবা কোন নির্দিষ্ট একটা এক্সপ্রেশন মোটামুটি কিছু সময় ধরে স্থায়ী হলে নব্বই ভাগ সম্ভাবনা যে অভিযুক্ত নির্দোষ,  অর্থাৎ সে সত্য বলছে।

>> শুরুতে নির্লিপ্ত থাকলেও পরবর্তীতে অধিক রেগে যাবে  কিংবা অনবরত নির্লিপ্ত থাকবে। তবে রাগ থেকে হঠাৎ নির্লিপ্ত হয়ে গেলে অভিযুক্ত নির্দোষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং যে নির্দোষ সে কখনোই অভিযোগের ফলে নির্লিপ্ত বা সহজ ভঙ্গিতে থাকবেনা, রেগে যাওয়ার সম্ভাবনা অন্তত নব্বই ভাগ।

৩. বাচনভঙ্গিঃ  মিথ্যাবাদী প্রশ্নকর্তার কথাকেই উত্তর দেয়ার সময় পুনরাবৃত্তি করবে। যেমন- ‘তুমি কি এক হাজার টাকা নিয়েছ?’  ‘না, আমি এক হাজার টাকা নেই নি’। এই রিপিটশনের ব্যাপারটা বেশ গুরুত্বপুর্ণ,  বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা মিথ্যা হয়ে থাকে। তবে শুধু ‘না’ বলা মানেই যে সত্যি,  সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।

>> ‘আমি এ ব্যাপারে আর কোন কথা বলতে চাই না,’  কিংবা ‘আমি আর এ ব্যাপারে তর্ক করতে চাইনা,’ ‘তুমি আমাকে এ ব্যাপারে আর কোন কথা বললে আমি খুব কষ্ট পাব,’  এই ধরনের সমাপ্তিমূলক কথার কারণ মূলত হয়ে থাকে অভিযুক্তের দোদুল্যমান মনের অবস্থা। এক্ষেত্রে কথাগুলো মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

>> সাধারণত অন্যের মাধ্যমের নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় যেসব ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রশ্নকর্তা ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে সেটা করলে কথাটা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা অন্তত আশি ভাগ হয়ে থাকে। যেমন- ‘তুমি কি আমার সাথে প্রতারনা করেছ?’ ‘তুমি ভাল করেই জানো আমি তা করতে পারি না,  তোমার চেয়ে ভাল করে আমাকে কেউ চেনেনা,’  এ ধরনের কথা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এবং ‘রফিক/শফিক/রহিম/করিমকে জিজ্ঞেস করে দেখ, ও আমাকে অনেক ভালভাবে চেনে, আমি কখনো এরকম কিছু করতে পারব না,’  ধরনের কথা মোটামুটি নিশ্চিত মিথ্যা।

>> মিথ্যাবাদী সাধারণভাবে প্রশ্নকর্তার চুপ করে থাকা সহ্য করে থাকতে পারে না যতক্ষণ না সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে,  সে বিভিন্নভাবে অভিযোগ সম্বন্ধে প্রশ্নকর্তা কতোটুকু জানে জানার চেষ্টা করে  কিংবা নিজে থেকেই অভিযোগ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিতে থাকে। এই তথ্য দেয়ার সময় সে কখনো আই কন্ট্যাক্ট করে না,  শরীরের নড়াচড়া খুব সীমিত হয়। কোন কারণে চুপ করে থাকলেও তার মধ্যে অস্থিরতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

>> প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে,  সাধারণত নির্দিষ্ট কোন বিষয় জানার জন্যে একই প্রশ্ন কয়েকবার করতে হয়। যেমন- ‘তুমি কি জায়গাটা চেন?’ ‘আমি তো কখনো যাই-ই নি,  চিনব কিভাবে?’ ‘তার মানে তুমি চেন না?’ ‘আমার এক বন্ধু থাকত ওখানে, তার বাসায়ও কখনো যাইনি। চেনার প্রশ্নই ওঠে না।‘

>> ‘আমাকে তুমি বিশ্বাস কর না?’ ‘আমি কি তোমার সাথে মিথ্যা বলতে পারি?’ ‘সত্যি করে বলছি…’ ‘আমি তোমার কাছ থেকে এভাবে আশা করিনি,’ ইত্যাদি ধরনের বাক্য ব্যবহার করলে সে কথা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

>> ‘কোথা থেকে শুনেছ?’ ‘কে বলল?’ ধরনের প্রশ্ন করতে থাকলে এবং এ ধরনের প্রশ্ন রিপিট করা হলে নব্বইভাগ সম্ভাবনা যে অভিযুক্ত মিথ্যা বলছে। এছাড়া সে অভিযোগটিকে নিজের মতো করে রিপিট করে,  যাতে সেটা রীতিমতো অসম্ভব বলে মনে হয়। যেমন- ‘তুমি তাহলে বলতে চাচ্ছ আমি তোমার সাথে প্রতারণা করেছি?  আমি?  যাকে তুমি ছয় বছর ধরে চেনো?’

>> ‘আমি চাই না তুমি চিন্তা করো যে…,’ ‘তোমাকে আঘাত দেয়ার জন্যে বলছি না,’ ইত্যাদি ধরনের প্রস্তাবনা কথার শুরুতে থাকলে কথাটা অবশ্যই ওই বিশেষ ব্যাপারটার জন্যেই বলা হচ্ছে। যেমন- উপরের বাক্য দুটো দিয়ে অভিযুক্ত চাচ্ছে প্রশ্নকর্তা সেই বিশেষ বিষয়টা চিন্তা করুক কিংবা তার কথা থেকে আঘাত পাক, যাতে অভিযুক্তের নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা সহজ হয়।

৪. পারস্পরিক ইন্টারেকশানঃ  মিথ্যাবাদী নিজে প্রশ্নের জবাব দিতে পারুক বা না পারুক, একই ব্যাপারে প্রশ্নকর্তাকে প্রশ্ন করার অধিকার থাকলেও সে তা করবে না এবং এনকাউন্টার ধরনের কিছু করতে যাবে না। যেমন- দুই বন্ধুর মধ্যে কথা হচ্ছে,  ‘তুই আগে কখনো ড্রাগ নিয়েছিস?’ ‘না, আমি কখনো ড্রাগ নেইনি’। বলে দ্বিতীয় বন্ধু চুপ করে থাকল। মোটামুটি শতভাগ সম্ভাবনা দ্বিতীয় বন্ধুটি মিথ্যা বলছে। সত্যি বললে সে অবশ্যই তার বন্ধুকেও একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করত।

>> মিথ্যাবাদী সাধারণত নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এমন কোন ঘটনার কথা বলে, যার ক্যারেকটার সম্পর্কে প্রশ্নকর্তা জানে না এবং একই ধরনের অভিযোগে ওই ক্যারেক্টারে কাউকে অভিযুক্ত করে। যেমন- ‘মিরপুরের হাসেম কে চেনেন?  ও তো আগে এইসবের ব্যবসা করত, আমার দুই চোখের বিষ…’

>> মিথ্যাবাদী অভিযোগের চেয়েও ইন্টারেস্টিং কোন বিষয়ের প্রতি প্রশ্নকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে এবং সেটা যদি হয় অভিযোগের কোন একটা ছোট ব্যাপার নিয়ে তাহলে অভিযুক্ত দোষী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। যেমন- ‘আপনি তাহলে টাকার বান্ডিলগুলো দেখেননি?’ ‘আরে ভাই,  এই কটা টাকার বান্ডিল আমি কিভাবে দেখব?  সেদিন বস নিজেকে আমাকে এতোগুলো টাকার বান্ডিল এনে দিলেন,  ওগুলো নিয়ে যে কী অবস্থা…’

৫. সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইলঃ  অভিযুক্তের দেয়া বিভিন্ন তথ্য ও সংখ্যার মধ্যে কোন না কোন ধরনের মিল থাকবে। এবং এই মিল ভেবে বের করার জন্যে অভিযুক্ত কিছু সময়ও ব্যয় করবে।

>> সরাসরি অভিযোগকে কখনো কখনো সিরিয়াসলি নেয়ার বদলে ব্যঙ্গাত্বক দিকে নিয়ে যাবে,  হাসি-ঠাট্টা করার চেষ্টা করবে  কিন্তু সেগুলো সাধারণভাবে লক্ষ্যণীয় রকম দুর্বল হবে।

>> অভিযুক্তের সামনে গ্লাস,  চায়ের কাপ,  বালিশ,  বই ইত্যাদি থাকলে সেসব খুব গুরুত্বপূর্ণ। এসবের সাথে তার ইন্টারেকশান সাবধানে লক্ষ্য করতে হবে। মিথ্যা কথা বলার সময় তার হাতে এগুলোর কোনটা থাকলে সে সেটা দুজনের মাঝখানে রেখে দিবে, চায়ের কাপ হাতে থাকলে চুমুক না দিয়েই টেবিলে রেখে দিবে। একটু পরই যদি আবার চায়ের কাপ হাতে নেয় চা খাওয়ার জন্যে এবং খাওয়া শুরু করে,  তাহলে তার মিথ্যাবাদী হওয়ার সম্ভাবনা আশি ভাগ। অথবা কাপ কিংবা গ্লাসে দু-এক কাপ চুমুক দিয়ে রেখে দেয়া মানে কথাগুলো মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু অভিযুক্ত যদি কাপ/গ্লাস নামিয়ে না রাখে বা পুরোটা খেয়ে নেয়  তাহলে সে নিশ্চিত সত্য বলছে। তবে এক্ষেত্রে একটা খুব সহজ কাজ করা যায়,  কোন পানীয় খাবার সময় অকস্মাৎ অভিযোগ করলে প্রকৃত দোষীর বিষম খাওয়ার  কিংবা তৎক্ষণাৎ কাপ/গ্লাস নামিয়ে রাখার সম্ভাবনা শতভাগ। পৃথিবীর মোটামুটি সব ইন্টারোগেশনেই তাই প্রশ্নকর্তা ও অভিযুক্তের মধ্যে চা, সিগারেট ইত্যাদি থাকে। ক্রিমিনাল সাইকোলজির জন্যে এটা খুব গুরুত্ব্বপূর্ণ। হাওয়ার্ড টেটেন নামক এক বিখ্যাত ইন্টারোগেটর অভিযুক্তের খাওয়ার ধরন দেখেই দোষ বিচার করতেন।

>> অভিযুক্তের দৃষ্টিভঙ্গি খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি সে তার কথার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকে, তাহলে প্রশ্নকর্তাকে বোঝানোর চাইতে নিজের প্রেজেন্টেশন নিয়ে বেশি মনযোগী থাকবে,  যদি সে মিথ্যা কথা বলে  তবে প্রশ্নকর্তাকে বোঝানোই হবে তার ধ্যান-জ্ঞান।

>> অভিযুক্তের কোন একটা কথা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হলে মোটামুটি নিশ্চিত সে আরও অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলেছে এবং তার প্রতিটা কথাই মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

মোটামুটিভাবে এই হচ্ছে মিথ্যা সনাক্ত করার বেসিক কিছু পদ্ধতি। উপরের শ্রেণীবিন্যাসটা মূলত করেছেন ডেভিড জ. লিবারম্যান আর ফেসিয়াল এক্সপ্রেশনের অন্যতম দিকপাল বলা হয় পল একম্যান কে।

তবে মনে রাখতে হবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার শুধু মাইক্রো এক্সপ্রেশন পর্যবেক্ষণ করাই না;  সেগুলো কে খাপে খাপে বসিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসা। এই কাজটুকুই সবচেয়ে কঠিন। একটা সহজ উদাহরণ বলি- উপরের থিওরি অনুযায়ী কেউ যদি বলে, ‘সত্যি করে বলছি, আমি কাজটা করিনি,’ তাহলে সে মিথ্যাবাদী। কিন্তু মনে রাখুন,  এভাবে চিন্তা করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ভুল। এই কথাটা বলা মানে কেবল অভিযুক্তের নেগেটিভ দিকে এক পয়েন্ট বেড়ে যাওয়া  এছাড়া আর কিছু না। আবার কেউ কাপ হাতে তুলে চুমুক না দিয়ে রেখে দেয়া মানেই মিথ্যাবাদী হতে পারে না। আপনার সেক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে তার মিথ্যা কথা বলার একটা সুযোগ রয়েছে, কিংবা তার মিথ্যাবাদী হওয়ার সম্ভাবনার পাল্লা ভারী হল। তাই এভাবে পজেটিভ-নেগেটিভ মিলিয়ে, অনেক হিসাব-নিকাশ করে তবেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত। মনে রাখা দরকার, ছোট একটা বিষয় থেকে কোনভাবেই এসব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আপনার সামনে একটা ৪ আর একটা ২ থাকলে সেগুলো গুণ,  ভাগ,  যোগ না বিয়োগ করলে ফল পাওয়া যাবে, সেটা আপনিই ঠিক করবেন এবং এসব ক্ষেত্রে যথেষ্ট চর্চা থাকা উচিত; কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় অভিযুক্ত একই সাথে বিভিন্ন কন্ট্রাডিক্টরী ধরনের কাজ করে যার ফলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়। আর একজন নির্দোষ মানুষ কে সাইকোলজির প্যাঁচ কষে দোষী বানিয়ে ফেলা খুবই খারাপ ধরনের অপরাধ! কিন্তু ঠিক ট্র্যাকে চিন্তা করতে পারলে আর মোটামুটি চর্চা করলে ভুল হবার সম্ভাবনা বেশ কমে যায়।

Psychic Powers- মানুষের কি থাকতে পারে অতিমানবীয় ক্ষমতা? (দ্বিতীয় পর্ব)

সুপার হিউম্যান বা সুপার হিউম্যানদের যে সকল আধ্যাত্মিক শক্তি বা অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস করেন? আচ্ছা বিশ্বাস না করলেও চলবে। আমি বিশ্বাস করি আর তাদের এই অতিপ্রাকৃত শক্তি নিয়ে যৎসামান্য পড়ালেখাও করেছি। আর আমার এই জানা থেকেই অতিপ্রাকৃত শক্তির একটি লিস্ট তৈরি করেছি যেটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল অনেক আগে থেকেই। কিন্তু সময় না মেলাতে পেরে আর লেখা হয়নি। কিন্তু পরে সাহস করে শুরু করে দিই লিখা! আর এটা সেই সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব

আচ্ছা সাইকিক পাওয়ার কি সবার মাঝে থাকে?? নাকি এটা ইশ্বর প্রদত্ত?? যদি সাইকিক পাওয়ার সবারই থাকে তবে আমার কি ক্ষমতা সেটা বুঝবো
কিভাবে?? চলুন জেনে নিই এগুলোর উত্তর!

সাইকিক পাওয়ার গুলো মূলত God Gifted হয়ে থাকে এবং কারণ ইশ্বর হচ্ছেন সকল ধরণের বায়ো ইলেক্ট্রিসিটি এর মূল এবং প্রাণশক্তির আধার।ইশ্বর হচ্ছেন আমাদের অনূভুতির কন্ট্রোলার। তাই ইশ্বর যদি আমাদের এই ক্ষমতা দিয়ে থাকেন তবে আমরা একটা নির্দিষ্ট সময় পরে তা টের পাবো
অর্থাৎ ক্ষমতা গুলো নিজে নিজেই ধরা দেবে। একটা উদাহরণ দিলেই বুঝবেন আশা করি। Nina Kulagina নাম্নী একজন গৃহিণী স্বামীর সাথে এক দুপুরে ঝগড়ার পরে রান্নাঘরে টিনের আসবাবপত্রের দিকে তাকিয়ে ছিলেন একমনে। যখনই উনি উনার চোখ সরালেন তখনি সেগুলো মাটিতে পড়ে গেল। এবং উনি জিনিসটা পাত্তা না দিলেও কিছুদিন পর উনি কাঁটাচামচ দূর থেকে হাত বাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং সেগুলো যথেষ্ট দূরে থাকা সত্ত্বেও উনার হাতে চলে আসে। তারপর উনি লক্ষ্য করেন যে উনি নিজের ইচ্ছার সাহায্যে যেকোনো মেটালিক জিনিস কন্ট্রোল করতে পারেন। ইউটিউব এ উনার কিছু ভিডিও ছিল। পোস্টটির সাথে আপনাদের ভিডিও এর লিংক দিতে পারলে খুশি হতাম কিন্তু সময় সংকটে থাকার কারণে দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত। দেখার ইচ্ছে হলে দেখে নেবেন।
যাকগে,  তো বুঝতেই পারছেন যে এই ধরনের ক্ষমতা গুলো ইশ্বর প্রদত্ত অর্থাৎ আপনার কোনো ধরনের জোর করতে হবে না। উপযুক্ত সময়ে নিজেই টের পাবেন।

মন খারাপ করার কিছু নেই! আপনি ভাবছেন যে তাহলে কি আমার এই ধরনের ক্ষমতা নেই!! উঁহু! আগেও বলেছি যে এই ক্ষমতা গুলো আপনি অর্জন ও করতে পারবেন। কিন্তু অর্জনের জন্যে তিনটি ভিত্তি আছে। যেগুলো মানতে হবে। (গত পর্বে ভিত্তি গুলো দেয়া আছে! কষ্ট করে দেখে নিবেন)
কে না চায় একটু অসাধারণ হতে? সত্যি কথা কে না চায়??? হুম! আপনিও চান! চলুন তাহলে সামনে এগুতে থাকি!
সাইকিক পাওয়ার গুলো অর্জনের জন্যে আপনার কিছু লক্ষন থাকবে। এবং এই লক্ষন গুলো দেখে বলা যাবে যে আপনি কত সহজে এই ক্ষমতা গুলো আয়ত্ত করতে পারবেন। এই লক্ষন গুলো যদি কারো মাঝে না থাকে তবে তার আয়ত্ত করতে আনুপাতিক হারে বেশি এমনকি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে! আসুন দেখি লক্ষন গুলো আপনার মাঝে আছে কি না!!!

প্রথম লক্ষণঃ  প্রায়শই ভবিষ্যৎ বুঝতে পারেন! কেউ দরজায় নাড়া দেবার আগে কিংবা কারো ফোন ধরার আগেই বুঝে ফেলেন! জ্বি, আপনি সাইকিক!
দ্বিতীয় লক্ষণঃ  জীবনে কখনো জ্বীন/প্রেতাত্মা এসব দেখেছেন কিংবা এই ধরনের Entity’s নামানোর চেষ্টা করেছেন এবং সফল ও হয়েছেন! জ্বি, আপনি নিজেও জানেন না যে আপনার সাইকিক ক্ষমতা আছে। এসব সবার দ্বারা হয় না! (আনফরচুনেটলি আমি এই ক্যাটাগরিতে পড়ি!)
তৃতীয় লক্ষণঃ  সবাই তো স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আপনি স্বপ্নের থেকেও স্পষ্ট কোনো কিছু দেখতে পান। অনেকেই জিনিসটা বোঝেন না এবং তাদের কাছে
এটা স্বাভাবিক মনে হয় যেটার নাম ভিশন। সপ্নের থেকেও স্পষ্ট এবং রঙিন। জ্বি, আপনি সাইকিক।
চতুর্থ লক্ষণঃ  মাঝে মাঝেই কোনো কারণ ছাড়া অদ্ভুত কিছু দেখে ফেলেন, সন্দেহ করেন কিংবা অদ্ভুত কোনো ঘ্রাণ পেয়ে থাকেন। আপনি সাইকিক।
পঞ্চম লক্ষণঃ  মাঝে মাঝেই কোনো স্পর্শ ছাড়াই কোনো কিছু নড়তে দেখেন। হঠাৎ মনে হয় আপনার হাতে কোনো ধরনের শক্তি কাজ করছে। ইলেক্ট্রনীয়, রঙিন শক্তি! আপনি সাইকিক।
ষষ্ঠ লক্ষণঃ  আপনি মাঝে মাঝেই বাতাসে এমন কিছু উড়তে দেখেন যার কোনো অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। কিংবা থাকলেও তা অণুবীক্ষণিক। এবং এদের বিভিন্ন রঙেও দেখেন। জ্বি, আপনি সাইকিক।
সপ্তম লক্ষণঃ  আপনি কোনো মানুষের দিকে তাকিয়ে বা তাদের স্পর্শ করেই তাদের সম্পর্কে ধারনা নিতে
পারেন। আপনি সাইকিক।
অষ্টম লক্ষনঃ  আপনার আশে পাশে কেউ আসলে তারা খুব কষ্ট পায় কিংবা তাদের খুব আনন্দ হয়। আপনার
স্পর্শে কিংবা আপনার ছায়াতে আসলেই। জ্বি, আপনি সাইকিক।
নবম লক্ষণঃ  আপনার শরীরে ক্ষত খুব দ্রূত কমে যায়। আপনার শরীরের এই হিলিং ক্ষমতা সাধারনের
থেকে বেশি। জ্বি, আপনি সাইকিক।
দশম লক্ষণঃ আপনি একই সাথে দু-দুটো জায়গার ধারণা বুঝতে পারেন। আপনার মনে হয় যে আপনি এখানে
থাকলেও হয়তো ওই জায়গা তে কখনো একই দিনে উপস্থিত ছিলেন। জ্বি, আপনি সাইকিক।

উপরোক্ত লক্ষণ আপনার মাঝে থাকা মানে আপনি একজন সাইকিক অর্থাৎ আপনার প্যারাসাইকোলজিক্যাল ক্ষমতা আছে! কিন্তু আপনার সাইকিক ক্ষমতা গুলো যে কোনো কারনেই হোক লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কিংবা সুপ্ত হয়ে আছে। এগুলো জাগানোর জন্যে আপনার ওই তিনটি ভিত্তি মেনে কাজ করে যেতে
হবে। যদি পারেন! আশা করা যায় শীঘ্রই আপনার ক্ষমতা গুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

আর যাদের উক্ত লক্ষন গুলোর একটাও প্রকাশ পায় নি তাদের কষ্ট না করাটাই ভালো কিন্তু কষ্টে কেষ্ট ও মেলে এবং বিশ্বাসে আপনি চোখের ইশারায়
পাহার ও ঠেলে নিতে পারবেন। তাই মূল কথা হচ্ছে “বিশ্বাস“।

আজ এখানেই ক্ষান্ত দিই! নাকি?

অনেক দিন হয়ে গেছে এইসব নিয়ে কাজ করার, এইসব নিয়ে গবেষণা করার! সেই দশম শ্রেণী থেকে!

সে যাই হোক! আমি আমার তৈরী করা সাইকিক ক্ষমতাগুলোর লিস্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি পরের পর্বেই!

Psychic Powers- মানুষের কি থাকতে পারে অতিমানবীয় ক্ষমতা? (প্রথম পর্ব)

সুপার হিউম্যান বা সুপার হিউম্যানদের যে সকল আধ্যাত্মিক শক্তি বা অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস করেন? আচ্ছা বিশ্বাস না করলেও চলবে। আমি বিশ্বাস করি আর তাদের এই অতিপ্রাকৃত শক্তি নিয়ে যৎসামান্য পড়ালেখাও করেছি। আর আমার এই জানা থেকেই অতিপ্রাকৃত শক্তির একটি লিস্ট তৈরি করেছি যেটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল অনেক আগে থেকেই। কিন্তু সময় না মেলাতে পেরে আর লেখা হয়নি। আজ সাহস আর সময় দুটো এক করে লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম। দেখা যাক কতটুকু এগুনো যায়!

অতিপ্রাকৃত মনোবৈজ্ঞানিক/ মানসিক শক্তি বা Psychic Power গুলো আসলে কি?? এদের উৎপত্তি কোথায়? কিভাবে? এবং এই শক্তি গুলো কাদের আছে?
কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে তাদের? আপনার-আমার এই শক্তিগুলো আছে কি না? সব কৌতূহল এবং প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব নিয়ে এই আর্টিকেলের সিরিজটি এগুবে। চলুন দেখা যাক সামনে কি হতে যাচ্ছে!

সাইকিক পাওয়ার মূলত আপনার মধ্যে থাকা শক্তিকে (শারীরিক এবং মানসিক) অন্যভাবে এবং অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি। আপনার সেন্স বা অনূভুতিকে তার সর্বোত্তম ব্যবহারে বাধ্য করা। আপনার জ্ঞানকে তার শিখরে পৌঁছে দেয়া। আপনাকে কোনো একটি বা একাধিক শক্তিতে সর্বোৎকৃষ্ট বানিয়ে দেয়া।

সাইকিক পাওয়ার গুলোর তিনটি মূল ভিত্তি আছেঃ প্রথমত আপনাকে সঠিক ক্ষমতা জেনে নিতে হবে যেটার সাথে আপনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। তার আগে জেনে নিতে হবে আপনার কোনো সাইকিক ক্ষমতা থাকা সম্ভব কি না।
দ্বিতীয়ত আপনার সঠিক রিসোর্স থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সঠিক শিক্ষাগুলো সঠিক ভাবে গ্রহণ করতে হবে। এবং তৃতীয়ত আপনার বিশ্বাস থাকতে হবে। এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিত্তি। আপনি যদি টানা বিশ বছর টেলিকাইনেসিস বা টেলিকেনেসিস (এটা এক ধরনের সাইকিক ক্ষমতা যেটা পরে আলোচনা করা হবে।) এর জন্যে অনেক কষ্ট করেন। অনেক বই পড়েন। অনেক ধ্যান- সাধনা করেন। অনেক মন্ত্র পড়েন। সেগুলো সম্পূর্ন বিফলে যাবে যদি আপনি বিশ্বাস না করেন।

সাইকিকরা (যারা সত্যিকার অর্থেই এই ধরনের ক্ষমতা প্রাপ্ত/অর্জিত) বলেন, সাইকিক ক্ষমতা গুলো সবার মধ্যেই বিদ্যমান। কেউ বুঝতে পারে কেউ বোঝে না। আর কেউ বুঝেও তা নিয়ে খেলা করতে চান না। আর কেউ কেউ তো বিশ্বাস ই করেন না। আপনার-আমার সবার মাঝেই সাইকিক ক্ষমতা বিদ্যমান। কিন্তু আমরা হয়তোবা সঠিক রিসোর্স না পাওয়ার কারনে কিংবা সঠিক নিয়ম না জানার কারণে কিংবা বিশ্বাস না করার কারনে আমাদের ক্ষমতা গুলোকে লুকিয়ে রেখেছি নিজের অজান্তেই।

সাইকিক ক্ষমতা গুলো আমাদের মাঝে যদি থেকে থাকে তবে আমাদের তাতে সুবিধা কি? আপনি এটা ভেবে নিতে পারেন না যে আপনার সাইকিক ক্ষমতা গুলো দিয়ে আপনি হলিউড এর মার্ভেলের কোনো চরিত্রের মতো সুপার হিউম্যান হয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু তাদের মতো শক্তিসামর্থ্য আপনার অর্জন না হলেও আপনি আপনার শক্তির পরিবর্তন নিজেই বুঝতে পারবেন। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার পরিবর্তনে আপনার নিজেরই চমকে উঠতে হতে পারে। এই ক্ষমতা গুলো আপনার সাইকিক শক্তি/ধ্যান-ধারনা/অনূভুতি আর সময়ের মাঝে অনেক পার্থক্য তুলে ধরবে। অনেক ক্ষেত্রে এই সাইকিক ক্ষমতাগুলো কারো কারো মাঝে এত পরিমানে প্রকাশ পায় যে তারা স্পিরিট ওয়ার্ল্ড এ প্রবেশ করতে পারে।