in

অতীত আর বর্তমানের সময় ফোকড়

২০১৪ সালের দিকে নিজের ব্লগে এতো পরিমান লিখা লিখি করতাম এবং তখন লিখার জন্য যে কি পরিমান কষ্ট করতে হতো সেটা এখনকার তুলনায় অতি নগন্য। কি প্যাড মোবাইলে একটি বর্ন ৩ চাপে লিখে সেটা কাট কপি করে নিয়ে যেতাম নোট প্যাডে। দেন সেভ করে লেখা পোষ্ট করতে হতো। কখনো কখনো একটি লেখা একবারে লেখা যেতোনা কতটি ফন্ট একবারে টাইপ করে যাবে সে সীমাবদ্ধতার কারনে! কয়েকবার অংশ অংশ করে সে লেখা একটি জায়গায় বিন্যাস করা লাগতো।

তাও সেই লেখা নিজের ব্লগে পোষ্ট করার জন্য লাগতো পিসি, নিজের বাড়িতে পিসি থাকলেও ২০১৪ সালে ইন্টানেটর কানেকশন ছিলো খুব রেয়ার। পোষ্ট করার হন্য যেতে হতো সাইবার ক্যাফেতে। বা কখনো কখনো নকিয়া পিসি স্যুইট সফটওয়্যার ইনষ্টল করে মোবাইল টু পিসি কানেনশন দিয়ে অনেক কষ্টে করতে হতো পোষ্ট করার জন্য।

প্রচুর লিখা ছিলো, এখন যতটা জানি বা শিখেছি তখন এতনা না জানলেও চেষ্টা করেই যেতাম, সারাদিন এগুলোর পিছনেই এফোর্ট দিতাম। কিন্তু এখন সব সহজলভ্য হলেও লিখতে আর ভালো লাগে না, কখনো কখনো নিজের প্রিয় সংগঠনের কার্যক্রমের রিপোর্ট লিখতেও কেমন জানি অলসতা কাজ করে। আমার মাঝে মাজে আপসোসই লাগে যে, তখন আমি নিজের এবং অন্যর ব্লগে যে পরিমান লিখেছি সেগুলো থেকে আয়ও করা যেতো। কিন্তু গুগলের এডসেন্স বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা যায়, সেটাই জানতাম নাহ। কারন তখন ইউটিউব ছিলোনা! মূলত ছিলোনা বলতে বোজাচ্ছি তখন টু-জি ইন্টারনেটে ইউটিউব চলতো নাহ, জেলা শহরে।
আর ব্রডব্যান্ড তো এখনো এভেল এভেল নাহ তেমন।

তাই প্রচুর পরিমান শ্রম সেখানে দিলেও কোন সেখান থেকে যে আয়ের সুযোগ ছিলো সেটা জানা ছিলোনা। একমাত্র ওয়াইম্যাক্স কানেকশন ছিলো সিটিসেল জুম, এবং তাদের সিমগুলো শুধু তাদের কোম্পনীর ফোনেই সাপোর্ট করতো, তুলনামূলক ভালো ছিলো সিটিসেলের ইন্টারনেট। তবে প্যাকেজ গুলো ছিলো বেশ বড় এমাউন্টের ২০০-৩০০ তাই তাতেও কেনা হতোনা। মনে আছে ২০১৩-১৪ তে রবিতে ১০ টাকায় সবোর্চ্চ পেতাম ২৫ মেগাবাইট! তাও ১০ মেগাবাইট বোনাস সহ। ঈদের আনন্দ লাগতো। তবে জাভা ফোনে ২৫ মেগাবাইট নেতাতই কম নয়। তবে ইন্টারনেট ছিলো সুপার স্লো, ৫ এম্বির অডিও ফাইল ডাউনলোড দিলে ৩০ মিনিটেও হতো নাহ, সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো ৯৯.৯৯% ডাউনলোডের পরে তা ইরোর হয়ে যেতো। এবং নতুন করে আবার শুরু করতে হতো। এতো সব বাধা উপেক্ষা করেও লিখতাম। তখন ফেসবুকে কোন চ্যাট অপশনও ছিলোনা, ছিলোনন এতো ফিচার। চ্যাট করার জন্য নামাতে হতো নিমবাজ নামের একটি সফটওয়্যার, জাভা ফোনে সফটওয়্যার নামনোও এতো সহজ ছিলোনা, প্রচুর লেগ আর ঝামেলা পোহাতেই হতো।

তখন অবশ্য খুব দামি ফোন ছিলো নকিয়ার সিম্বিয়ান অপারেটিং সিস্টেমের ফোন গুলো, জাভা থেকে ভালো সার্ভিস ছিলো সফটওয়্যার ক্ষেত্রে গেটজার আর ওয়েপট্রিক ছিলো তখনকার মোষ্ট কমন ওয়েবসাইট। অনেক তো হলো তখনকার ইন্টারনেট স্ট্রাগলের গল্প মূলত এতো গুলো লেখার কারন সেটাই যে কাল থেকে আবার কয়েকদিন লিখবো।

কি নিয়ে লিখবো!! হ্যা বলছি………

চারদিকে যখন করোনা মহামারী, তখন মুসলিমদের একাংশ নানান ধরনের কুসংস্কার আর আজগুবি গুজবে বিস্বাস সহ করছে নানান গাজাখুরি কথা বিস্বাস, আমার খুব আফসোসই লাগে বলতে পারেন। বিশেষ করে দক্ষিন এশিয়ার মুসলিমদের একটা অংশের জ্ঞান বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়া খুবই দুঃখ জনক। তাই লিখবো মুসলিমদের বিজ্ঞানে অবদান নিয়ে, আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে মনে হয়না তেমন কেউ আছে যে কিনা কুসংস্কারে বিস্বাস করে তবুও মুসলিমদের স্বর্নযুগের ইতিহাস লিখবো সংক্ষিপ্ত করে, জানা উচিত মুসলিমরা একবিংশ শতাব্দীতে এসে আনাড়ী হলেও আমাদের ছিলো স্বর্নযুগ, যার উপর ভর করেই দাড়িয়ে আছে আজকের উন্নত মানবসভ্যতা আর প্রযুক্তি।।

What do you think?

Written by Cyber Prince

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব- ৪

Just Cause 2 PC Games Review