in

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব- ৪

মুসলিমদের

সিরিজটি লিখার উদ্দেশ্য ছিলো, অন্যকে জানানো এবং এতে করে নিজেরও অনেক কিছু জানা হলো, কথা বাড়াচ্ছিনা আজকেও থাকবে তিনটি নতুন বিষয়। আশা করি ভালো লাগবে, এবং বানান ভুলের জন্য দুঃখিত। কম্পিউটারে বিজয় আর মোবাইলের অভ্র লিখতে গিয়ে মাঝে মাঝে অভ্যাসের দরুন কিছু বানান আমি ভুল করে ফেলি।

আজ একটু ভিন্ন ভাবে শুরু করি, মূলত আজ এমন একটি বিষয়ে তুলে ধরবো যার জন্য বলা চলে মুসলিমদের হৃদয়ে রক্তক্ষরন হতে পারে, আবার করতে পারে গর্ব আবার হতে পারে মুসলিমদের হাজার বছর পিছিয়ে পড়ার কারন, হ্যা বলছিলাম “বাইতুল হিকমা” র কথা। বাইতুল হিকমা আব্বাসীয় খেলাফতের সময় বাগদাদে প্রতিষ্ঠা করেন আল মামুন। পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি হয় হার্ভার্ড, ঠিক তখনকার সময় পুরো পৃথিবীর জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রান ছিলো বাইতুল হিকমা।
বাইতুল হিকমাকে বলা হতো হাউজ অফ উইজডম।
বাইতুল হিকমা নিয়ে বেশ কিছু তথ্য থাকবে কমেন্টে লেখা ছোট করার সার্থে। আধুনিক পৃথিবীর জন্য আজ এই বাইতুর হিকমার আবিস্কার আর অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

১- এ্যানক্রিপশন/ গোপননীয়তা

আপনাদের নিশ্চয়ই সকলের মনে আছে, একটি মাত্র স্পাম মেসেজে ক্লিক করার কারনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা গায়ের হয়ে গিয়েছিলো। হ্যা বলসি সাইবার সিউকিরিটির বা এ্যানক্রিপশনের কথা। পুরো পৃথিবীই এখন এ মাধ্যমেই সকল শাখা নির্ভরশীল, ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তোলা সহ প্রায়। আর এই তথ্যর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা বা এ্যানক্রিপ্ট ব্যবস্তার আবিস্কার হয়েছে বাইতুল হিকমা থেকেই, যার উদ্ভাবক ওয়ান অফ দ্যা গ্রেট ম্যাথমেটিশিয়ান “আল কিন্দি” তার আবিস্কারটা গ্রাফিকাল চিত্র ছাড়া তুলে ধরা কষ্টকর। তিনিই আবিস্কার করেন গোপনবার্তা পাঠানোর, নিদিষ্ট ব্যাক্তি ছাড়া ঐ বার্তা কেউ দেখলে পড়তে পারবেনা।
বর্তমানে এই এ্যানক্রিপশন ব্যবস্থা ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তাও চিত্না করা যায়না। যেমনটা উইকিলিকসে কিছু তথ্য বেরিয়ে পড়াতে আমেরিকার মতো দেশও বিশ্বের কাছে নাকানি চুপানি খেয়েছে।

২- ট্রান্সলেশন/ অনুবাদ

আপনি জানেন কি, বাংলা ভাষায় যতগুলো শব্দ আছে ইংরেজিতে তার চেয়ে কয়েক গুন বেশি। এবং বাংলাতে ভুগোল বিষয়ের সব কিছু লিখা সম্ভবনাহ। সাহায্য নিতে হয় অন্য ভাষার, সে যাই হোক, তখনকার যুগে পৃথিবী ব্যাপি নানান জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হলেও পুরো পৃথিবীতে তা ছড়িয়ে পড়তো না সেভাবে, কারন নানান জায়গায় ব্যবহার হতো নানান ভাষা। বিষয়টা এখন খুব সাধারন মনে হলেও সত্যি ভাবলে অবাক লাগে অনুবাদ বিষয়টা পৃথিবীকে আজকের এ উন্নতির পেছনে অনুবাদের একটা ব্যাপক অবদান আছে, আর এ অনুবাদের বিষয়টিও উদ্ভাবন হয় “বাইতুল হিকমাহ” থেকে। মূলত বাগদাদের বাইতুল হিকমাহ হয়ে উঠে বিশ্বের উচ্চশিক্ষার প্রধান স্থান। তখন পুরো পৃথিবী থেকেই সেখানে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতো। গ্রীক ও আরবীয় পন্ডিতরাই এ অনুবাদের কাজ শুরু করেন। অনুবাদ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভাবুন, ধরুন এই মুহুর্তে করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কার করার পদ্ধতি অন্য কোন ভাষায় লিখা আছে কিন্তু কেউ তা পড়তে পারছে না বা বুঝতে পারছেনা তার নিজের ভাষায়। বলা হয়া থাকে ইবনে সিনার সকল বই যদি অনুবাদ বা তার সব সাংকেতিক চিহৃ যদি বোঝা যেতো চিকিৎসা বিজ্ঞান আরো এগিয়ে থাকতো। গত পর্বে একটা ভুল করেছিলাম, বিশ্বের প্রথম মানমন্দিরে নামটা। দামেস্কে প্রথম মান মন্দির কাসিউন পর্বতের ‘’আল আল মুমতাহান। মূলত বাইতুল হিকমাহ থেকে তৈরীর উদ্যোগ নেয়াতে নামটা বাইতুল হিকমা বলে ফেলেছিলাম।

৩- ডেসিমেল সিস্টেম/ হিন্দু-এ্যারাবীক নিউমেরিক সিস্টেম।

ধরুন আমরা সকলে দৈনন্দিন জিবনে যে হিসাব নিকাশ করি, বা যে কোন কিছুতে পরিমাপ সহ সব কিছুতে কি ব্যবহার করি। হ্যা উত্তর হবে সংখ্যা পদ্ধতি, 1,2,3 এটাও এমন একটা আবিস্কার আজকের দুনিয়ার জন্য যা জিবনকে অনেক অনেক সহজ করে দিয়েছে। এটার মূলত আদি স্থান প্রাচীন ভারত, এই ডেসিমেল সিস্টেমে মূলত বাইতুল হিকমা থেকেই পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। কারন তখন আরবরা ধর্ম প্রচার ও ব্যবসায়ীক কাজে ভারতে গমন করতেন এবং তাদের এই পদ্ধতিটা ভালো লাগে, এবং তারাই ফিরে এসে এটার গানিতীক পদ্ধতি ও বিশ্বব্যাপি ব্যবহার শুরু হয়। “0” শুণ্য বা জিরো বা হলো সংখ্যা পদ্ধতিতে বিপ্লবী পরিবর্তন এনে দেওয়া উদ্ভাবন, মূলত প্রথমে জিরোর কোন ব্যবহার ছিলোনা। কিন্তু আল খাজওয়ামীর অবদান আছে, এবং শূন্যর আবিস্কার হয় প্রাচীন মিশরে। কিন্তু তারা এই শূন্যের ব্যবহার করতো নাহ। এবং তারা শূণ্যকে বামে বসাতো। কিন্তু শূণ্যের সফল ব্যবহার শুরু করে ভারতীয় গনীতবিদেরা। শূণ্যের মান যে ইনফিনিটি তাই তার পরেই মূলত বোঝা যায়। এবং শূণ্য ব্যবহার করেও যোগ বিয়োগ তারা সফল ভাবে করেন। আরবীয়রা শূন্য আবিস্কার করলেও এর ব্যবহার উদ্ভাবন করেন ভারতীয় গনীতবীদরা। আরবরা শূণ্যকে বলতো “নফর” যার অর্থ সুন্দর। পরে ইটালিয়ানরা এর অনুবাদ করে ইটালিয়ান ভাষায় তা থেকেই মূলত এর নাম দেয় হয় জিরো।
ভারতীয়দের ও আরবদের যৌথ অবদান থাকায় একে বলা হয়, হিন্দু-এ্যারাবিক নিউমেরিক সিস্টেম।

একটা জিনিস ভেবে খারাপ লাগছে যে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়, মিডিয়াতে আইজ্যাক নিউটন, আইনস্টাইন দের নাম খুব গর্বের সাথে নেওয়া ও স্বরন করা হলেও, নেয়া হয়না আল হাইয়ান, আল হাজেন দের নাম নেয়া হয়না। অথচ আল হাজেনের একটি বই থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিউটন, আইনস্টাইনরাও গবেষনা করেছে, এবং তারাও তাকে সম্মান করতো… আর আমরা!!!

আর আল হাজেন আর একটি বিজ্ঞানের জনক, এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিক্সের জনকও তিনি…
সে কথা থাকবে আগামী পর্বে…..

ইনশাআল্লাহ চলবে…..
#HomeQuarantine

What do you think?

Written by Cyber Prince

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

মুসলিমদের স্বর্নযুগ পর্ব-৩

অতীত আর বর্তমানের সময় ফোকড়