ভুত যখন ভূতুড়ে – লজিক মস্তিস্কের বাহিরে পর্ব – ১

0

আজকে আবারো চলে এলাম বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া রহস্যময় ঘটনা নিয়ে।
আমি জানি আজকের পোষ্ট টি পড়ার পর আমাকে পাগল ছাড়া আর কিছুই বলবেন না কারন আজকের ঘটনা কোন লজিক দিয়েই হয়তো মিলানো সম্ভব নয়।
তারপর ও যদি পড়েন আমাকে কিন্তু গালাগালি করতে পারবেন না বরং পোষ্ট টিকে লজিক দিয়ে ভেংগে দিতে হবে কারন ২০০৭ কিংবা ২০০৮ থেকেই এই প্রশ্নের উত্তর খুজে খুজে ক্লান্ত হয়ে গেছি আমি এবং অনেকেই।
না আমি আজ গল্প বলবোনা যা বলবো আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া একটি রহস্য জনক  সত্য তুলে ধরবো।
আমি এখানে কারো নাম লুকাচ্ছিনা বরং আসল নাম ব্যবহার করছি চলুন পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক আমার পরিবারের সাথে আমি সহ আমরা চার ভাই তখন আব্বাজান বেচে ছিলেন আম্মাজান আল্লাহর রহমতে এখনো বেচে আছে।
আমাদের একটা বোনের কমতি ছিল সে সময়টাতে।
তাই আম্মাজান আব্বাজানকে পরামর্শ দিল একটা মেয়েকে Adopt নেওয়ার কিন্তু চাইলেই কি সব সম্ভব হয় তাই আমাদের বোনের আশা টা অসম্পূর্ণ রয়ে গেল।
কিন্তু একদিন এক লোকের মারফতে একটি বোন এনে দিলেন যার নাম হলো নাছরীন।
নাছরীন বরিশালের মেয়ে,  তার বাবা জীবিকা নির্বাহের খোজে এসেছে ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার এরিয়াতে কাজের খোজে।
নাছরিন রা ভাই বোন বেশি থাকায় তাদের চলতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাই নাছরিন এর বাবা কাজের মেয়ে হিসাবে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়।
তবে আম্মাজান তো খুশীতে পাগল কিসের কাজের মেয়ে এটাতো আমার মেয়ে বলে বসলেন।
পড়াশুনার পাশাপাশি আম্মাজানকে কাজে সাহায্য করতো। যাক আমরা একটা বোন পেয়ে গেলাম।
এভাবেই কেটে যাচ্ছে সময় একদিন আচ্ছা একদিন নয় বরং এভাবেই বলি রোজার মাসে একদিন নাছরিন কেমন জানি অদ্ভুত আচরন আরম্ভ করে সময়টা সন্ধ্যার পর হবে।
বাসায় তখন আম্মাজান আমি ছোট ভাইরা আর ফুফু এবং তার ছেলে রাহিম ফুফাতো ভাই।
নাছরিন এর অদ্ভুত আচরন বলতে চিল্লাচিল্লি ভারী গলায় সাথে মাথা দুলানো এবং ঘরে বসে ভয়ংকর অট্টহাসী।
এটা দেখে ফুফু গেলেন এগিয়ে নাছরিনের কাছে এবং বসলো নাছরিনের খাটে তার সাথে।
ফুফু আমার একপিছ নাছরিনের পাশে বসেই ঝাড়া শুরু এই ঝাড়া সেই ঝাড়া নয় এটাকে থ্রেড বলা যায় বাদ দেই সেই কথা।
এর মাঝে রাহিম এসে হাজির বলে নেওয়া ভালো হবে যে রাহিম মাদ্রাসার ছাত্র তাই উনি যাইয়া নাছরিন আপাকে সুরা পড়ে শুনাচ্ছেন আর এই দেখে নাছরিন আপা রেগে মেগে লাল দিলো এক লাথি রাহিম কে।
বলা বাহুল্য যে রাহিম ৪-৬ হাত দূরে গিয়ে পড়লো।
নাছরিন তখন 4 কি 5 এ পড়ে আর রাহিম ওর বড় তাই এই ব্যাপারটা দেখে ঘাবড়ে গেলো সবাই।
ফুফুকে এক ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো সাথে নাছরিন নিজেও লাগালো ভোদৌড় ফ্লাটের বাহিরে।
এর মাঝে আম্মাজান নাছরিন কে ধরতে পিছু নিলো।
দৌড়ে পারবে না বুঝে ডাক দিলো পিছন থেকে এই নাছরিন বলে।
এবার থামলো নাছরিন কড়া চাহনী আম্মাজানের দিকে তবে কে শুনে কার কথা নিজের মেয়ে মনে করে লাগিয়ে দিলো বাম হাতে সজোরে এক চড়।

আর নাছরিন বেহুঁশ। যাই হোক কেটে গেলো সেইদিন।
কিন্তু পাগল যেন লাগাম ছাড়া হয়ে গেছে যা কোনদিন করে নি তাই করা আরম্ভ করলো নাছরিন যেমন ফুলগাছ,  শাক – সবজি ইত্যাদি যত গাছ ছিলো অধিকাংশ ঊঠিয়ে ফেললো শুধু বটগাছে যেতে না দেওয়ায়। 

আরো করলো ভাংচুর খারাপ ব্যবহার সবার সাথে উল্টাপাল্টা চালচলন আর ভংগী তো রয়েছেই।
সব কিছুর একটা সীমা থাকে তাই আব্বাজানকে জানানো হলো উনি হুজুর ডাকলেন।
আসলো কারী সাহেব হুজুর দেখলে পর্যবেক্ষন করে নাসরীন কে তারপর বলে বসলেন এতো আছড়া করেছে কিছুতে।
আব্বাজান বললেন সেজন্যই তো আপনাকে এখানে আনা হয়েছে কি করতে হবে করুন।
হুজুর কিছু সুরা পড়ে পানি ছিটালেন তারপর নাছরিন কে প্রশ্ন করতেই ভারী গলায় হুজুর কে সতর্ক করলো নাছরিন যা ভালো হচ্ছেনা বলেই চেচিয়ে উঠলো।
কিন্তু কে শুনে কার কথা হুজুর নাছরিন এর কনিষ্ঠ আংগুল এর নখের নিচে সুতা দিয়ে পেচাতে থাকলেন আর সুরা পাঠ করে যাচ্ছিলেন আর নাছরিন ভয়ংকর বুনো ডাক ছেড়ে নিজেকে ছাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছিল তখন।
আমরা যারা ফ্যামিলি মেম্বার ছিলাম তারা সবাই যেন ভুতের মুভি দেখছি বাস্তবে কিন্তু কি আর করা দর্শক হয়েই দেখে গেলাম।
হুজুর নাছরিন কে জিজ্ঞাসা করলো কে তুই? কোথায় তুই থাকোস ?  কেন এসেছ এখানে আরো কতকিছু।
নাছরিনের উত্তর হুবহু তুলে ধরছি বটগাছে তার বাসা ময়লা তার পছন্দ আর নাছরিন কে ভালো লেগেছে ভর দূপুড়ে একা চুল খোলা অবস্থায় গাছের নিচে দিয়ে যাওয়ার সময় তাই তার ইচ্ছা নাছরিন কে তার সাথে নিয়ে যাবে এবং ময়লা আবর্জনা খাওয়ানো শিখাবে।
এটা শুনিয়া আমি হাসিতে হাসিতে বেহুশ যা দেখিয়া ফুফাতো ভাই আমার মুখ চেপে ধরলো।
ময়লা মানে বুঝেছেন কি থাক না বুঝাই ভালো নয়তো খেতে বসলে আর ভক্তি হবে না খেতে।
অন্যদিকে হুজুর চেচাচ্ছে চলে যা বলে আর নাছরিন চেচাচ্ছে যাবোনা বলে। অবশেষে হুজুর বললো নাছরিন কে ছেড়ে দে বিনিময়ে তোকে মিস্টি খাওয়াবো।
না ভুত মশাইয়ের মিষ্টিতে চলবেনা তার অন্যকিছুই চাই। তিনি একটি পশু চাইলো তবে হুজুর প্রতিশ্রুতি দিলো মুরগী দেওয়ার। তবে আমার মনে হয় কি জানেন ভুতটা একটা গরু বা ছাগল চাইতো কিন্তু হুজুর মুরগি শান্তনা পুরস্কার হিসাবে নির্বাচন করে দিলো।
যাই হোক বোকা ভুতে মেনে নিলো এবং চলে যাওয়ার সময় প্রমান দিতে আমাদের একটি গাছের মোটা এবং লম্বা একটি ডাল ভেংগে ফেললো।
হুজুর চলে গেল পাওনা নিয়ে সবাই তো খুশী যে যার মতো খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমাতে গেলো।
আমি মাঝ রাতে টয়লেট এ যাওয়ার জন্য ঊঠলাম এবং অতিরিক্ত পানির পিপাসা অনুভব করলাম।
তাই লাইট জালিয়ে জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢালছিলাম কিন্তু পানি আর খাওয়া হলোনা নাছরিন আমার দিকে চেয়ে ভয়ংকর ভাবে হাসতে থাকলো….
প্রথম পর্ব এখানেই শেষ করছি আগামী পর্বে থাকবে “নাছরিন যখন নাগীন”
মোট ১০ টি পর্ব হতে পারে তাই একসাথে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভালো লাগলে জানাবেন আজকের মত বিদায় দেখা হবে অন্য কোন দিন নতুন কিছু নিয়ে।
সৌজন্যেঃ  Cyber Prince

Choose your Reaction!
Leave a Comment

Your email address will not be published.